ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
লোহাগাড়ায় ডা. শফিকুর রহমান

বেকার ভাতা দিয়ে নয়, মর্যাদার কাজ দিয়ে যুবকদের গড়বো

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করে, গুলি উপেক্ষা করে জীবন ও অঙ্গহানি মেনে নিয়ে বাংলাদেশকে রাস্তায় নামিয়েছে—এই যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে, ইনশাআল্লাহ। আমরা এই যুবক-যুবতীদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করব না। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ঐতিহাসিক পদুয়া হাই স্কুল মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে এ দেশের যুবকরা একবারও বলেনি—আমাদের বেকার ভাতা চাই। তারা বলেছে—আমাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ চাই। আমি নিজে শাসক হতে চাই না; আমি দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো কাজ করতে চাই। কিন্তু এই চাওয়াকেই গোমর বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনী ও গুলি বাহিনী দিয়ে দাবিয়ে দিতে চাওয়া হয়েছিল। তবে জনগণের প্রতিরোধে সবকিছু ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, এই যুবকরা ঘুমিয়ে পড়েনি—তারা জেগে আছে। আমরা কথা দিচ্ছি, বেকার ভাতা দিয়ে নয়; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব। সেদিন তারাই বলবে—আমিই বাংলাদেশ, এটা আমার বাংলাদেশ।
জুলাই বিপ্লবের কথা স্মরণ করে আমীরে জামায়াত বলেন, যেদিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে হাত তোলা হয়েছিল, সেদিন সারাদেশে আগুন জ্বলে উঠেছিল। পরদিন সেই আগুন বিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ছয়জন জুলাই যোদ্ধা জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করেন। বিশেষ করে স্মরণ করতে হয় শহীদ আবু সাঈদকে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই মেধাবী ছাত্র বুক পেতে বলেছিল—আমার অধিকার দাও, না হলে আমাকে গুলি কর। সে বুক পেতেছিল, পিঠ দেখায়নি। বীরেরা কখনো পালায় না—বীরেরা হয় বিজয়ী হয়, না হয় শাহাদাত বরণ করে।
তিনি বলেন, আবু সাঈদরা আমাদের বলে গেছে—আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ জীবন আমরা দিয়ে গেলাম। আমাদের লাশ তোমাদের কাঁধে, আমাদের রক্ত তোমাদের হাতে। আমাদের লাশের সঙ্গে বেইমানি করো না। জাতির মুক্তির জন্য যে পথে আমরা হেঁটেছি, সেই পরিষ্কার রাজপথে হাঁটবে—রাজনীতির নোংরা গলিপথে নয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের কাছে কথা দিচ্ছি—ইনশাআল্লাহ আমরা কখনো বেইমানি করব না। প্রয়োজনে আমাদের জীবন দেব, কিন্তু জুলাই কাউকে দেব না।
তিনি এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধের রায় ঘোষণার পর সর্বপ্রথম প্রতিবাদী বিবৃতি দিয়েছিলেন কর্নেল অলি আহমদ। বিএনপিসহ যারা প্রতিবাদ করেছে, আমরা তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ।
আমীরে জামায়াত বলেন, সাড়ে ১৫ বছর আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর কিছু লোক জালিম হয়ে উঠেছে। রাস্তাঘাট, স্ট্যান্ড, শিল্পকারখানা ও ঘরে ঘরে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমরা ঘোষণা দিয়েছি—১৩ তারিখ থেকে ইনশাআল্লাহ নতুন বাংলাদেশ শুরু হবে। সেদিন থেকে চাঁদাবাজির দিন শেষ। যারা পরিশুদ্ধ হয়ে ফিরে আসবে, তাদের শিক্ষা-প্রশিক্ষণ দিয়ে মর্যাদার কাজ দেওয়া হবে। আর যারা আসবে না—তাদের বিরুদ্ধে যা করা দরকার, তাই করা হবে। আমরা লেজ ধরে নয়, কান ধরে টান দেব।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিস দক্ষিণ জেলা আমীর মাওলানা মাহবুবুর রহমান, লেবার পার্টির দক্ষিণ জেলা সভাপতি ড. মজনু মিয়া, রাঙামাটি জেলা আমীর আবদুল আলিম, বান্দরবান জেলা আমীর আবদুস সালাম, দক্ষিণ জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশন মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, দক্ষিণ জেলা শিবির সভাপতি আছিফুল্লাহ আরমান, চট্টগ্রামের শিবির নেতা আবদু রহিম, দক্ষিণ জেলা নায়েবে আমীর হেলালউদ্দীন মোহাম্মদ নোমান, বাঁশখালীর জামায়তের এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, এ্যাডভোকেট আবু নাছের, দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মাহমুদুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ জেলা সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল হোসাইন, লোহাগাড়া উপজেলা আমীর অধ্যাপক আসাদুল্লাহ, বাশঁখালী উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাইল, চন্দনাইশ আমীর মাওলানা কুতুব উদ্দিন, সাতকানিয়া সাঙ্গু থানা আমীর সিরাজুল ইসলাম, বোয়ালখালী উপজেলা আমীর খোরশেদুল আলম, সাতকানিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা কামাল উদ্দীন, এবি পার্টির মহানগর যুগ্ম সদস্যসচিব জায়েদ হাসান চৌধুরী।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

