ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক

শহীদুল ইসলাম বাবর,দেশবাংলা.নেট

দেশে এখন বোরো চাষের মৌসুম। সাতকানিয়ায় বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। প্রতিদিন কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কৃষকরা দলে দলে বোরো আবাদে মাঠে কাজ করছেন। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন সরেজমিন পরির্দশন করে এ দৃশ্য দেখা গেছে। বোরো আবাদের পুরো কার্যক্রম মনিটরিং করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া ভাল থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো উপজেলায় বোরো রোপণের কাজ সমাপ্ত হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়নে চলতি বছর মোট ৬ হাজার ৫শ ৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৮ শত হেক্টর জমিতে বোরো রোপণ শেষ হয়েছে। প্রতিদিন এ সংখ্যা আরো বাড়ছে।
কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগেকার তুলনায় কমে আসছে বোরো চাষ। মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার কারণে ক্রমেই আবাদী জমির পরিমাণ কমছে। দলীয় পরিচয়ে নিরীহ কৃষকের জমির মাটি জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়ায় আবাদী জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে উপজেলায় খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাতকানিয়া-বাঁশখালী সড়কের ক্বাজীর মসজিদের আগে বিশাল মাঠে বেশ কয়েকজন কৃষক বোরো চারা রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অনেকটা আধুনিক পদ্ধতিতে এ চাষাবাদ কার্যক্রম দেখতে স্থানীয় লোকজনও ভীড় করছেন সেখানে।
উত্তর ঢেমশা সিকদার পাড়ার কৃষক মোহাম্মদ সোলেমান বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পাশে বিশাল নলি বিলে একসময় ব্যাপক বোরো ধানের চাষ হত। কিন্তু বেশ কয়েক বছর থেকে মাটি ব্যবসায়ীরা আবাদী জমির মাটি স্কেভেটর দিয়ে খনন করে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ায় শত শত একর জমি এখন হাওড়ে পরিণত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৫০ বছরেও আর চাষাবাদের সম্ভাবনা নেই।
এ প্রসঙ্গে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, পুরো উপজেলাতেই আবাদী জমির মাটি কেটে নিচ্ছে ইটভাটা। ফলে ক্রমেই কমে যাচ্ছে আবাদী জমির পরিমাণ। নিরীহ কৃষকের জমি জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিম ঢেমশা এলাকা থেকে এক কৃষক বোরো আবাদের জন্য জমিতে পানি দেওয়ার কারণে মাটি ব্যবসায়ীরা তাকে মারধর করেছে। আমাদের কাছে এসেছে ব্যবস্থা নিতে। এখন মারামারির বিষয় আমরা কি ব্যবস্থা নিব। এ ক্ষেত্রে সাতকানিয়ায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সকল সচেতন মানুষ এগিয়ে আসলে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। আর যদি এ অবস্থা চলতে থাকে তাহলে খুব কম সময়ের মধ্যেই সাতকানিয়ায় আবাদযোগ্য কোন জমি থাকবে না

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক

প্রকাশিত: ০৯:০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

শহীদুল ইসলাম বাবর,দেশবাংলা.নেট

দেশে এখন বোরো চাষের মৌসুম। সাতকানিয়ায় বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। প্রতিদিন কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কৃষকরা দলে দলে বোরো আবাদে মাঠে কাজ করছেন। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন সরেজমিন পরির্দশন করে এ দৃশ্য দেখা গেছে। বোরো আবাদের পুরো কার্যক্রম মনিটরিং করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া ভাল থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো উপজেলায় বোরো রোপণের কাজ সমাপ্ত হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়নে চলতি বছর মোট ৬ হাজার ৫শ ৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৮ শত হেক্টর জমিতে বোরো রোপণ শেষ হয়েছে। প্রতিদিন এ সংখ্যা আরো বাড়ছে।
কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগেকার তুলনায় কমে আসছে বোরো চাষ। মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার কারণে ক্রমেই আবাদী জমির পরিমাণ কমছে। দলীয় পরিচয়ে নিরীহ কৃষকের জমির মাটি জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়ায় আবাদী জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে উপজেলায় খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাতকানিয়া-বাঁশখালী সড়কের ক্বাজীর মসজিদের আগে বিশাল মাঠে বেশ কয়েকজন কৃষক বোরো চারা রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অনেকটা আধুনিক পদ্ধতিতে এ চাষাবাদ কার্যক্রম দেখতে স্থানীয় লোকজনও ভীড় করছেন সেখানে।
উত্তর ঢেমশা সিকদার পাড়ার কৃষক মোহাম্মদ সোলেমান বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পাশে বিশাল নলি বিলে একসময় ব্যাপক বোরো ধানের চাষ হত। কিন্তু বেশ কয়েক বছর থেকে মাটি ব্যবসায়ীরা আবাদী জমির মাটি স্কেভেটর দিয়ে খনন করে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ায় শত শত একর জমি এখন হাওড়ে পরিণত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৫০ বছরেও আর চাষাবাদের সম্ভাবনা নেই।
এ প্রসঙ্গে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, পুরো উপজেলাতেই আবাদী জমির মাটি কেটে নিচ্ছে ইটভাটা। ফলে ক্রমেই কমে যাচ্ছে আবাদী জমির পরিমাণ। নিরীহ কৃষকের জমি জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিম ঢেমশা এলাকা থেকে এক কৃষক বোরো আবাদের জন্য জমিতে পানি দেওয়ার কারণে মাটি ব্যবসায়ীরা তাকে মারধর করেছে। আমাদের কাছে এসেছে ব্যবস্থা নিতে। এখন মারামারির বিষয় আমরা কি ব্যবস্থা নিব। এ ক্ষেত্রে সাতকানিয়ায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সকল সচেতন মানুষ এগিয়ে আসলে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। আর যদি এ অবস্থা চলতে থাকে তাহলে খুব কম সময়ের মধ্যেই সাতকানিয়ায় আবাদযোগ্য কোন জমি থাকবে না