
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ক্রমাবনত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একযোগে চারটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী তৎপরতা, অস্ত্রবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দমনে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এর আগে উপজেলায় মাত্র একটি সেনা ক্যাম্প কার্যক্রম পরিচালনা করছিল, যা একটি সরকারি কলেজকেন্দ্রিক ছিল। সর্বশেষ নতুন করে বাজালিয়া অলি আহমদ ডিগ্রি কলেজ, চরতীর আদর্শ ডিগ্রি কলেজ এবং মৌলভীর দোকান এলাকার জাফর আহমেদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজে আরও তিনটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। ফলে সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এখন সরাসরি সেনাবাহিনীর নিবিড় নজরদারির আওতায় এসেছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মাদক কারবারি, চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্র, অস্ত্রধারী অপরাধী ও কিশোর গ্যাংয়ের কারণে জনজীবনে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবক ও ব্যবসায়ীরা চরম উদ্বেগে ছিলেন। সেনাবাহিনীর সরাসরি উপস্থিতিতে সেই আতঙ্ক অনেকটাই কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপনের ফলে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রয়োজনীয় অভিযান আরও জোরদার হবে। এতে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে যাবে—সাতকানিয়ায় আর কোনো অপরাধের ঠাঁই নেই।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এস এম সাকিবুজ্জামান পারভেজ জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ম ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুন্নবী পিএসসির নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল খাগরিয়া, কালিয়াইশ, চরতি ও কেওচিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করেছে। এসব সভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগণের জানমাল রক্ষায় বদ্ধপরিকর। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “সাতকানিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সেনা ক্যাম্প স্থাপনের ফলে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিবিড় নজরদারি সম্ভব হবে। প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে অপরাধ দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। তাই যেকোনো অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সেনা ক্যাম্প স্থাপনের খবরে সাতকানিয়ার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেনাবাহিনীর দৃঢ় অবস্থান ও নিয়মিত তৎপরতার মাধ্যমে খুব শিগগিরই সাতকানিয়া মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ উপজেলায় পরিণত হবে।
মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 



















