
রায়হান সিকদার,লোহাগাড়া প্রতিনিধিঃ
মোহাম্মদ রবিউল হাসান।উপজেলার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্টান বড়হাতিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেনী বিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা করেন।স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবেও বেশ পরিচিত।সে পিএসসি পরীক্ষায় ও জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছেন।
তার স্বপ্ন সে জীবনে অনেক বড় মানুষ হতে চাই। সে একজন আদর্শবান মানুষ হিসেবে নিজেকে অধিষ্টিত করতে চাই। তার আছে অনেক স্বপ্ন আদৌ তার স্বপ্ন পূরণ হবে কি? শিক্ষার্থী রবিউল হাসানের বাড়ী বড়হাতিয়া কুমিরাঘোনা সিকদার পাড়ায়।
তার বাবা ছিদ্দিকুর রহমান। পেশায় চায়ের দোকানদার।যে বাড়ীতে তার স্ত্রী ও ২ছেলেকে বসবাস করে, সে কুঁড়েঘরের অর্ধেক অংশে চা বিক্রী করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন অতি কষ্টে। চা বিক্রি করে যা পায় তা দিয়ে সংসার করে। তবে ২ছেলের পড়ালেখার দায়িত্ব পালনে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়।তার কোন জমি জমা ভিটে বাড়ী নেই। বাড়ী চায়ের দোকানের পিছনে ছোট্ট কক্ষে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দিনাতিপাত করছেন।ছেলে রবিউল হাসান একদিন মানুষের মত মানুষ হয়ে সমাজে তার মুখ উজ্বল করবে এমনটাই প্রত্যাশা তার বাবা ছিদ্দিকুর রহমানের। বিগত কিছুদিন পুর্বে ১০ম শ্রেনীতে ক্লাস নিতে যান লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
সেখানে রবিউলের সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওসি`র সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন।বললেন তার পরিবারের দারিদ্রতার কথা। পরবর্তীতে থানায় দেখা করতে বললেন। গতকাল সকালে শিক্ষার্থী রবিউল হাসান তার বাবাকে নিয়ে ওসির সাথে দেখা করতে আসেন।
শিক্ষার্থীর পরিবার সম্পর্কে এবং লেখাপড়ার বিষয় তিনি খোঁজ খবর নেন। ছেলেটির পড়ালেখার আগ্রহ,বিভিন্ন শ্রেনীতে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হওয়ায় ওসি সাইফুল খুশী হন।
পুলিশ জনগণের বন্ধু, জনগণের সেবক।
বাংলাদেশ পুলিশ দেশের আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে যেমন অবদান রেখে যাচ্ছেন ঠিক তেমনি জনগণের কল্যাণেও কাজ করে যাচ্ছেন।
তেমনই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থী রবিউল হাসানের পড়ালেখার দায়িত্ব নেন। সাথে সাথে তার পড়ালেখা খরচের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। তিনি আগামী এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া পর্যন্ত তার পড়ালেখা খরচ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও প্রদান করেন ছেলেটির অভিভাবকের কাছে।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আসলে দেখেন সাংবাদিক ভাই, এগুলোতে আমি অনেক আনন্দ খুঁজে পায়। কারণ এলাকার অনেক হত দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা আর্থিক অচ্ছলতার কারণে ঝরে পড়ে যায়। শিক্ষার্থী রবিউল হাসানের অনেক মেধা ও মননশীলতা কাজে লাগাতে পারলেই সে জীবনে অনেক বড় হবে।রবিউলের এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত পড়ালেখার খরচ বহন করবেন বলেও তিনি জানান।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 

























