ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদক,দেশবাংলা ডটনেট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যতদিন ক্ষমতায় আছি পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সব পদক্ষেপ নেব। আমরা বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য।

রোববার (২১ অক্টোবর) সকালে গণভবন থেকে ‘মোবাইল নাম্বার পোর্টাবিলিটি (এমএনপি)’ সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে কাজই করি আমাদের লক্ষ্য তরুণদের ভবিষ্যৎ। আজকের তরুণরাই ভবিষ্যৎ চালাবে। তাদেরকে প্রযুক্তির শিক্ষা দিতে পারলে তারা দেশ এগিয়ে নেবে। আলোকিত জীবন তারাই আমাদেরকে দেবে।

তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের বলব, তোমরা মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া কর। প্রযুক্তির ব্যবহার তোমাদের শিখতে হবে। প্রযুক্তি পরিবর্তনশীল। তরুণ প্রজন্মেরই দায়িত্ব পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে চলা।

এমএনপি সেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার আরেকটি পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। একটা সিম থেকে যেকোনও অপারেটরে আরেকটা সিমে নম্বর পরিবর্তন করা বা একটা অপারেটর থেকে আরেকটা অপারেটরে যাওয়ার যে আধুনিক প্রযুক্তি পৃথিবীর খুব সীমিত দেশ এটা ব্যবহার করে। আমরা সেই যুগে প্রবেশ করছি।

তিনি বলেন, যদিও এটা একটা জটিল বিষয়, সেটাকে আজকে সহজভাবে করে দেওয়া হয়েছে। এই এমএনপি সেবা অনেকের জন্য সুবিধা হবে।

সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমাদের ব্রড ব্র্যান্ড সার্ভিসটা একাবারে গ্রাম পর্যন্ত, জেলা উপজেলা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। প্রতিটি গ্রামকে আমরা শহরে উন্নীত করছি।

ই-ফাইলিং সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি বাইরে গেলেই এখান থেকে সোজা ফাইল চলে যায়। সেখানে বসে কাজ করি। একটা কর্মঘণ্টাও আমার নষ্ট হয় না। এটা হলো বাস্তবতা।

শেখ হাসিনা বলেন, নতুন প্রযুক্তি যে সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে এটা আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজে লাগছে, কাজে লাগবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা যখন ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসি তখন ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছিলাম। আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তব। তবে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। কারণ প্রযুক্তি বহমান নদীর মতো। নতুন প্রযুক্তি আসবে, তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

বেসরকারি খাততে সরকার উৎসাহিত করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোন বেসরকারি খাতে দিয়েছিলাম বলেই আজ মানুষের হাতে হাতে মোবাইল। তিনি জানান, তার সরকার পাঁচ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছে। এতে ইন্টারনেট সার্ভিসের আওতায় এসেছে সারাদেশে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কোথায় ছিলাম, আর এখন কোথায় এসেছি। মাত্র ১০ বছরে এই পরিবর্তন হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে বলে। আর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পেরেছে তরুণ প্রজন্ম ভোট দিয়েছে বলে।

তিনি জানান, বেসরকারি খাত উৎসাহিত করতে তার সরকার ৪৪টি টেলিভিশনের লাইসেন্স দিয়েছে। তবে তিনি জানান, এতগুলো টেলিভিশন লাইসেন্স দেয়ায় ভুক্তভোগী তারাই।

সরকার প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৮টি হাইটেক পার্ক করার পরিকল্পনা নিয়েছি আমরা। ইতোমধ্যে দুটি হয়েছে। ৩৫৫ একর জমির ওপর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগ আসবে। আমরা ডিজিটাল ডিভাইস রপ্তানি করতে পারব। তরুণদের কর্মসংস্থানের আর অভাব হবে না।

ট্যাক্স কমানোর দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কথায় কথায় ট্যাক্স কমানোর দাবি করলে উন্নয়ন হবে কীভাবে! ট্যাক্স দিচ্ছে বলেই বাজেট সাত গুণ বৃদ্ধি করতে পেরেছি। সবচেয়ে বড় কথা বাইরের কাছে হাত পাততে হচ্ছে না। এটা আমাদের জন্য সম্মানের। সেই সম্মানটা ধরে রাখতে চাই। আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

তবে অর্থমন্ত্রী ট্যাক্স মাফ করে দিলে তার করার কিছু নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০১:১১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮

