
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আয়োজিত সুধী সমাবেশে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার মোহে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের নামে দেশের সূর্যসন্তান সেনা অফিসারদের হত্যার মধ্য দিয়ে সেই পথ শুরু হয়। গত ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার খুন, গুম, হত্যা, ‘আয়না ঘর’ তৈরি করে বিরোধী নেতাকর্মীদের—বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সদস্যদের—উপর তাণ্ডব চালিয়েছে।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে। এখন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময়, কিন্তু একটি গোষ্ঠী আবারো ফ্যাসিজম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ইসলামী ছাত্রশিবির সেই সুযোগ দেবে না।”
শাহজাহান চৌধুরীর স্মৃতিচারণ ও সংগ্রামের অঙ্গীকার
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক প্যানেল স্পিকার আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় ছাত্রশিবির না থাকলে দেশের শিক্ষাঙ্গনে ইসলামের নাম উচ্চারণ করাই কঠিন হয়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, “শিবির কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং ছাত্র সমাজে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই পথে বহু ভাই শহীদ হয়েছেন, শুধু সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় শহীদ হয়েছেন ১৩ জন। আমাদের সংগ্রাম চলমান থাকবে এবং একদিন বাংলার মাটিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে।”
সমাবেশে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. মাওলানা হেলাল উদ্দিন মো. নোমান, সাতকানিয়া জামায়াতের সাবেক আমির ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. নুরুল হক, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সূরা সদস্য এম ওয়াজেদ আলী, এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি শাহাদত হোসাইন, নুরুল হক, মোহাম্মদ আইয়ুব আলী ও আলী হোসেন।
সমাবেশটি সভাপতিত্ব করেন জেলা দক্ষিণ শাখার সভাপতি আসিফ উল্লাহ আরমান এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি ডিএম আসহাব উদ্দিন।
শিবির সভাপতির সতর্কবার্তা
বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ইসলামী ছাত্রশিবির আজ ছাত্র সমাজের প্রাণের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা শিবিরে যোগ দিচ্ছে। এ অগ্রযাত্রা ঠেকাতে একটি রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশে ১০ মিনিটের বক্তব্যের মধ্যে ৯ মিনিট শিবিরের নামে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তাদের লক্ষ্য আরেকটি ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করা। দেশবাসী ও ছাত্র সমাজকে এসবের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।”
মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 



















