
রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়ায় এখন যেন নিস্তব্ধতা। যে বাড়িতে কয়েক দিনের মধ্যে বিয়ের আনন্দে মুখর হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধু কান্না আর আহাজারি। পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন ঘিরে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চার প্রবাসী সহোদর। কিন্তু বিয়ের বাজার করতে বের হয়ে আর ফেরা হলো না তাদের।
ওমানে একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চার ভাইয়ের মরদেহ।
নিহতরা হলেন— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ে সামনে রেখে দুই ভাইয়ের খুব শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটা ও প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে মঙ্গলবার রাতে চার ভাই একসঙ্গে ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় বের হন। পরে রাতভর তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ না হলে উদ্বেগ তৈরি হয়।
আজ বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন একটি গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব বলেন, “ওমানে থাকা একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে আমরা ঘটনাটি জানতে পারি। শুনেছি, গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ওমানে থাকা বাংলাদেশিরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বর্তমানে মরদেহগুলো রোস্তাক থানার হেফাজতে রয়েছে। পরে সেগুলো মাস্কাটে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
চার সহোদর ভাইয়ের একসঙ্গে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাঙ্গুনিয়ার লালানগর এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা বলছেন, পরিবারটির অধিকাংশ সদস্যই প্রবাসজীবনের কষ্ট সহ্য করে সংসারের হাল ধরেছিলেন। একসঙ্গে চার ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি যেন মুহূর্তেই ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এই বাড়িতে বিয়ের আনন্দ হওয়ার কথা ছিল। এখন সেখানে শুধু কান্না। এমন ঘটনা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।”
প্রবাসে জীবিকার সন্ধানে যাওয়া চার ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারকেই নয়, পুরো এলাকাকে শোকাহত করে তুলেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
