ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, বিএনপির দিকে অভিযোগের তীর

ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এ ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছে।

ঘটনার পর ফকিরাপুল মোড়ে পারাবাত হোটেলের নিচতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, মির্জা আব্বাসের নির্দেশে এবং তারেক রহমানের সম্মতিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠ থেকে সরাতে যদি আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী কৌশল নেওয়া হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়? আপনারা আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার জন্য ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন, কিন্তু জনগণ সন্ত্রাস মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৮ সালে আপনারা মাঠে নামতে পারেননি, ২৮ অক্টোবর তিন মিনিটও দাঁড়াতে পারেননি—তখন আমরা সহানুভূতি জানিয়েছি। এখন সমালোচনা সহ্য করতে পারছেন না। ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটেই নির্ধারণ হবে কে বেয়াদব, আর কে গ্যাংস্টার।”
নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “একদলের প্রার্থীর দিকে ডিম ছোড়া হলে অন্যদলের প্রার্থীর দিকেও ডিম পড়বে। আমরা এমন পরিবেশ চাই না। তবে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ নীরব থাকলে আমাদের করণীয় আমরা করব।”
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন, কলেজ প্রশাসন ও বিএনপি দলীয়ভাবে কী ব্যবস্থা নেয়—তা তারা পর্যবেক্ষণ করবেন।
ঘটনার বর্ণনা পাটওয়ারীর
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কলেজে তার আমন্ত্রণ ছিল বেলা ১২টায়, আর মির্জা আব্বাসের সময় ছিল দুপুর ২টা। তিনি কলেজে প্রবেশ করলে নিজেকে ছাত্রদলের সভাপতি পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি এগিয়ে আসে। এরপর তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা শুরু হয়।
তার ভাষ্য, “ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, কিল-ঘুষি, লাঠিচার্জ—সবকিছু হয়েছে। সবার দিকে ডিম ছোড়া হয়।”
তিনি বলেন, “এটা শহীদ ওসমান হাদীর পবিত্র আসন। এখানে দুর্নীতি-চাঁদাবাজির জায়গা নেই। আমি ফজর থেকে এশা পর্যন্ত মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম করছি। আজ কলেজে শিক্ষকদের সঙ্গে ভোটকে ‘পবিত্র আমানত’ হিসেবে রক্ষা করার কথা বলতে গিয়েছিলাম।”
পাটওয়ারীর দাবি, “মির্জা আব্বাসের বাহিনী হামলা করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটেই জনগণ বিচার করবে।”
তিনি তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, “দলে সন্ত্রাসীদের রাখবেন, নাকি বহিষ্কার করবেন—সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মির্জা আব্বাসকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করার অনুরোধ করছি।”
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি অসুস্থ নেত্রীর কাছ থেকে দোয়া পেয়েছেন। “উনি বলেছিলেন—বাংলাদেশটা ঠিক রাখিও। আজ উনি সুস্থ থাকলে এসব কর্মকাণ্ডে লজ্জা পেতেন।”
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
পাটওয়ারী নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন—আসাদুজ্জামান মাসুদ ভূঁইয়া, শাহিন উদ্দিন মল্লিক, শরীফ, শাহিন খান (যিনি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বহিষ্কৃত), হায়াত দিয়াজ আশরাফী। তার দাবি, এদের কারও ছাত্রত্ব নেই।
তিনি আরও বলেন, “মাস্টার প্ল্যানে নেতৃত্ব দিয়েছে মির্জা আব্বাসের ভাগিনা আদিত্য। আমরা আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলাম।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় শাহিন আহমেদ খান, দেওয়ান আব্দুল্লাহ, আয়মান ফয়েজ, মেজবাহ উদ্দিন, আদিব, আসিফ সাত্তারি, কামরুজ্জামান সোহেল ও জিয়াউদ্দিন জুবেরসহ অনেকে আহত হয়েছেন।
অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া
মির্জা আব্বাসের ভাগিনা, মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সিনিয়র সহ–সভাপতি আব্দুল্লাহ জামাল চৌধুরী আদিত্য বলেন, “আমি কিছু জানি না। আমি ওই কলেজের শিক্ষার্থীও না। ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত বলে আমার নাম জড়ানো হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, “সাধারণ শিক্ষার্থীরা পাটওয়ারীকে জোর করে ঢুকতে বাধা দেয়। পরে তিনি রাস্তায় বসে মব তৈরি করেন।”
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওরা এমন সুযোগ খুঁজছে। আমার ঝগড়া করার প্রয়োজন নেই। ১৯৭৭ সাল থেকে নির্বাচন করছি—কোনো সংঘর্ষের রেকর্ড নেই। ভিন্ন উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে।”
পুলিশের বক্তব্য
রমনা থানার ওসি মোহাম্মদ রাহাৎ খান জানান, ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত ছিল এবং উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, বিএনপির দিকে অভিযোগের তীর

