ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাবা বেঁচে নেই, মেডিকেলে চান্স পেয়ে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন লোহাগাড়ার আরমন

রায়হান সিকদারঃ

গত ১৪ডিসেম্বর প্রকাশিত এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় স্থান করে নিয়েছেন লোহাগাড়ার ছেলে ইমামুল হাসান আরমন। সে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। আরমন মেডিকেলে চান্স পাওয়ার খবর তার এলাকায় আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।

জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলা কলাউজান ইউনিয়নের উত্তর কলাউজানের নিজাম উদ্দিন মুন্সীর বাড়ির বাসিন্দা মরহুম আবুল হাসেম ও গৃহিনী জাহেদা বেগমের ২ছেলে এক মেয়ে। তার মধ্যে সবার ছোট ছেলে আরমন। তার বাবা আবুল হাসেম একজন প্রবাসী ছিলেন। ২০১৩ সালে তার বাবা মারা যান। তখন আরমান ক্লাস ওয়ানের ছাত্র ছির। তার গর্বিত মা একজন গৃহিনী। বাবা মারা যাওয়ার পর মা সবসময় সন্তানদের পড়ালেখা করার ক্ষেত্রে খুবই মনোযোগী ছিলেন। যে কারণে তার ছেলের পড়ালেখার ব্যাপারে কোন ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। ২০২৩ সালে লোহাগাড়ার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুখছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সাথে আরমন এসএসসি পাস করে চট্টগ্রাম শহরে পাড়ি জমান। মায়ের অনুপ্রেরণা সাহস নিয়ে এগিয়ে যায় তার পড়াশুনার কার্যক্রম। গাছবাড়িয়া সরকার কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন আরমন। আরমনের স্বপ্ন ছিল একজন ডাক্তার হবে, মানবিক ডাক্তার। এটিকে লালন করে সে সফলও হয়েছে। সফলতার মুখ দেখেছেন। মায়ের অনুপ্রেরণা পেয়ে তার এ সফলতা মেডিকেলে চান্স পাওয়া আরমন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থী ইমামুল হাসান আরমন তার অনুভূতি প্রকাশ করে প্রতিবেদককে বলেন, মহান আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শোকরিয়া। আমি যখন ক্লাস ওয়ানে পড়তাম, আমার বাবা তখনি মারা যান। আমার মা আর বড় ভাই আমার ভরসা ছিল। আমার মা আমাকে সবসময় সাহস দিতেন,উৎসাহ দিতেন, অনুপ্রেরণা যুগাতেন। আমার মা একটা কথাই বলতেন, বাবা চেষ্ঠা করো, সফল হবে, আল্লাহর রহমতে তোমার স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে।  আমার মা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। মায়ের অনুপ্রেরণা ও সাহস পেয়েছি বলেই আজকে মেডিকেলে চান্স পেয়েছি। এরপরে আমার শিক্ষকরা অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ছোট কাল থেকে স্বপ্ন দেখতাম, একজন মানবিক ডাক্তার হবো। ডাক্তারি পেশায় অনেক মানব সেবা করা যায়। তাই মেডিকেল চান্স পাওয়া আরমন সবার কাছে দোআ চেয়েছেন।

সুখছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন,আরমন খুব ভাল ছাত্র । তার অনেক প্রতিভা ছিল। তার প্রতিভা, মেধার মননয়ে সে সফলতার মুখ দেখেছে। মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র আরমন মেডিকেলে চান্স পাওয়া আমরা সকল শিক্ষক, শিক্ষিকারা অনেক আনন্দিত ও গর্বিত।

ইমামুল হাসান আরমনের কৃতিত্ব, সাফল্য ও মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় সংশ্লিষ্ঠ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার গর্বিত মা জাহেদা বেগম।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

বাবা বেঁচে নেই, মেডিকেলে চান্স পেয়ে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন লোহাগাড়ার আরমন

প্রকাশিত: ০৪:১৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

রায়হান সিকদারঃ

গত ১৪ডিসেম্বর প্রকাশিত এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় স্থান করে নিয়েছেন লোহাগাড়ার ছেলে ইমামুল হাসান আরমন। সে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। আরমন মেডিকেলে চান্স পাওয়ার খবর তার এলাকায় আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।

জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলা কলাউজান ইউনিয়নের উত্তর কলাউজানের নিজাম উদ্দিন মুন্সীর বাড়ির বাসিন্দা মরহুম আবুল হাসেম ও গৃহিনী জাহেদা বেগমের ২ছেলে এক মেয়ে। তার মধ্যে সবার ছোট ছেলে আরমন। তার বাবা আবুল হাসেম একজন প্রবাসী ছিলেন। ২০১৩ সালে তার বাবা মারা যান। তখন আরমান ক্লাস ওয়ানের ছাত্র ছির। তার গর্বিত মা একজন গৃহিনী। বাবা মারা যাওয়ার পর মা সবসময় সন্তানদের পড়ালেখা করার ক্ষেত্রে খুবই মনোযোগী ছিলেন। যে কারণে তার ছেলের পড়ালেখার ব্যাপারে কোন ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। ২০২৩ সালে লোহাগাড়ার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুখছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সাথে আরমন এসএসসি পাস করে চট্টগ্রাম শহরে পাড়ি জমান। মায়ের অনুপ্রেরণা সাহস নিয়ে এগিয়ে যায় তার পড়াশুনার কার্যক্রম। গাছবাড়িয়া সরকার কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন আরমন। আরমনের স্বপ্ন ছিল একজন ডাক্তার হবে, মানবিক ডাক্তার। এটিকে লালন করে সে সফলও হয়েছে। সফলতার মুখ দেখেছেন। মায়ের অনুপ্রেরণা পেয়ে তার এ সফলতা মেডিকেলে চান্স পাওয়া আরমন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থী ইমামুল হাসান আরমন তার অনুভূতি প্রকাশ করে প্রতিবেদককে বলেন, মহান আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শোকরিয়া। আমি যখন ক্লাস ওয়ানে পড়তাম, আমার বাবা তখনি মারা যান। আমার মা আর বড় ভাই আমার ভরসা ছিল। আমার মা আমাকে সবসময় সাহস দিতেন,উৎসাহ দিতেন, অনুপ্রেরণা যুগাতেন। আমার মা একটা কথাই বলতেন, বাবা চেষ্ঠা করো, সফল হবে, আল্লাহর রহমতে তোমার স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে।  আমার মা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। মায়ের অনুপ্রেরণা ও সাহস পেয়েছি বলেই আজকে মেডিকেলে চান্স পেয়েছি। এরপরে আমার শিক্ষকরা অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ছোট কাল থেকে স্বপ্ন দেখতাম, একজন মানবিক ডাক্তার হবো। ডাক্তারি পেশায় অনেক মানব সেবা করা যায়। তাই মেডিকেল চান্স পাওয়া আরমন সবার কাছে দোআ চেয়েছেন।

সুখছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন,আরমন খুব ভাল ছাত্র । তার অনেক প্রতিভা ছিল। তার প্রতিভা, মেধার মননয়ে সে সফলতার মুখ দেখেছে। মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র আরমন মেডিকেলে চান্স পাওয়া আমরা সকল শিক্ষক, শিক্ষিকারা অনেক আনন্দিত ও গর্বিত।

ইমামুল হাসান আরমনের কৃতিত্ব, সাফল্য ও মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় সংশ্লিষ্ঠ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার গর্বিত মা জাহেদা বেগম।