
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে আওয়ামীলীগের সমর্থন প্রাপ্ত সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টুর দলীয় সমর্থন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আজ দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করেন চকবাজার থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চকবাজার থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমেদ চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে এম রেজাউল করিম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছে। দলের দুর্দিনের একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারী কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়ে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। অতীতে উন্মুক্ত থাকলেও এবার দলীয় ভাবে কাউন্সিলর প্রার্থী নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে দলের জন্য ত্যাগী পরীক্ষিত ও তৃণমূল থেকে উঠে আসা প্রার্থীদের মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, চকবাজার ১৬নং ওয়ার্ডে অরাজনৈতিক ব্যক্তি সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টুকে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় সমর্থন দেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিব্রতবোধ করছে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রকাশিত তালিকার মাধ্যমে জানতে পারি, তিনি সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু নিজেকে চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা উল্লেখ করে মনোনয়ন চেয়েছেন আওয়ামী লীগ থেকে। অথচ এযাবৎকালে চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের কোন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়নি। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কখনো জড়িত ছিলেন না। এমনকি দলের সাধারণ সদস্যও ছিলেন না কখনো।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের পর কাউন্সিলর হিসেবে ৭৭ সালে আত্মপ্রকাশ ঘটে এই প্রার্থীর। তিনি এতটা কৌশলী, কখনো রাজনীতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত করেননি। যখন যার ক্ষমতা ছিল, সেই দলের সাথে সখ্যতা রেখে চলেছেন। যেন ক্ষমতার পালাবদলে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারেন। আজ তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে দলীয় সমর্থন আদায় করেছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। যে ব্যক্তি কখনো জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করেনি, তাকে প্রার্থী হিসেবে দলীয় সমর্থন দেওয়া দুর্দিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ সৃষ্টি করেছে।
লক্ষ্য করবেন, ১৯৮১ সালের পর দীর্ঘ ত্রিশ বছরের অধিক সময় ধরে চকবাজার এলাকাটি জামায়াত শিবির নিয়ন্ত্রিত ছিল। এখান থেকেই সারাদেশে শিবির পরিচালিত হত। এই এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করাটা ছিল খুবই কঠিন। সক্রিয় ভাবে যারা রাজনীতি করেছেন, মামলা-হামলা হত্যার শিকার হয়েছেন অনেকে। জামায়াত শিবির অধিপত্য বিস্তার করা দীর্ঘ ত্রিশ বছরের মধ্যে সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু কাউন্সিলর হিসেবে কিভাবে বহাল তবিয়তে ছিলেন? কখনো নির্যাতন, হামলা মামলার শিকার হয়েছেন এমন একটি নজির নেই।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রতিবাদ তো দূরের কথা, উল্টো মেজর জিয়াউর রহমানের আশীর্বাদপুষ্ট হন তিনি। যা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজ মুখেই বলেছেন। সেই ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রচারিত হয়েছে। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, একদিন এক মুহুর্তের জন্যও তিনি রাজপথে ছিলেন নজির নেই। একজন অরাজনৈতিক সুবিধাভোগী ব্যক্তি, আজ আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে চেয়ারে অধিষ্ঠ থাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
অথচ, এ ওয়ার্ড থেকে দলের দুর্দিনের নির্যাতিত অনেক নেতাকর্মী কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। স্বজন হারানো, রক্ত জরানো, কারানির্যাতিতরা উপেক্ষিত হয়েছে। তাই আজ চকবাজার ওয়ার্ডের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের হয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে চকবাজার ১৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টুকে দেওয়া দলীয় সমর্থন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। সেই সাথে একজন পরীক্ষিত দুর্দিনের কর্মীকে মূল্যায়নের অনুরোধ জানান নেতৃবৃন্দ।
উপস্থিত ছিলেন চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক খালেক চৌধুরী, চকবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল হক রমজু, চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সদস্য এডভোকেট মো: শাহেদুল আজম শাকিল, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোস্তাক আহমদ টিটু, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য দেলোয়ার হোসেন ফরহাদ, চকবাজার ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা কায়সার আহমেদ, যুবলীগ নেতা এস.এম হিরু, এস.এম সালাউদ্দিন, ওয়ার্ড ছাত্রলীগের মুজিবুর রহমান রাসেল প্রমুখ।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 




