প্রকাশিত: ০৪:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এ ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছে।

ঘটনার পর ফকিরাপুল মোড়ে পারাবাত হোটেলের নিচতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, মির্জা আব্বাসের নির্দেশে এবং তারেক রহমানের সম্মতিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠ থেকে সরাতে যদি আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী কৌশল নেওয়া হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়? আপনারা আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার জন্য ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন, কিন্তু জনগণ সন্ত্রাস মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৮ সালে আপনারা মাঠে নামতে পারেননি, ২৮ অক্টোবর তিন মিনিটও দাঁড়াতে পারেননি—তখন আমরা সহানুভূতি জানিয়েছি। এখন সমালোচনা সহ্য করতে পারছেন না। ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটেই নির্ধারণ হবে কে বেয়াদব, আর কে গ্যাংস্টার।”
নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “একদলের প্রার্থীর দিকে ডিম ছোড়া হলে অন্যদলের প্রার্থীর দিকেও ডিম পড়বে। আমরা এমন পরিবেশ চাই না। তবে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ নীরব থাকলে আমাদের করণীয় আমরা করব।”
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন, কলেজ প্রশাসন ও বিএনপি দলীয়ভাবে কী ব্যবস্থা নেয়—তা তারা পর্যবেক্ষণ করবেন।
ঘটনার বর্ণনা পাটওয়ারীর
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কলেজে তার আমন্ত্রণ ছিল বেলা ১২টায়, আর মির্জা আব্বাসের সময় ছিল দুপুর ২টা। তিনি কলেজে প্রবেশ করলে নিজেকে ছাত্রদলের সভাপতি পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি এগিয়ে আসে। এরপর তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা শুরু হয়।
তার ভাষ্য, “ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, কিল-ঘুষি, লাঠিচার্জ—সবকিছু হয়েছে। সবার দিকে ডিম ছোড়া হয়।”
তিনি বলেন, “এটা শহীদ ওসমান হাদীর পবিত্র আসন। এখানে দুর্নীতি-চাঁদাবাজির জায়গা নেই। আমি ফজর থেকে এশা পর্যন্ত মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম করছি। আজ কলেজে শিক্ষকদের সঙ্গে ভোটকে ‘পবিত্র আমানত’ হিসেবে রক্ষা করার কথা বলতে গিয়েছিলাম।”
পাটওয়ারীর দাবি, “মির্জা আব্বাসের বাহিনী হামলা করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটেই জনগণ বিচার করবে।”
তিনি তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, “দলে সন্ত্রাসীদের রাখবেন, নাকি বহিষ্কার করবেন—সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মির্জা আব্বাসকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করার অনুরোধ করছি।”
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি অসুস্থ নেত্রীর কাছ থেকে দোয়া পেয়েছেন। “উনি বলেছিলেন—বাংলাদেশটা ঠিক রাখিও। আজ উনি সুস্থ থাকলে এসব কর্মকাণ্ডে লজ্জা পেতেন।”
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
পাটওয়ারী নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন—আসাদুজ্জামান মাসুদ ভূঁইয়া, শাহিন উদ্দিন মল্লিক, শরীফ, শাহিন খান (যিনি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বহিষ্কৃত), হায়াত দিয়াজ আশরাফী। তার দাবি, এদের কারও ছাত্রত্ব নেই।
তিনি আরও বলেন, “মাস্টার প্ল্যানে নেতৃত্ব দিয়েছে মির্জা আব্বাসের ভাগিনা আদিত্য। আমরা আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলাম।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় শাহিন আহমেদ খান, দেওয়ান আব্দুল্লাহ, আয়মান ফয়েজ, মেজবাহ উদ্দিন, আদিব, আসিফ সাত্তারি, কামরুজ্জামান সোহেল ও জিয়াউদ্দিন জুবেরসহ অনেকে আহত হয়েছেন।
অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া
মির্জা আব্বাসের ভাগিনা, মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সিনিয়র সহ–সভাপতি আব্দুল্লাহ জামাল চৌধুরী আদিত্য বলেন, “আমি কিছু জানি না। আমি ওই কলেজের শিক্ষার্থীও না। ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত বলে আমার নাম জড়ানো হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, “সাধারণ শিক্ষার্থীরা পাটওয়ারীকে জোর করে ঢুকতে বাধা দেয়। পরে তিনি রাস্তায় বসে মব তৈরি করেন।”
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওরা এমন সুযোগ খুঁজছে। আমার ঝগড়া করার প্রয়োজন নেই। ১৯৭৭ সাল থেকে নির্বাচন করছি—কোনো সংঘর্ষের রেকর্ড নেই। ভিন্ন উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে।”
পুলিশের বক্তব্য
রমনা থানার ওসি মোহাম্মদ রাহাৎ খান জানান, ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত ছিল এবং উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে।