ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে আটক অফিস সহকারী

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে ঘুষ গ্রহণকালে এক অফিস সহকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে। আটককৃত ব্যক্তির নাম শাহ আলম (৪৮)। তিনি বাঁশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিবার পরিকল্পনা সহকারী কাম অফিস সহকারী (পিয়ন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এ অভিযানটি পরিচালনা করে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহায়ক কাম নিরাপত্তা প্রহরী আ ন ম মুদ্দাছেরুল হক মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে তার বকেয়া ভাতা ও পেনশনের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ করে লিখিত আবেদন করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ফাইল ট্রেজারিতে পাঠানোসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার নামে শাহ আলম তার কাছে ঘুষ দাবি করে আসছিলেন।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশনের অনুমোদনক্রমে বুধবার সকালে দুদকের একটি ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় অভিযুক্ত শাহ আলমকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার অফিসের ড্রয়ার থেকে ঘুষের টাকা উদ্ধার করা হয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুর্নীতি দমন কমিশন, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ জানান, অবসরকালীন সময়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আ ন ম মুদ্দাছেরুল হক মাসুদের কাছ থেকে অফিসের কাগজপত্র ঠিক করার জন্য মোট ৯০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। প্রথম দফায় ব্যাংক চেকের মাধ্যমে কিছু টাকা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে বারবার চাপ সৃষ্টি করে আবারও ২০ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করা হয়। এই সময় দুদকের টিম অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অভিযোগকারী আ ন ম মুদ্দাছেরুল হক মাসুদ বলেন, চাকরি থেকে অবসরের পর তার ফাইল ট্রেজারিতে পাঠানোর জন্য শাহ আলম অফিস খরচের নামে ৯০ হাজার টাকা দাবি করেন। নানা ধরনের হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে তিনি ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (এমসিএইচ) ডা. শামীমা আক্তার বলেন, অফিস সহকারী হিসেবে তার এমন আচরণ আগে চোখে পড়েনি। তদন্তে প্রকৃত বিষয় বেরিয়ে আসবে।
অভিযানকালে তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন, সহকারী পরিচালক জসীম উদ্দীন, উপ-সহকারী পরিচালক সুরাইয়া সুলতানা ও আবুল হাসান এবং বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার।

 

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে আটক অফিস সহকারী

প্রকাশিত: ১০:০৭:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে ঘুষ গ্রহণকালে এক অফিস সহকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে। আটককৃত ব্যক্তির নাম শাহ আলম (৪৮)। তিনি বাঁশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিবার পরিকল্পনা সহকারী কাম অফিস সহকারী (পিয়ন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এ অভিযানটি পরিচালনা করে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহায়ক কাম নিরাপত্তা প্রহরী আ ন ম মুদ্দাছেরুল হক মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে তার বকেয়া ভাতা ও পেনশনের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ করে লিখিত আবেদন করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ফাইল ট্রেজারিতে পাঠানোসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার নামে শাহ আলম তার কাছে ঘুষ দাবি করে আসছিলেন।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশনের অনুমোদনক্রমে বুধবার সকালে দুদকের একটি ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় অভিযুক্ত শাহ আলমকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার অফিসের ড্রয়ার থেকে ঘুষের টাকা উদ্ধার করা হয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুর্নীতি দমন কমিশন, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ জানান, অবসরকালীন সময়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আ ন ম মুদ্দাছেরুল হক মাসুদের কাছ থেকে অফিসের কাগজপত্র ঠিক করার জন্য মোট ৯০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। প্রথম দফায় ব্যাংক চেকের মাধ্যমে কিছু টাকা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে বারবার চাপ সৃষ্টি করে আবারও ২০ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করা হয়। এই সময় দুদকের টিম অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অভিযোগকারী আ ন ম মুদ্দাছেরুল হক মাসুদ বলেন, চাকরি থেকে অবসরের পর তার ফাইল ট্রেজারিতে পাঠানোর জন্য শাহ আলম অফিস খরচের নামে ৯০ হাজার টাকা দাবি করেন। নানা ধরনের হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে তিনি ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (এমসিএইচ) ডা. শামীমা আক্তার বলেন, অফিস সহকারী হিসেবে তার এমন আচরণ আগে চোখে পড়েনি। তদন্তে প্রকৃত বিষয় বেরিয়ে আসবে।
অভিযানকালে তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন, সহকারী পরিচালক জসীম উদ্দীন, উপ-সহকারী পরিচালক সুরাইয়া সুলতানা ও আবুল হাসান এবং বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার।