
মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবারও ‘শুল্ক বোমা’ ফেললেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই এবার সেমিকন্ডাক্টর চিপে ১০০% শুল্ক বসানোর হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর দেশগুলোর মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে—বিশেষ করে ভারত, চীন, তাইওয়ান ও জাপানে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন,
“আমরা সস্তা বিদেশি পণ্যে নিজেদের শিল্প ধ্বংস হতে দিতে পারি না। চিপ তৈরি হবে আমেরিকায়। বাইরে থেকে কেউ আনতে চাইলে ১০০% শুল্ক দিতে হবে।”
ব্লুমবার্গ, রয়টার্স, সিএনবিসি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইতিমধ্যেই এ ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। রিপাবলিকান হেডকোয়ার্টার থেকেও ট্রাম্পের বক্তব্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণা ভারতের জন্য বেশ উদ্বেগজনক। কারণ, দেশটি এখনো সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং মার্কিন প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যদিও ‘India Semiconductor Mission’-এর মাধ্যমে আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে ভারত, বাস্তবে দেশের চিপ আমদানির বড় অংশই আসে আমেরিকা, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে।
২০২২ সালে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার ছিল ২৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে ৫০ বিলিয়নে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী পাঁচ বছরে বাজারটি ১০০–১১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু দেশে পূর্ণাঙ্গ চিপ উৎপাদন ও ডিজাইনের অবকাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি। ফলে আমদানি ব্যয় দ্বিগুণ হলে মোবাইল, ইলেকট্রনিকস, গাড়ি, এমনকি চিকিৎসা সরঞ্জামের দামও বেড়ে যাবে।
এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার দায়ে ভারতকে ‘শাস্তি’ দিতে ট্রাম্প প্রশাসন ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। এবার তার ধারাবাহিকতায় আরও কঠিন শুল্ক নীতি ভারতের প্রযুক্তি খাতে নতুন সঙ্কট ডেকে আনতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে গুজরাট, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতে টাটা, মাইক্রন, ফক্সকন ও অ্যাম্প্যাক-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যেসব সেমিকন্ডাক্টর কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে, সেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ’ কৌশল নির্বাচনী সুবিধা দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু ভারতের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি অর্থনীতির জন্য তা এক ভয়াবহ ধাক্কা হতে পারে।
দেশ বাংলা অনলাইন 

