প্রতিবেদক,দেশবাংলা ডটনেট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যতদিন ক্ষমতায় আছি পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সব পদক্ষেপ নেব। আমরা বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য।

রোববার (২১ অক্টোবর) সকালে গণভবন থেকে ‘মোবাইল নাম্বার পোর্টাবিলিটি (এমএনপি)’ সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে কাজই করি আমাদের লক্ষ্য তরুণদের ভবিষ্যৎ। আজকের তরুণরাই ভবিষ্যৎ চালাবে। তাদেরকে প্রযুক্তির শিক্ষা দিতে পারলে তারা দেশ এগিয়ে নেবে। আলোকিত জীবন তারাই আমাদেরকে দেবে।

তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের বলব, তোমরা মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া কর। প্রযুক্তির ব্যবহার তোমাদের শিখতে হবে। প্রযুক্তি পরিবর্তনশীল। তরুণ প্রজন্মেরই দায়িত্ব পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে চলা।

এমএনপি সেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার আরেকটি পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। একটা সিম থেকে যেকোনও অপারেটরে আরেকটা সিমে নম্বর পরিবর্তন করা বা একটা অপারেটর থেকে আরেকটা অপারেটরে যাওয়ার যে আধুনিক প্রযুক্তি পৃথিবীর খুব সীমিত দেশ এটা ব্যবহার করে। আমরা সেই যুগে প্রবেশ করছি।

তিনি বলেন, যদিও এটা একটা জটিল বিষয়, সেটাকে আজকে সহজভাবে করে দেওয়া হয়েছে। এই এমএনপি সেবা অনেকের জন্য সুবিধা হবে।

সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমাদের ব্রড ব্র্যান্ড সার্ভিসটা একাবারে গ্রাম পর্যন্ত, জেলা উপজেলা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। প্রতিটি গ্রামকে আমরা শহরে উন্নীত করছি।

ই-ফাইলিং সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি বাইরে গেলেই এখান থেকে সোজা ফাইল চলে যায়। সেখানে বসে কাজ করি। একটা কর্মঘণ্টাও আমার নষ্ট হয় না। এটা হলো বাস্তবতা।

শেখ হাসিনা বলেন, নতুন প্রযুক্তি যে সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে এটা আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজে লাগছে, কাজে লাগবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা যখন ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসি তখন ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছিলাম। আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তব। তবে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। কারণ প্রযুক্তি বহমান নদীর মতো। নতুন প্রযুক্তি আসবে, তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

বেসরকারি খাততে সরকার উৎসাহিত করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোন বেসরকারি খাতে দিয়েছিলাম বলেই আজ মানুষের হাতে হাতে মোবাইল। তিনি জানান, তার সরকার পাঁচ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছে। এতে ইন্টারনেট সার্ভিসের আওতায় এসেছে সারাদেশে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কোথায় ছিলাম, আর এখন কোথায় এসেছি। মাত্র ১০ বছরে এই পরিবর্তন হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে বলে। আর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পেরেছে তরুণ প্রজন্ম ভোট দিয়েছে বলে।

তিনি জানান, বেসরকারি খাত উৎসাহিত করতে তার সরকার ৪৪টি টেলিভিশনের লাইসেন্স দিয়েছে। তবে তিনি জানান, এতগুলো টেলিভিশন লাইসেন্স দেয়ায় ভুক্তভোগী তারাই।

সরকার প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৮টি হাইটেক পার্ক করার পরিকল্পনা নিয়েছি আমরা। ইতোমধ্যে দুটি হয়েছে। ৩৫৫ একর জমির ওপর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগ আসবে। আমরা ডিজিটাল ডিভাইস রপ্তানি করতে পারব। তরুণদের কর্মসংস্থানের আর অভাব হবে না।

ট্যাক্স কমানোর দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কথায় কথায় ট্যাক্স কমানোর দাবি করলে উন্নয়ন হবে কীভাবে! ট্যাক্স দিচ্ছে বলেই বাজেট সাত গুণ বৃদ্ধি করতে পেরেছি। সবচেয়ে বড় কথা বাইরের কাছে হাত পাততে হচ্ছে না। এটা আমাদের জন্য সম্মানের। সেই সম্মানটা ধরে রাখতে চাই। আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

তবে অর্থমন্ত্রী ট্যাক্স মাফ করে দিলে তার করার কিছু নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।