শহীদুল ইসলাম বাবর,দেশবাংলা.নেট
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ ও বোয়ালখালী উপজেলায় বন্যা পরিস্তিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় পানি উঠায় বানভাসী মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাডিয়েছে ৬ লাখে। এসব উপজেলার সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রাবাহিত হচ্ছে। সাতকানিয়ার বাজালিয়া মীরের পাড়া এলাকায় শংখ নদীর বাধঁ ভেঙ্গে তীব্র শ্রোতে পানি প্রবেশ করা অব্যাহত রেয়েছ। জানা যায়,লোহাগাড়া উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কের অবস্থা খুবই করুন হয়ে পড়েছে। বড়হাতিয়া,আমিরাবাদ,সুখছড়ি,কলাউজান,পুটিবিলা,আধুনগরসহ উপজেলার বহু প্রামীণ সড়ক পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।আধুনগরে ডলুর ভাঙনে খাল পাড়ে বহু কাঁচা বসতঘরে পানি ঢুকেছে।
পটিয়ায় অতি বর্ষণ ও ঢলের পানিতে উপজেলার কচুয়াই, ছনহরা ও ভাটিখাইন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।আনোয়ারার বরুমচড়া, বারখাইন, হাইলধর, বৈরাগ, চাতরী ও পরৈকোড়া ইউনিয়নের ওষখাইন, কৈখাইন, শিলালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।রায়পুর ও জুঁইদন্ডী ইউনিয়নসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। জোয়ারের পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ভারী বৃষ্টিপাতে দুই উপকূলীয় ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বোয়ালখালীতে পাহাড়ি চাষাবাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড় থেকে পড়া শাক সব্জি, লেবু ও পেয়ারা পানির স্রোত থাকায় ভান্ডালজুরি খাল দিয়ে ভেসে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। ভেসে যাচ্ছে অনেক চারাও। খালের পাশে থাকা একাধিক ঘর বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ভান্ডালজুরি পাড়ের বাসিন্দা তোয়াব আলী জানান, টানা বৃষ্টিতে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোকারম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। কয়েকটি ঘর একবারে বিলীন হয়ে গেছে পাহাড়ি ঢলে। তাছাড়া পাহাড়ে পাদদেশে গুচ্ছগ্রাম, আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীদের নিরাপদে থাকতে নির্দেশ দিয়েছি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার কাজ চলছে। তাদের সহযোগিতা করা হবে। বাশখালীতে টানা বৃষ্টিতে উপকূলীয় এলাকা সরল, গন্ডামারা, চনুয়া, পুইছড়ি, চাম্বল, কাথারিয়া, বাহারছড়া, পুকুরিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ ভয়াবহ বন্যা আতঙ্কে রয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে নদী পাড়ের গ্রামসহ রাস্তাঘাট। স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে বিভিন্ন ধরণের ফসলি জমি। চন্দনাইশের দোহাজারী পৌরসভার উল্লাপাড়া, সরকারপাড়া, চাগাচর, জামিজুরী, ঈদপুকুরিয়া,খানবাড়ি, দিয়াকুল, রায়জোয়ারা, কিল্লাপাড়া, পূর্ব দোহাজারী, লোকমানপাড়া, চাগাচর নতুনপাড়া এলাকার মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, শুধু মাত্র সাতকানিয়ায় ৫০ হাজার পরিবারের অন্তত ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্তত পাচঁ লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 

























