ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক, বঙ্গভবনের আইসিটি কর্মকর্তা ছরওয়ারে আলম আটক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক সহকারী প্রোগ্রামারকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক ব্যক্তির নাম ছরওয়ারে আলম বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে রাজধানীর ফকিরাপুলের এজিবি কলোনিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে ডিবির একটি বিশেষ টিম।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি প্রধান) শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান,
“বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার ছরওয়ারে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তার কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।”

ডিজিটাল আলামত জব্দ

ডিবি সূত্র জানায়, অভিযানের সময় তার কাছ থেকে কয়েকটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস থেকে হ্যাকিংয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইবার ইউনিট ইতোমধ্যে আলামত বিশ্লেষণ শুরু করেছে।

সম্প্রতি জামায়াত আমিরের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর ও বিতর্কিত কিছু পোস্ট প্রকাশিত হয়, যা পরে দলটির পক্ষ থেকে “হ্যাকড” বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই পোস্টগুলোর জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে।
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘অভ্যন্তরীণ অ্যাক্সেস’ বিষয়টি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন—
অ্যাকাউন্টে কীভাবে প্রবেশ করা হয়েছে
কোনো ফিশিং বা ম্যালওয়্যার ব্যবহার হয়েছে কি না
নাকি কারও মাধ্যমে সরাসরি লগইন তথ্য ফাঁস হয়েছে
বঙ্গভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন প্রযুক্তি কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকায় বিষয়টি অধিক গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ
ডিবি জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে মামলা দায়ের বা রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।

পুলিশ বলছে,
“ডিজিটাল অপরাধে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ডিবি।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক, বঙ্গভবনের আইসিটি কর্মকর্তা ছরওয়ারে আলম আটক

প্রকাশিত: ০৮:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক সহকারী প্রোগ্রামারকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক ব্যক্তির নাম ছরওয়ারে আলম বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে রাজধানীর ফকিরাপুলের এজিবি কলোনিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে ডিবির একটি বিশেষ টিম।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি প্রধান) শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান,
“বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার ছরওয়ারে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তার কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।”

ডিজিটাল আলামত জব্দ

ডিবি সূত্র জানায়, অভিযানের সময় তার কাছ থেকে কয়েকটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস থেকে হ্যাকিংয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইবার ইউনিট ইতোমধ্যে আলামত বিশ্লেষণ শুরু করেছে।

সম্প্রতি জামায়াত আমিরের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর ও বিতর্কিত কিছু পোস্ট প্রকাশিত হয়, যা পরে দলটির পক্ষ থেকে “হ্যাকড” বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই পোস্টগুলোর জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে।
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘অভ্যন্তরীণ অ্যাক্সেস’ বিষয়টি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন—
অ্যাকাউন্টে কীভাবে প্রবেশ করা হয়েছে
কোনো ফিশিং বা ম্যালওয়্যার ব্যবহার হয়েছে কি না
নাকি কারও মাধ্যমে সরাসরি লগইন তথ্য ফাঁস হয়েছে
বঙ্গভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন প্রযুক্তি কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকায় বিষয়টি অধিক গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ
ডিবি জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে মামলা দায়ের বা রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।

পুলিশ বলছে,
“ডিজিটাল অপরাধে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ডিবি।