ঢাকা ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সেবার আস্থার ঠিকানা লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার! চালু করার পর থেকেই এই পর্যন্ত ৮হাজার রোগীকে সেবা প্রদান 

রায়হান সিকদারঃ

দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত ও জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা প্রদান করতে কাঙ্খিক স্বাস্থ্য সেবার আস্থার ঠিকানা হয়ে উঠেছে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার! এতে জনমতেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে।  তবে, ট্রমা সেন্টার টি পুরোদমে চালু হলেই এলাকার মানুষ তাদের কাঙ্খিক পুর্নাঙ্গভাবে সেবা পাবেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম-১৫ আসসের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এবং উপজেলা স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার চালুর  পর থেকেই বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা এবং অন্যান্য ধরনের আহত রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় জনগণের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ও আস্থার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জানা যায়, চলতি বছরের গেল মাসের  মে মাসেই এই ট্রমা সেন্টারে ১হাজারের এর অধিক আহত রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। আর ট্রমা সেন্টার  চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার রোগী এই ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন।

লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারটি  ২০ শয্যা বিশিষ্ঠ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট অর্থোপেডিক ডা.তাসফিক আহমেদ ও সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. মোঃ মোবাশ্বেরুল আমিন রাজিব এই ট্রমা সেন্টারে  তত্বাবধান করেন।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আন্তরিক সহযোগিতায় স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক,স্বল্প সংখ্যক নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের নিয়ে এই ট্রমা সেন্টারটি বর্তমানে তাৎক্ষণিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জন্য এই সেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য রয়েছে আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতির সু-ব্যবস্থা।  মহাসড়কের পাশে ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করার ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি রয়েছে। এতে মৃত্যুহার কমবে এবং অনেকে পঙ্গুত্ব থেকে বাঁচবে এলাকার সাধারণ মানুষ।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দারা জানান,   এই ট্রমা সেন্টার চালু হওয়ার পর প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা সেবাটা দিতে পারছে। আমাদের এলাকার মানুষ আহত হলেই তাৎক্ষণিক ভাবে সেবাটা প্রদান করছে।  তবে,এটি এখনো পুরো দমে চালু হয়নি। এত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের প্রতিষ্ঠান ট্রমা সেন্টার পুরোদমে চালু হলেই জনগণ তাদের কাঙ্খিক স্বাস্থ্য সেবা পাবে।
যদি এটিকে সরকারের পক্ষ থেকে পুরোদমে চালু করা যায় তাহলে আমরা কাঙ্খিক সেবাটাই পাবো।

সেন্টারটি পুরোদমে চালু করাটাই এখন এলাকার মানুষের প্রত্যাশা ও প্রানের দাবি।

উপজেলা স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, সেবার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ও সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে এই ট্রমা সেন্টারের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।   তাৎক্ষণিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা এসেই চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে।মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এটি এখনো পুরোদমে চালু করা হয়নি। পুরোদমে চালু হলেই এলাকার জনগণ তাদের কাঙ্খিক সেবাটাই পাবেন।

তিনি আরও বলেন, মানবিক সেবা, দক্ষ চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার আহত ও দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জনসাধারণের সেবায় কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা চালু থাকবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

সমাজসেবায় অবদানের জন্য ‘মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড মনোনীত হলেন চুনতির কৃতি সন্তান কফিল উদ্দিন লিটু

দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সেবার আস্থার ঠিকানা লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার! চালু করার পর থেকেই এই পর্যন্ত ৮হাজার রোগীকে সেবা প্রদান 

প্রকাশিত: ০৮:০৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রায়হান সিকদারঃ

দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত ও জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা প্রদান করতে কাঙ্খিক স্বাস্থ্য সেবার আস্থার ঠিকানা হয়ে উঠেছে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার! এতে জনমতেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে।  তবে, ট্রমা সেন্টার টি পুরোদমে চালু হলেই এলাকার মানুষ তাদের কাঙ্খিক পুর্নাঙ্গভাবে সেবা পাবেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম-১৫ আসসের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এবং উপজেলা স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার চালুর  পর থেকেই বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা এবং অন্যান্য ধরনের আহত রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় জনগণের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ও আস্থার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জানা যায়, চলতি বছরের গেল মাসের  মে মাসেই এই ট্রমা সেন্টারে ১হাজারের এর অধিক আহত রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। আর ট্রমা সেন্টার  চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার রোগী এই ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন।

লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারটি  ২০ শয্যা বিশিষ্ঠ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট অর্থোপেডিক ডা.তাসফিক আহমেদ ও সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. মোঃ মোবাশ্বেরুল আমিন রাজিব এই ট্রমা সেন্টারে  তত্বাবধান করেন।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আন্তরিক সহযোগিতায় স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক,স্বল্প সংখ্যক নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের নিয়ে এই ট্রমা সেন্টারটি বর্তমানে তাৎক্ষণিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জন্য এই সেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য রয়েছে আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতির সু-ব্যবস্থা।  মহাসড়কের পাশে ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করার ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি রয়েছে। এতে মৃত্যুহার কমবে এবং অনেকে পঙ্গুত্ব থেকে বাঁচবে এলাকার সাধারণ মানুষ।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দারা জানান,   এই ট্রমা সেন্টার চালু হওয়ার পর প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা সেবাটা দিতে পারছে। আমাদের এলাকার মানুষ আহত হলেই তাৎক্ষণিক ভাবে সেবাটা প্রদান করছে।  তবে,এটি এখনো পুরো দমে চালু হয়নি। এত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের প্রতিষ্ঠান ট্রমা সেন্টার পুরোদমে চালু হলেই জনগণ তাদের কাঙ্খিক স্বাস্থ্য সেবা পাবে।
যদি এটিকে সরকারের পক্ষ থেকে পুরোদমে চালু করা যায় তাহলে আমরা কাঙ্খিক সেবাটাই পাবো।

সেন্টারটি পুরোদমে চালু করাটাই এখন এলাকার মানুষের প্রত্যাশা ও প্রানের দাবি।

উপজেলা স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, সেবার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ও সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে এই ট্রমা সেন্টারের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।   তাৎক্ষণিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা এসেই চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে।মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এটি এখনো পুরোদমে চালু করা হয়নি। পুরোদমে চালু হলেই এলাকার জনগণ তাদের কাঙ্খিক সেবাটাই পাবেন।

তিনি আরও বলেন, মানবিক সেবা, দক্ষ চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার আহত ও দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জনসাধারণের সেবায় কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা চালু থাকবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।