
শফকত হোসাইন চাটগামী
বাঁশখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর জলদী ভাদালিয়া খালের উপর নির্মিত ব্রীজটি দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশী সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টির ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় অর্ধ মত বছর আগে নির্মিত ব্রীজটি ভেঙে গেলেও এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেই। একটি ব্রীজের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার হাজার হাজার মানুষ। বাঁশখালী পৌরসভার ভাদালিয়া এলাকার এই ঝুঁকিপুর্ণ ব্রীজ দিয়েই স্কুল কলেজ মাদরাসার ছাত্রছাত্রীসহ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। উপজেলা সদরের সাথে এই এলাকার মানুষের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এই ব্রীজটি। তাই ভাদালিয়া খালের উপর অবিলম্বে ঝুঁকিপুর্ণ ব্রীজটি অপসারণ করে নতুন ব্রীজ স্থাপনের দাবী জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাদালিয়া খালের এই ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভারী যানবাহনসহ কোনো ধরনের যানবাহনই চলাচল করতে পারছে না। যানবাহন তো দুরের কথা; এই সড়ক দিয়ে এখন পায়ে হাটাও দায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক দিয়ে গন্তব্যস্থলে যেতে দেখা যায়। এলাকার নারী-পুরুষ, শিশু, বয়স্কদের চলাফেরায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বাঁশখালী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড এলাকায় হারুন বাজার সংলগ্ন ছড়ার উপর দীর্ঘ দিনের পুরানো ব্রীজটি ভেঙে গেছে অনেক দিন আগে। এটি সংস্কার না হওয়ায় এলাকার হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। অবিলম্বে এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় সমাজসেবক আনসুর আলী, ভাদালিয়া বড় মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা খলিলুর রহমান, সমাজসেবক মোহাম্মদ হোসাইন, আবু তাহের, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ইসমাঈল সওদাগর, মোয়াজ্জিন নুরুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ জানান, বাঁশখালী পৌরসভার উত্তর ভাদালিয়া ও দক্ষিণ ভাদালিয়ার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম কালভার্ট দিয়ে ভাদালিয়া, মিনজিরতলা, খালাইস্যার দোকানসহ অন্যান্য এলাকার হাজার হাজার লোকজন যাতায়াত করে থাকেন। ব্রীজটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জরাজীর্ণ হয়ে সংস্কারবিহীন পড়ে থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েনি। সম্প্রতি ভারী যানবাহন চলাচল ও অতিবৃষ্টির কারণে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ব্রীজের উভয় পাশের মাটি সরে গিয়ে চরম ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোন সময় এটি সম্পুর্ণ ভেঙে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁরা এ গ্রেডের পৌরসভা পেয়েছেন। কিন্তু উন্নয়নের দিকে অনেক পিছিয়ে আছেন তাঁরা। দীর্ঘ ১৫ বছরেও ব্রীজটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এলাকাবাসীরা জানান, খুব দ্রুত এ কালভার্টটি সংস্কার করা না হলে উপজেলা সদরের সাথে ভাদালিয়া এলাকার ব্যবসায়িক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
বাঁশখালী পৌর মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী জানান, পৌরসভার মাসিক সমন্বয় সভায় ভাদালিয়া খালের উপর দীর্ঘ দিনের পুরানো ব্রীজটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য আলোচনা হয়েছে। এডিবির বরাদ্দে ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আওতায় এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগির ব্রীজটি সংস্কার করা হবে বলে আশ্বাস দেন পৌর মেয়র ।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 





















