
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস বাহিনী (আইআরজিসি)। জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস নয়—এমন বার্তা দিয়ে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ‘রেডলাইন’ ঘোষণা করেছে তারা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা সেনাবাহিনীর জন্য অতিক্রম অযোগ্য সীমারেখা। জনসম্পত্তি ও কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর কোনো হামলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের বিক্ষোভরত জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শুরুতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ হলেও আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। বর্তমানে বিক্ষোভকারীরা সরাসরি ধর্মীয় শাসনের অবসান দাবি করছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই সহিংসতা উসকে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জড়িত।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সরকারপন্থীরা এ ঘটনার জন্য ‘দাঙ্গাকারীদের’ দায়ী করেছে। একই সময়ে শিরাজ, কোম ও হামেদানে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজার দৃশ্য সম্প্রচার করা হয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্টারনেট যোগাযোগ এখনো ব্যাপকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে। পশ্চিম ইরানের এক প্রত্যক্ষদর্শী ফোনে জানান, তার এলাকায় বিপ্লবী গার্ডস মোতায়েন রয়েছে এবং তারা গুলি চালাচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অর্জন রক্ষা করা রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য এবং বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অধীনস্থ নিয়মিত সেনাবাহিনীও কঠোর বার্তা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো এবং জনসম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, নির্বাসিত ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি বিক্ষোভে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, আন্দোলনের লক্ষ্য শুধু রাস্তায় নামা নয়; শহরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো দখলে রেখে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি পরিবহন, তেল, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের দেশব্যাপী ধর্মঘটের আহ্বানও জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে। তাঁর ভাষায়, “তোমরা যদি গুলি চালাও, আমরাও গুলি চালাব।”
দেশ বাংলা অনলাইন 



















