ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মুখোমুখি তেহরান–ওয়াশিংটন:

রণতরীর পাশে ইরানের সামরিক মহড়া, বাড়ছে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালী ঘিরে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে তার কাছাকাছি এলাকায় তাজা গুলির মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে টানা দুই দিন এই সামরিক মহড়া চলবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মহড়ার স্থান এমন এলাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-সহ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সামরিক মহড়া নয়—বরং সরাসরি শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা তেহরানের।

সেন্টকমের কড়া বার্তা

ইরানের ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক বিবৃতিতে তারা জানায়,
ইরান যদি ঝুঁকিপূর্ণ বা উসকানিমূলক কোনো পদক্ষেপ নেয়, যুক্তরাষ্ট্র তা সহ্য করবে না।
মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী “ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড” বলতে বোঝানো হয়েছে—
যুদ্ধজাহাজের খুব কাছ দিয়ে যুদ্ধবিমান বা ড্রোন উড়ানো
নৌবাহিনীর স্পিডবোট নিয়ে বিপজ্জনকভাবে এগিয়ে আসা
মহড়ার আড়ালে আগ্রাসী কৌশল প্রয়োগ
ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন কিছু ঘটলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে।

উত্তেজনার পেছনের প্রেক্ষাপট

গত এক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
ইরানের অভিযোগ, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।

কূটনৈতিক চাপ বনাম সামরিক হুঁশিয়ারি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত নতুন চুক্তিতে না এলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
জবাবে তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর। ইরান জানিয়েছে—
তাদের ওপর “ছোট বা বড় যেকোনো হামলার” কঠোর ও তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন,
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনায় যাবে না তেহরান।

কেন হরমুজ এত গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক বাজার, জ্বালানি সরবরাহ ও ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব নয়—বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও এক বড় সতর্ক সংকেত।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

মুখোমুখি তেহরান–ওয়াশিংটন:

রণতরীর পাশে ইরানের সামরিক মহড়া, বাড়ছে উত্তেজনা

প্রকাশিত: ০১:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালী ঘিরে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে তার কাছাকাছি এলাকায় তাজা গুলির মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে টানা দুই দিন এই সামরিক মহড়া চলবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মহড়ার স্থান এমন এলাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-সহ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সামরিক মহড়া নয়—বরং সরাসরি শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা তেহরানের।

সেন্টকমের কড়া বার্তা

ইরানের ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক বিবৃতিতে তারা জানায়,
ইরান যদি ঝুঁকিপূর্ণ বা উসকানিমূলক কোনো পদক্ষেপ নেয়, যুক্তরাষ্ট্র তা সহ্য করবে না।
মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী “ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড” বলতে বোঝানো হয়েছে—
যুদ্ধজাহাজের খুব কাছ দিয়ে যুদ্ধবিমান বা ড্রোন উড়ানো
নৌবাহিনীর স্পিডবোট নিয়ে বিপজ্জনকভাবে এগিয়ে আসা
মহড়ার আড়ালে আগ্রাসী কৌশল প্রয়োগ
ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন কিছু ঘটলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে।

উত্তেজনার পেছনের প্রেক্ষাপট

গত এক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
ইরানের অভিযোগ, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।

কূটনৈতিক চাপ বনাম সামরিক হুঁশিয়ারি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত নতুন চুক্তিতে না এলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
জবাবে তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর। ইরান জানিয়েছে—
তাদের ওপর “ছোট বা বড় যেকোনো হামলার” কঠোর ও তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন,
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনায় যাবে না তেহরান।

কেন হরমুজ এত গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক বাজার, জ্বালানি সরবরাহ ও ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব নয়—বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও এক বড় সতর্ক সংকেত।