
চট্টগ্রাম নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, “প্লাস্টিক আমাদের নগরের পরিবেশের এক নম্বর শত্রু। এই শত্রুকে পরাজিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মাদারবাড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) যৌথ উদ্যোগে “প্লাস্টিক রিটার্ন শপ” কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মেয়র।
‘ফেলনা প্লাস্টিক জমা দিন, চিকিৎসা ও নিত্যপণ্য নিন’—এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের আওতায় নগরবাসী প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিকিৎসা সেবা ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাচ্ছেন। উদ্বোধনী দিনে প্রায় এক হাজার পরিবার প্লাস্টিকের বিনিময়ে বাজার করেন এবং ৫০০ জন চিকিৎসা সেবা নেন।
বিদ্যানন্দ ও চসিকের এই যৌথ প্রকল্পে ২ লাখ কেজি পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সংস্থাদ্বয় ১ লাখ কেজি প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছে। নতুন পর্যায়ে এখন থেকে পলিথিনসহ সব ধরনের প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হবে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড ডিরেক্টর মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে মানবজাতির অস্তিত্বের বড় হুমকি প্লাস্টিক দূষণ। নদী, প্রাণীকুল ও পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।”
তিনি জানান, সংগৃহীত প্লাস্টিক শতভাগ রিসাইকেল করতে দেশের স্বনামধন্য রিসাইকেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। জনসচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সংগৃহীত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হবে ‘প্লাস্টিক ভাস্কর্য’, যা ১০ লাখ পর্যটককে সচেতন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিটি মেয়র বলেন, “নগরবাসীকে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক থেকে বিরত রাখা, জনগণকে সচেতন করা এবং রিসাইকেল সংস্কৃতিকে জনপ্রিয় করতে আমরা ছয় মাসব্যাপী এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি, যা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত হবে।”
মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 



















