ঢাকা ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়াকে টাইফয়েডমুক্ত করতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবেঃ সেনিটারি ইন্সপেক্টর শের আলী

রায়হান সিকদারঃ

টাইফয়েড টিকা শিশুদের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং পরীক্ষিত। আমরা চাই সবাই এগিয়ে এসে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করুক, যাতে করে লোহাগাড়াকে টাইফয়েডমুক্ত করা যায়। এজন্য,আরও বেশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে মন্তব্য করেছেন লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সেনিটারি ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শের আলী।

২১ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার কলাউজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কলাউজান সুখছড়ী গৌরসুন্দর উচ্চ বিদ্যাপীঠ, কলাউজান শাহ মজিদিয়া ইসলামিক স্বতন্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, খালাদাদ খান দাখিল মাদ্রাসা ও আল হেরা আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কে টাইফয়েড টিকা ক্যাম্পেইন-২৫ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সভায় এসব কথা তুলে ধরেন তিনি।

সেনিটারি ইন্সপেক্টর শের আলী বলেন, আমাদের সবার টাইফয়েড হয়েছে,চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হয়েছে। এক একটা জোন এলাকায় এক একটা রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। টাইফয়েড একটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমন রোগ। জ্বর হলে প্রাথমিক ভাবে টাইফয়েড মনে হয়। টাইফয়েড হলে এন্টিবায়েটিক ঔষধ সেবন করি। সে ঔষধ সেবন করতে গিয়ে যথাযথ নিয়ম মানিনা। রোগ হলে পল্লী চিকিৎসক এন্টিবায়েক দিলে সেটি সেবন করা নিরাপদ নয়, একজন রেজিষ্ট্রার্ড ডাক্তার ছাড়া এ ড্রোজ দেওয়া যায়না। বর্তমানে টাইফয়েড রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে ফ্রি ক্যাম্পেইন চলছে। বিনামূল্যে আপনার ছেলে মেয়েদেরকে এ টিকা দিতে পারবেন।

শের আলী আরও বলেন, ১২ অক্টোবর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টারে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের নির্ধারিত পয়েন্টে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। এজন্য শিশুর ১৭-সংখ্যার ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টারে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের নির্ধারিত পয়েন্টে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। এজন্য শিশুর ১৭-সংখ্যার ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। টাইফয়েড একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা দূষিত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্ষতি করতে পারে। শিশুদের সুরক্ষায় সরকার বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত এই টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। সরকারের এই ক্যাম্পেইন শুধু শিশুদের জীবন রক্ষা নয়, দীর্ঘমেয়াদে টাইফয়েডজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।সবাইকে এই টিকার আওতায় আসতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

এসময় অত্র এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থা সহকারি রিমি দাশ পিকন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯ মাস বয়স থেকে ১৫ বছর বয়স (বা নবম শ্রেণি পর্যন্ত) সব শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে। মোট ১,১৫,৩৩৬ জন শিশু টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) পাবে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

লোহাগাড়াকে টাইফয়েডমুক্ত করতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবেঃ সেনিটারি ইন্সপেক্টর শের আলী

প্রকাশিত: ০৭:৪৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রায়হান সিকদারঃ

টাইফয়েড টিকা শিশুদের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং পরীক্ষিত। আমরা চাই সবাই এগিয়ে এসে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করুক, যাতে করে লোহাগাড়াকে টাইফয়েডমুক্ত করা যায়। এজন্য,আরও বেশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে মন্তব্য করেছেন লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সেনিটারি ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শের আলী।

২১ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার কলাউজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কলাউজান সুখছড়ী গৌরসুন্দর উচ্চ বিদ্যাপীঠ, কলাউজান শাহ মজিদিয়া ইসলামিক স্বতন্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, খালাদাদ খান দাখিল মাদ্রাসা ও আল হেরা আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কে টাইফয়েড টিকা ক্যাম্পেইন-২৫ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সভায় এসব কথা তুলে ধরেন তিনি।

সেনিটারি ইন্সপেক্টর শের আলী বলেন, আমাদের সবার টাইফয়েড হয়েছে,চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হয়েছে। এক একটা জোন এলাকায় এক একটা রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। টাইফয়েড একটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমন রোগ। জ্বর হলে প্রাথমিক ভাবে টাইফয়েড মনে হয়। টাইফয়েড হলে এন্টিবায়েটিক ঔষধ সেবন করি। সে ঔষধ সেবন করতে গিয়ে যথাযথ নিয়ম মানিনা। রোগ হলে পল্লী চিকিৎসক এন্টিবায়েক দিলে সেটি সেবন করা নিরাপদ নয়, একজন রেজিষ্ট্রার্ড ডাক্তার ছাড়া এ ড্রোজ দেওয়া যায়না। বর্তমানে টাইফয়েড রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে ফ্রি ক্যাম্পেইন চলছে। বিনামূল্যে আপনার ছেলে মেয়েদেরকে এ টিকা দিতে পারবেন।

শের আলী আরও বলেন, ১২ অক্টোবর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টারে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের নির্ধারিত পয়েন্টে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। এজন্য শিশুর ১৭-সংখ্যার ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টারে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের নির্ধারিত পয়েন্টে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। এজন্য শিশুর ১৭-সংখ্যার ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। টাইফয়েড একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা দূষিত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্ষতি করতে পারে। শিশুদের সুরক্ষায় সরকার বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত এই টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। সরকারের এই ক্যাম্পেইন শুধু শিশুদের জীবন রক্ষা নয়, দীর্ঘমেয়াদে টাইফয়েডজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।সবাইকে এই টিকার আওতায় আসতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

এসময় অত্র এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থা সহকারি রিমি দাশ পিকন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯ মাস বয়স থেকে ১৫ বছর বয়স (বা নবম শ্রেণি পর্যন্ত) সব শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে। মোট ১,১৫,৩৩৬ জন শিশু টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) পাবে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে।