ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাধ্যতামূলক ৬০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ

প্রশিক্ষণ, দৃষ্টি ও ডোপ টেস্টে উত্তীর্ণ না হলে মিলবে না লাইসেন্স

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ ও যানবাহন চালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের বর্তমান পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। এখন থেকে প্রশিক্ষণ ছাড়া কেউ আর ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবে না। বাতিল করা হচ্ছে লাইসেন্স প্রদানের পুরনো কমিটিগুলো। আন্তর্জাতিক মানে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

বুধবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

ফাওজুল কবির খান বলেন, “ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম শর্ত হবে প্রশিক্ষণ। ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থায় এই প্রশিক্ষণ দেবে এবং প্রশিক্ষণকালীন সময় চালকদের জন্য ভাতার ব্যবস্থাও থাকবে।”

তিনি আরও জানান, ধীরে ধীরে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত কার্যক্রম বিআরটিএর হাত থেকে সরিয়ে ড্রাইভিং ইনস্টিটিউটগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ সময় বিআরটিএকে নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্থা থেকে সেবামূলক সংস্থায় রূপান্তর করা হবে।

বিআরটিসি, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রশিক্ষণ দিতে পারবে বলে জানান তিনি। প্রশিক্ষণ হবে দুটি ধাপে—প্রথম ধাপে সড়কের চিহ্ন ও নিয়ম সম্পর্কে ধারণা, দ্বিতীয় ধাপে গাড়ি চালানো ও নিয়ন্ত্রণ শেখানো হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, দৃষ্টি পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই লাইসেন্স দেওয়া হবে। আগামী মাস থেকেই নতুন এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন ফাওজুল কবির।

উপদেষ্টা আরও বলেন, “দুর্ঘটনা ও যানজটের অন্যতম কারণ প্রশিক্ষণহীন চালকরা। আমরা চাই, যারা গাড়ি চালাবেন তারা যেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হন।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, সওজের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান এবং পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

বাধ্যতামূলক ৬০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ

প্রশিক্ষণ, দৃষ্টি ও ডোপ টেস্টে উত্তীর্ণ না হলে মিলবে না লাইসেন্স

প্রকাশিত: ০৯:২৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ ও যানবাহন চালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের বর্তমান পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। এখন থেকে প্রশিক্ষণ ছাড়া কেউ আর ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবে না। বাতিল করা হচ্ছে লাইসেন্স প্রদানের পুরনো কমিটিগুলো। আন্তর্জাতিক মানে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

বুধবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

ফাওজুল কবির খান বলেন, “ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম শর্ত হবে প্রশিক্ষণ। ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থায় এই প্রশিক্ষণ দেবে এবং প্রশিক্ষণকালীন সময় চালকদের জন্য ভাতার ব্যবস্থাও থাকবে।”

তিনি আরও জানান, ধীরে ধীরে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত কার্যক্রম বিআরটিএর হাত থেকে সরিয়ে ড্রাইভিং ইনস্টিটিউটগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ সময় বিআরটিএকে নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্থা থেকে সেবামূলক সংস্থায় রূপান্তর করা হবে।

বিআরটিসি, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রশিক্ষণ দিতে পারবে বলে জানান তিনি। প্রশিক্ষণ হবে দুটি ধাপে—প্রথম ধাপে সড়কের চিহ্ন ও নিয়ম সম্পর্কে ধারণা, দ্বিতীয় ধাপে গাড়ি চালানো ও নিয়ন্ত্রণ শেখানো হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, দৃষ্টি পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই লাইসেন্স দেওয়া হবে। আগামী মাস থেকেই নতুন এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন ফাওজুল কবির।

উপদেষ্টা আরও বলেন, “দুর্ঘটনা ও যানজটের অন্যতম কারণ প্রশিক্ষণহীন চালকরা। আমরা চাই, যারা গাড়ি চালাবেন তারা যেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হন।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, সওজের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান এবং পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম।