ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান লোহাগাড়ার মুক্তিযোদ্ধা জালাল


রায়হান সিকদার,লোহাগাড়াঃ
মুহাম্মদ জালাল আহমদ প্রকাশ জালাল খলিফা। তার বয়স ৮০পেরিয়ে। তার বাড়ী লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের বেপারী পাড়া এলাকায়। তার পিতার নাম মরহুম মৌলানা হামিদ বকসু।তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা।তার ৫মেয়ে এবং ৫ছেলে রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমদ বিগত ৬ বছর যাবত্ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় মৃত্যুের প্রহর গুনছেন।
১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন।স্বাধীনতার পরবর্তীতে সময় ১৯৭৩ সালের তিনি প্রথম বড়হাতিয়া ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।তিনি যুদ্ধের ক্যাম্প ছিল জুটপুকুরিয়া এবং ধলিবিলা হানিফার চর।তিনি ১নং সেক্টরের তত্বাবধানে যুদ্ধে অংশ নেন।১৯৭৩সালে বঙ্গবন্ধু যখন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এসেছিলেন,তখন তিনি তাকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন।
তিনি সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা বিএম ফয়েজুর রহমানের নির্বাচনের সময় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।
বিগত ২০১৪সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করতে তিনি আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন।তিনি সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অতি কষ্টে অসুস্হ শরীরে নিজে কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন।মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদ বাঁচতে চান।অসুস্হ মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমদের সাথে তার বাড়ীতে গিয়ে অনেক কথা হয়।তিনি উক্ত প্রতিবেদককে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন,
চাচা আমি খুব অসুস্হ।আমার লিভার ক্যান্সার ধরা পড়েছে। কয়দিন বেঁচে থাকি সেটা একমাত্র আল্লাহ ভাল জানেন।আমি বাঁচতে চাই।
তিনি বলেন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামে আসলে আমি খবর পেলে ছুটে যেতাম। বঙ্গবন্ধু আমাকে খুব স্নেহ করতেন।আমি বঙ্গবন্ধুর কর্মী হয়ে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতি করেছি। আন্দোলন সংগ্রাম করেছি।কোন দিন কিছুর জন্য লোভ-লালসা করেনি। তবে,তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাননা। তিনি আকুতি করে বলেন,আমি প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাই।
তার ছোট ছেলে উপজেলা যুবলীগ নেতা কাইছার ইসলাম বাপ্পী বলেন,
আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। তবে,তিনি কোন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাননা।তিনি আমাদেরকে কান্না করে সবসময় বলেন,বাবা,বঙ্গবন্ধু আমাকে খুব স্নেহ করতেন।আমি কয়দিন বাঁচব জানিনা,সবসময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করে যাবি।মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমদ সম্পর্কে যুদ্ধকালীন কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফিজুর রহমান চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি উক্ত প্রতিবেদককে জানান,জালাল খলিফা একজন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা। ১৯৭১সালে তিনি ১নং সেক্টরের তত্বাবধানে ছিলেন।জুটপুকুরিয়া এবং ধলিবিলা হানিফার চর ক্যাম্পে ছিলেন।আমাদের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন।
কিছুদিনের জন্য তিনি বান্দরবান চলে যান।তিনি আরো বলেন,জালাল আহমেদ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাননা। তার নাম মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।তবে,শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রবীণ আ`লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমদ প্রধানমন্ত্রী সহায়তা পেলেই উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান লোহাগাড়ার মুক্তিযোদ্ধা জালাল

প্রকাশিত: ১০:১৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯


রায়হান সিকদার,লোহাগাড়াঃ
মুহাম্মদ জালাল আহমদ প্রকাশ জালাল খলিফা। তার বয়স ৮০পেরিয়ে। তার বাড়ী লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের বেপারী পাড়া এলাকায়। তার পিতার নাম মরহুম মৌলানা হামিদ বকসু।তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা।তার ৫মেয়ে এবং ৫ছেলে রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমদ বিগত ৬ বছর যাবত্ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় মৃত্যুের প্রহর গুনছেন।
১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন।স্বাধীনতার পরবর্তীতে সময় ১৯৭৩ সালের তিনি প্রথম বড়হাতিয়া ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।তিনি যুদ্ধের ক্যাম্প ছিল জুটপুকুরিয়া এবং ধলিবিলা হানিফার চর।তিনি ১নং সেক্টরের তত্বাবধানে যুদ্ধে অংশ নেন।১৯৭৩সালে বঙ্গবন্ধু যখন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এসেছিলেন,তখন তিনি তাকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন।
তিনি সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা বিএম ফয়েজুর রহমানের নির্বাচনের সময় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।
বিগত ২০১৪সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করতে তিনি আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন।তিনি সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অতি কষ্টে অসুস্হ শরীরে নিজে কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন।মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদ বাঁচতে চান।অসুস্হ মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমদের সাথে তার বাড়ীতে গিয়ে অনেক কথা হয়।তিনি উক্ত প্রতিবেদককে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন,
চাচা আমি খুব অসুস্হ।আমার লিভার ক্যান্সার ধরা পড়েছে। কয়দিন বেঁচে থাকি সেটা একমাত্র আল্লাহ ভাল জানেন।আমি বাঁচতে চাই।
তিনি বলেন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামে আসলে আমি খবর পেলে ছুটে যেতাম। বঙ্গবন্ধু আমাকে খুব স্নেহ করতেন।আমি বঙ্গবন্ধুর কর্মী হয়ে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতি করেছি। আন্দোলন সংগ্রাম করেছি।কোন দিন কিছুর জন্য লোভ-লালসা করেনি। তবে,তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাননা। তিনি আকুতি করে বলেন,আমি প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাই।
তার ছোট ছেলে উপজেলা যুবলীগ নেতা কাইছার ইসলাম বাপ্পী বলেন,
আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। তবে,তিনি কোন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাননা।তিনি আমাদেরকে কান্না করে সবসময় বলেন,বাবা,বঙ্গবন্ধু আমাকে খুব স্নেহ করতেন।আমি কয়দিন বাঁচব জানিনা,সবসময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করে যাবি।মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমদ সম্পর্কে যুদ্ধকালীন কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফিজুর রহমান চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি উক্ত প্রতিবেদককে জানান,জালাল খলিফা একজন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা। ১৯৭১সালে তিনি ১নং সেক্টরের তত্বাবধানে ছিলেন।জুটপুকুরিয়া এবং ধলিবিলা হানিফার চর ক্যাম্পে ছিলেন।আমাদের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন।
কিছুদিনের জন্য তিনি বান্দরবান চলে যান।তিনি আরো বলেন,জালাল আহমেদ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাননা। তার নাম মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।তবে,শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রবীণ আ`লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমদ প্রধানমন্ত্রী সহায়তা পেলেই উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের।