
সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং এবং তার স্ত্রী মে হ্লা প্রূ-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কক্সবাজারে আরও দুটি মামলা দায়ের করেছে।
এবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৭৪ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুই কর্মকর্তা বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলো লিপিবদ্ধ করেন কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ। তিনি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক জানায়, মামলা দুটি করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায়।
এজাহার অনুযায়ী, বীর বাহাদুর ও তার স্ত্রী মে হ্লা প্রূ-এর নামে ঘোষিত আয়ের বাইরে ১২ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া দুজনের যৌথভাবে ও আলাদাভাবে থাকা মোট ১৯টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৭৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকার বেশি লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক নারগিস সুলতানা। তার মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বীর বাহাদুরের নামে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা এবং তার ১৩টি ব্যাংক হিসাবে ৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী মে হ্লা প্রূ-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী উপসহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।
দুদক জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত আয়কর রিটার্ন, বিভিন্ন ব্যাংক রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই এসব তথ্য উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ৩ আগস্ট ঢাকায় বীর বাহাদুর ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগে আরও দুটি মামলা দায়ের করেছিল দুদক।
মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 



















