ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাস চালকের আক্রোশে প্রাণ গেল যুবলীগ নেতা দিদারের


শহীদুল ইসলাম বাবর,দেশবাংলা.নেট
কেরানীহাট থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে চট্টগ্রামমূখী আধার মার দারগা এলাকার দিকে ব্যবসায়ীক কাজে মোটর সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন উত্তর সাতকানিয়া যুবলীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য দিদারুল ইসলাম (৩৫)। জনার কেওচিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সন্নিকটে পৌছলে পিছনের দিক থেকে উলকা বেগে ছুটে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাস জোরে ধাক্কা দিলে দিদার রাস্তার উপরই ছিটকে পড়ে রক্তাক্ত হয়। আর দ্রæত গতিতে আসা বাসটি একটু সামনে গিয়ে আবার পিছনে আসা শুরু করে। এতে বাসটির চাকা দিদারের শরীরের উপর দিয়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই দিদারের মৃত্যু ঘটে। তারপর দ্রæত গতিতে বাসটি ঘটনান্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় দোহাজারী সেতু এলাকা থেকে হাইওয়ে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হলেও বাসটির চালক পালিয়ে যায়। গতকাল শনিবার বিকাল তিনটার সময় এ ঘটনা ঘটে। দিদারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহকর্মীরা জড়ো হয়ে ঘটনাস্থলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এসময় তার সহকর্মীরা দিদার হত্যার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ করে। পরে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ, সাতকানিয়া থানা পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা যৌথ ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও দিদারের ব্যবসায়ীক পার্টনার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু ছালেহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দিদারের লাশ বাড়িতে নেওয়া হলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। দিদারের স্বজনরা জানান, দলের জন্য ত্যাগ থাকলেও দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন ধরনের ব্যবসা বানিজ্যে করেনি। সর্বশেষ দলীয় সিনিয়র এক নেতা ও নিকটাত্মীয়ের অর্থায়নে মাঠি কাটার ব্যবসা শুরু করেছিল। সেই ব্যবসাস্থলে যাওয়ার পথেই নির্মম মৃত্যু হয় দিদারের। সাঙ্গ হয় এক নির্লোভ রাজনৈতিক কর্মীর জীবন। জানা যায়, দিদারুল ইসলাম যুুবলীগের একজন সক্রিয় নেতা। দলের যে কোন কর্মসূচী বাস্তবায়নে অনেকটা অগ্রভাগেই দেখা যেত দিদারকে। তার মৃত্যুকে হত্যাকান্ড উল্লেখ করে সন্ধ্যায় কেরানীহাটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক থানা আওয়ামী যুবলীগ। মিছিলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী নেতৃত্ব দেন। অংশ নেন শতাধিক নেতাকর্মী। দিদার কেওচিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড়েও জনার কেওচিয়া গ্রামের তাজের মুল্লুক ড্রাইভারের বাড়ির মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র। তার একটি ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে রবিবার বিকালে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথাা রয়েছে।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

বাস চালকের আক্রোশে প্রাণ গেল যুবলীগ নেতা দিদারের

প্রকাশিত: ০৩:৪৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯


শহীদুল ইসলাম বাবর,দেশবাংলা.নেট
কেরানীহাট থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে চট্টগ্রামমূখী আধার মার দারগা এলাকার দিকে ব্যবসায়ীক কাজে মোটর সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন উত্তর সাতকানিয়া যুবলীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য দিদারুল ইসলাম (৩৫)। জনার কেওচিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সন্নিকটে পৌছলে পিছনের দিক থেকে উলকা বেগে ছুটে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাস জোরে ধাক্কা দিলে দিদার রাস্তার উপরই ছিটকে পড়ে রক্তাক্ত হয়। আর দ্রæত গতিতে আসা বাসটি একটু সামনে গিয়ে আবার পিছনে আসা শুরু করে। এতে বাসটির চাকা দিদারের শরীরের উপর দিয়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই দিদারের মৃত্যু ঘটে। তারপর দ্রæত গতিতে বাসটি ঘটনান্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় দোহাজারী সেতু এলাকা থেকে হাইওয়ে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হলেও বাসটির চালক পালিয়ে যায়। গতকাল শনিবার বিকাল তিনটার সময় এ ঘটনা ঘটে। দিদারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহকর্মীরা জড়ো হয়ে ঘটনাস্থলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এসময় তার সহকর্মীরা দিদার হত্যার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ করে। পরে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ, সাতকানিয়া থানা পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা যৌথ ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও দিদারের ব্যবসায়ীক পার্টনার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু ছালেহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দিদারের লাশ বাড়িতে নেওয়া হলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। দিদারের স্বজনরা জানান, দলের জন্য ত্যাগ থাকলেও দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন ধরনের ব্যবসা বানিজ্যে করেনি। সর্বশেষ দলীয় সিনিয়র এক নেতা ও নিকটাত্মীয়ের অর্থায়নে মাঠি কাটার ব্যবসা শুরু করেছিল। সেই ব্যবসাস্থলে যাওয়ার পথেই নির্মম মৃত্যু হয় দিদারের। সাঙ্গ হয় এক নির্লোভ রাজনৈতিক কর্মীর জীবন। জানা যায়, দিদারুল ইসলাম যুুবলীগের একজন সক্রিয় নেতা। দলের যে কোন কর্মসূচী বাস্তবায়নে অনেকটা অগ্রভাগেই দেখা যেত দিদারকে। তার মৃত্যুকে হত্যাকান্ড উল্লেখ করে সন্ধ্যায় কেরানীহাটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক থানা আওয়ামী যুবলীগ। মিছিলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী নেতৃত্ব দেন। অংশ নেন শতাধিক নেতাকর্মী। দিদার কেওচিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড়েও জনার কেওচিয়া গ্রামের তাজের মুল্লুক ড্রাইভারের বাড়ির মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র। তার একটি ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে রবিবার বিকালে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথাা রয়েছে।