ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মজলুমদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই জুলুমের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব

 

রায়হান সিকদারঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর সীমাহীন জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে আমাদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে, অসংখ্য নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছে। এই অন্যায়-অবিচারের জবাব দিতে হলে আসন্ন নির্বাচনে সারাদেশে দশ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার দুপুরে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত “মজলুমদের মিলনমেলা” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মাওলানা শামসুল ইসলাম আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত দেড় দশকে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করেছে। মিথ্যা মামলা, গণগ্রেফতার, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ভয় ও আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি চাই না, আমরা চাই ন্যায়বিচার ও ইনসাফ। তবে সেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো জনগণের রায়ের মাধ্যমে জালিম শাসনের অবসান ঘটানো।”

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের দশ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে ছিল। দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের মাধ্যমে আজ দেশ একটি পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, “জুলুমমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে আগামী নির্বাচন হবে নির্ণায়ক। এই নির্বাচনে দশ দলীয় জোটের বিজয় মানেই ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত পরাজয়।”
এরপর বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে ইসলামী আন্দোলনের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তিনি বলেন, “শুধু নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, রাতের আঁধারে গ্রেফতার ও বিরোধী কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেশকে একটি ভয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।”
অধ্যাপক জাফর সাদেক আরও বলেন, এই জুলুমের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দশ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ের মাধ্যমেই এই নির্যাতনের রাজনীতির স্থায়ী অবসান ঘটানো সম্ভব।
এরপর বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ আজ সত্য উপলব্ধি করেছে। জুলুমের শাসন আর চলতে পারে না।”
এডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচন হবে জুলুম ও ইনসাফের মধ্যে চূড়ান্ত লড়াই। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে দশ দলীয় জোটের পক্ষে গণসংযোগ জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আফসার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফিক আহমদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মাওলানা নুর হোসাইন, লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী এবং আমিরাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মোহাম্মদ হাসান।
বক্তারা বলেন, মজলুমদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই জুলুমের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

মজলুমদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই জুলুমের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব

প্রকাশিত: ০৫:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

 

রায়হান সিকদারঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর সীমাহীন জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে আমাদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে, অসংখ্য নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছে। এই অন্যায়-অবিচারের জবাব দিতে হলে আসন্ন নির্বাচনে সারাদেশে দশ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার দুপুরে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত “মজলুমদের মিলনমেলা” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মাওলানা শামসুল ইসলাম আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত দেড় দশকে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করেছে। মিথ্যা মামলা, গণগ্রেফতার, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ভয় ও আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি চাই না, আমরা চাই ন্যায়বিচার ও ইনসাফ। তবে সেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো জনগণের রায়ের মাধ্যমে জালিম শাসনের অবসান ঘটানো।”

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের দশ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে ছিল। দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের মাধ্যমে আজ দেশ একটি পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, “জুলুমমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে আগামী নির্বাচন হবে নির্ণায়ক। এই নির্বাচনে দশ দলীয় জোটের বিজয় মানেই ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত পরাজয়।”
এরপর বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে ইসলামী আন্দোলনের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তিনি বলেন, “শুধু নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, রাতের আঁধারে গ্রেফতার ও বিরোধী কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেশকে একটি ভয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।”
অধ্যাপক জাফর সাদেক আরও বলেন, এই জুলুমের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দশ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ের মাধ্যমেই এই নির্যাতনের রাজনীতির স্থায়ী অবসান ঘটানো সম্ভব।
এরপর বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ আজ সত্য উপলব্ধি করেছে। জুলুমের শাসন আর চলতে পারে না।”
এডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচন হবে জুলুম ও ইনসাফের মধ্যে চূড়ান্ত লড়াই। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে দশ দলীয় জোটের পক্ষে গণসংযোগ জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আফসার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফিক আহমদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মাওলানা নুর হোসাইন, লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী এবং আমিরাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মোহাম্মদ হাসান।
বক্তারা বলেন, মজলুমদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই জুলুমের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।