লোহাগাড়ায় ডা. শফিকুর রহমান

বেকার ভাতা দিয়ে নয়, মর্যাদার কাজ দিয়ে যুবকদের গড়বো

প্রকাশিত: ০৪:১৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করে, গুলি উপেক্ষা করে জীবন ও অঙ্গহানি মেনে নিয়ে বাংলাদেশকে রাস্তায় নামিয়েছে—এই যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে, ইনশাআল্লাহ। আমরা এই যুবক-যুবতীদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করব না। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ঐতিহাসিক পদুয়া হাই স্কুল মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে এ দেশের যুবকরা একবারও বলেনি—আমাদের বেকার ভাতা চাই। তারা বলেছে—আমাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ চাই। আমি নিজে শাসক হতে চাই না; আমি দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো কাজ করতে চাই। কিন্তু এই চাওয়াকেই গোমর বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনী ও গুলি বাহিনী দিয়ে দাবিয়ে দিতে চাওয়া হয়েছিল। তবে জনগণের প্রতিরোধে সবকিছু ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, এই যুবকরা ঘুমিয়ে পড়েনি—তারা জেগে আছে। আমরা কথা দিচ্ছি, বেকার ভাতা দিয়ে নয়; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব। সেদিন তারাই বলবে—আমিই বাংলাদেশ, এটা আমার বাংলাদেশ।
জুলাই বিপ্লবের কথা স্মরণ করে আমীরে জামায়াত বলেন, যেদিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে হাত তোলা হয়েছিল, সেদিন সারাদেশে আগুন জ্বলে উঠেছিল। পরদিন সেই আগুন বিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ছয়জন জুলাই যোদ্ধা জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করেন। বিশেষ করে স্মরণ করতে হয় শহীদ আবু সাঈদকে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই মেধাবী ছাত্র বুক পেতে বলেছিল—আমার অধিকার দাও, না হলে আমাকে গুলি কর। সে বুক পেতেছিল, পিঠ দেখায়নি। বীরেরা কখনো পালায় না—বীরেরা হয় বিজয়ী হয়, না হয় শাহাদাত বরণ করে।
তিনি বলেন, আবু সাঈদরা আমাদের বলে গেছে—আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ জীবন আমরা দিয়ে গেলাম। আমাদের লাশ তোমাদের কাঁধে, আমাদের রক্ত তোমাদের হাতে। আমাদের লাশের সঙ্গে বেইমানি করো না। জাতির মুক্তির জন্য যে পথে আমরা হেঁটেছি, সেই পরিষ্কার রাজপথে হাঁটবে—রাজনীতির নোংরা গলিপথে নয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের কাছে কথা দিচ্ছি—ইনশাআল্লাহ আমরা কখনো বেইমানি করব না। প্রয়োজনে আমাদের জীবন দেব, কিন্তু জুলাই কাউকে দেব না।
তিনি এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধের রায় ঘোষণার পর সর্বপ্রথম প্রতিবাদী বিবৃতি দিয়েছিলেন কর্নেল অলি আহমদ। বিএনপিসহ যারা প্রতিবাদ করেছে, আমরা তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ।
আমীরে জামায়াত বলেন, সাড়ে ১৫ বছর আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর কিছু লোক জালিম হয়ে উঠেছে। রাস্তাঘাট, স্ট্যান্ড, শিল্পকারখানা ও ঘরে ঘরে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমরা ঘোষণা দিয়েছি—১৩ তারিখ থেকে ইনশাআল্লাহ নতুন বাংলাদেশ শুরু হবে। সেদিন থেকে চাঁদাবাজির দিন শেষ। যারা পরিশুদ্ধ হয়ে ফিরে আসবে, তাদের শিক্ষা-প্রশিক্ষণ দিয়ে মর্যাদার কাজ দেওয়া হবে। আর যারা আসবে না—তাদের বিরুদ্ধে যা করা দরকার, তাই করা হবে। আমরা লেজ ধরে নয়, কান ধরে টান দেব।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিস দক্ষিণ জেলা আমীর মাওলানা মাহবুবুর রহমান, লেবার পার্টির দক্ষিণ জেলা সভাপতি ড. মজনু মিয়া, রাঙামাটি জেলা আমীর আবদুল আলিম, বান্দরবান জেলা আমীর আবদুস সালাম, দক্ষিণ জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশন মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, দক্ষিণ জেলা শিবির সভাপতি আছিফুল্লাহ আরমান, চট্টগ্রামের শিবির নেতা আবদু রহিম, দক্ষিণ জেলা নায়েবে আমীর হেলালউদ্দীন মোহাম্মদ নোমান, বাঁশখালীর জামায়তের এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, এ্যাডভোকেট আবু নাছের, দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মাহমুদুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ জেলা সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল হোসাইন, লোহাগাড়া উপজেলা আমীর অধ্যাপক আসাদুল্লাহ, বাশঁখালী উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাইল, চন্দনাইশ আমীর মাওলানা কুতুব উদ্দিন, সাতকানিয়া সাঙ্গু থানা আমীর সিরাজুল ইসলাম, বোয়ালখালী উপজেলা আমীর খোরশেদুল আলম, সাতকানিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা কামাল উদ্দীন, এবি পার্টির মহানগর যুগ্ম সদস্যসচিব জায়েদ হাসান চৌধুরী।