
রায়হান সিকদারঃ
বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় পদুয়ায় শামশুল ইসলাম চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে পিঠা উৎসব। পিঠা পুলির ঘ্রাণে মুখোরিত হয়ে ওঠেছে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। শীতের মৌসুমে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পিঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে এই বিদ্যালয়ে এরকম অনুষ্ঠান করে আসছে।
পিঠা উৎসবে গিয়ে দেখা যায়, দেশি বাহারি পিঠা প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করানো হয়। পিঠা উৎসব উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকদের আগমনে স্কুল প্রাঙ্গণ মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। পিঠা উৎসবে ছিলো হরেক রকমের পিঠার আয়োজন। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানান ধরনের মুখরোচক পিঠা প্রদর্শনী করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা এবং ঐতিহ্য ধরা রাখাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাঠে ১১টি স্টলে নানা আইটেমের পিঠা নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের তৈরি করা এসব পিঠা দেখতে বিভিন্ন স্টলে ভিড় করেন অবিভাবকেরাও।স্টলে নানা রকম পিঠাপুলির পসরা সাজিয়ে রাখা আছে। প্রতিটা পিঠার ওপরে লেখা আছে পরিচিতি নাম। এসব পিঠার নামও বেশ বাহারি।
১৯ জানুয়ারি(সোমবার) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙনে আয়োজিত পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনির সভাপতিত্বে সহকারি প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আমানুল হক আমান।
এছাড়াও বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকরা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাহিরা বিনতে আনোয়ার আনিশা বলেন, বাহারি রকমের এতো পিঠা একসঙ্গে দেখে ভাল লাগছে। স্কুলে পিঠা উৎসবে সহপাঠীদের সঙ্গে পিঠা খাচ্ছি। অনেকে সিনিয়র ও জুনিয়র আপুরা পিঠা বিক্রি করছে। এতে আমাদের অনেক আনন্দ লাগছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি বলেন, পিঠা-পুলি হলো আমাদের লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই প্রকাশ। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যকে স্মরণ করতেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে এ উৎসবের আয়োজন করেছেন। আমাদের স্কুলে প্রতি বছর এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। সত্যিই বেশ ভালো লাগছে।
পিঠা উৎসবে আগত অভিভাবকরা বলেন, পিঠা উৎসবে এসে বাহারি স্বাদের দেশি পিঠা দেখে খুবই ভালো লাগলো।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এরকম পিঠা উৎসব প্রশংসার দাবিদার। শিক্ষার পাশাপাশা এরকম ব্যতিক্রমী আয়োজন প্রয়োজন রয়েছে।এ ধরণের উৎসব মেধা বিকাশে ও ঐতিহ্য কে ধরে রাখতে উৎসাহিত করবে। শিক্ষার্থীদের এমন সুন্দর উদ্যোগকে তিনি প্রশংসা করেন।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 




















