
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ার ভাটিপাড়া গ্রাম। শান্ত, নিরিবিলি গ্রামটির বাতাস আজ যেন ভারী হয়ে আছে কান্না আর শোকের আবরণে। গ্রামেরই সন্তান, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) ফিরে এসেছেন প্রিয় মাটিতে—তবে জীবিত নয়, নিথর দেহে।
শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর ভাটিপাড়ার সামাজিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে বাদ জুমা গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা, ভাইবোন, স্ত্রী ও স্বজনরা। প্রতিবেশীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে গাজীপুর নগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় ঘটে যায় সেই ভয়াবহ ঘটনা। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র হাতে এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করছিল। কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা তুহিন সাহস করে সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করতে থাকেন। কিন্তু তার এই সাহসই হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুফাঁদ। বিষয়টি বুঝতে পেরে সন্ত্রাসীরা তুহিনকে ধাওয়া করে নির্মমভাবে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পথেই ঝরে যায় এক তরুণ সাংবাদিকের জীবন।
তুহিন ছিলেন ভাটিপাড়া গ্রামের মো. হাসান জামাল ও সাবিহা খাতুন দম্পতির সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের আদরের ছোটভাইটি ছিলেন তিনি। সংসারে স্ত্রী মুক্তা আক্তার ও দুই শিশু সন্তান—তৌকির (৭) ও ফাহিম (৩)—কে রেখে চলে গেলেন তিনি।
রাতেই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সকাল থেকে মানুষ আসতে থাকে তার বাড়িতে। কেউ নীরবে চোখ মুছে, কেউ আবার স্মৃতির টুকরো জোড়া লাগানোর চেষ্টা করে। গ্রামজুড়ে শোনা যায় একটাই বাক্য—
“এত ভালো মানুষটাকে কেন কেড়ে নিলো সন্ত্রাসীরা?”
তুহিন আর ফিরবেন না। কিন্তু তার সাহসিকতার গল্প হয়তো থেকে যাবে, মনে করিয়ে দেবে—একজন সাংবাদিকের কলম আর ক্যামেরা কেবল সংবাদ নয়, কখনও কখনও জীবনকেও বাজি রাখে।
দেশ বাংলা অনলাইন 



















