ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কৃতি সাংবাদিক সম্মাননা পেলেন সাংবাদিক শামসুল হক হায়দরী

শামসুল হক হায়দরীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম ধলই গ্রামে সনামধন্য এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম শামসুল হক হায়দরীর। তাঁর পিতা ছিলেন মরহুম দুলামিয়া চৌধুরী, মাতার নাম উম্মে খায়ের।
ছাত্র জীবনেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনে যোগ দেন সক্রিয় কর্মী হিসাবে। স্বাভাবিক কারণে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী দেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা, অস্ত্র সংগ্রহের ঘটনায় আটক হন পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর হাতে। এসময় আপন চাচাত ভাই শাহাদাত হোসেন, কে এম শাখাওয়াত হোসেন ও ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল সহ সেনা বাহিনীর হাতে বন্দী অবস্থায় নির্মম নির্যাতন সহ কারাবরণ করেছেন। বছর দুয়েক আগে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে শামসুল হক হায়দরীকে সম্মাননা জানিয়েছে টিভি জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় হয়। এ দিন বিজয়ানন্দের বহি:প্রকাশ ঘটান চট্টগ্রামের নন্দনকাননে কয়েক বন্ধু মিলে এক পাতার একটি টেবলয়েড সাইজ পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। এই তরুনদল সেদিন নিজেরা সম্পাদক, নিজেরা প্রকাশক ও নিজেরাই হকার হয়ে সে পত্রিকা বিক্রি করেন মহানন্দে। পরবর্তীতে পেশা হিসাবে সাংবাদিকতা বেছে নেয়ার প্রেরণা সেখান থেকেই।
শামসুল হক হায়দরীর প্রায় পাঁচ দশকের সাংবাদিকতায় একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা এবং সংবাদ সংস্থার হয়ে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন। পেশাগত মানোন্নয়ন সহ অব্যাহত জানার আগ্রহ থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন লেখালেখির মতো মননশীল কাজ। ফলশ্রুতিতে এ পর্যন্ত উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প মিলিয়ে তাঁর সাতটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, প্রায় বিলুপ্ত হতে চলা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় প্রথম ও একমাত্র উপন্যাসটি লিখেছেন শামসুল হক হায়দরী। ২০১৮ সালের বই মেলায় ‘তোতাপাখির দিস্তান’ নামের উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে বলাকা প্রকাশন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সদা সক্রিয় একজন কর্মী ছিলেন শামসুল হক হায়দরী। বাংলাদেশে গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের সূচনা লগ্নের একজন কর্মী তিনি। নিজের নাট্যদল ‘ধ্রুপদী’ প্রযোজনা করেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাটক। দলের প্রয়োজনে নাটক লিখতে হয়েছে অনেক। তাঁর লেখা নাটক দেশে বিদেশে মঞ্চস্থ হয়েছে। রেডিও এবং টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক একক ও ধারাবাহিক নাটক। ‘জার্নি টু আনসার্টেনিটি’ নামের একটি বিশেষ প্রামাণ্য চিত্রেরও নির্মাতা তনি।
শামসুল হক হায়দরী প্রায় পাঁচ দশক ধরে সাংবাদিকতায় নিবেদিত। এর বেশীরভাগ সময় যুক্ত থেকেছেন পেশা সংশ্লিস্ট নানা সাংগঠনিক তৎপরতায়। যার ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোটার্স কাউন্সিল ও সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির নির্বাচিত কর্মকর্তা হিসাবে বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবং টিভি জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও তিনি। ২০০৩ সালে প্রিন্ট মিডিয়া থেকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যোগ দেন। জনপ্রিয় সেটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এন টিভির সম্প্রচার শুরু থেকে চট্টগ্রাম অফিসের প্রধান হিসাবে কর্মরত তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে দুই কন্যা সন্তানের জনক শামসুল হক হায়দরী।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

কৃতি সাংবাদিক সম্মাননা পেলেন সাংবাদিক শামসুল হক হায়দরী

প্রকাশিত: ০৮:০৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯

শামসুল হক হায়দরীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম ধলই গ্রামে সনামধন্য এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম শামসুল হক হায়দরীর। তাঁর পিতা ছিলেন মরহুম দুলামিয়া চৌধুরী, মাতার নাম উম্মে খায়ের।
ছাত্র জীবনেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনে যোগ দেন সক্রিয় কর্মী হিসাবে। স্বাভাবিক কারণে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী দেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা, অস্ত্র সংগ্রহের ঘটনায় আটক হন পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর হাতে। এসময় আপন চাচাত ভাই শাহাদাত হোসেন, কে এম শাখাওয়াত হোসেন ও ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল সহ সেনা বাহিনীর হাতে বন্দী অবস্থায় নির্মম নির্যাতন সহ কারাবরণ করেছেন। বছর দুয়েক আগে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে শামসুল হক হায়দরীকে সম্মাননা জানিয়েছে টিভি জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় হয়। এ দিন বিজয়ানন্দের বহি:প্রকাশ ঘটান চট্টগ্রামের নন্দনকাননে কয়েক বন্ধু মিলে এক পাতার একটি টেবলয়েড সাইজ পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। এই তরুনদল সেদিন নিজেরা সম্পাদক, নিজেরা প্রকাশক ও নিজেরাই হকার হয়ে সে পত্রিকা বিক্রি করেন মহানন্দে। পরবর্তীতে পেশা হিসাবে সাংবাদিকতা বেছে নেয়ার প্রেরণা সেখান থেকেই।
শামসুল হক হায়দরীর প্রায় পাঁচ দশকের সাংবাদিকতায় একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা এবং সংবাদ সংস্থার হয়ে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন। পেশাগত মানোন্নয়ন সহ অব্যাহত জানার আগ্রহ থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন লেখালেখির মতো মননশীল কাজ। ফলশ্রুতিতে এ পর্যন্ত উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প মিলিয়ে তাঁর সাতটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, প্রায় বিলুপ্ত হতে চলা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় প্রথম ও একমাত্র উপন্যাসটি লিখেছেন শামসুল হক হায়দরী। ২০১৮ সালের বই মেলায় ‘তোতাপাখির দিস্তান’ নামের উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে বলাকা প্রকাশন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সদা সক্রিয় একজন কর্মী ছিলেন শামসুল হক হায়দরী। বাংলাদেশে গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের সূচনা লগ্নের একজন কর্মী তিনি। নিজের নাট্যদল ‘ধ্রুপদী’ প্রযোজনা করেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাটক। দলের প্রয়োজনে নাটক লিখতে হয়েছে অনেক। তাঁর লেখা নাটক দেশে বিদেশে মঞ্চস্থ হয়েছে। রেডিও এবং টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক একক ও ধারাবাহিক নাটক। ‘জার্নি টু আনসার্টেনিটি’ নামের একটি বিশেষ প্রামাণ্য চিত্রেরও নির্মাতা তনি।
শামসুল হক হায়দরী প্রায় পাঁচ দশক ধরে সাংবাদিকতায় নিবেদিত। এর বেশীরভাগ সময় যুক্ত থেকেছেন পেশা সংশ্লিস্ট নানা সাংগঠনিক তৎপরতায়। যার ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোটার্স কাউন্সিল ও সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির নির্বাচিত কর্মকর্তা হিসাবে বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবং টিভি জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও তিনি। ২০০৩ সালে প্রিন্ট মিডিয়া থেকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যোগ দেন। জনপ্রিয় সেটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এন টিভির সম্প্রচার শুরু থেকে চট্টগ্রাম অফিসের প্রধান হিসাবে কর্মরত তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে দুই কন্যা সন্তানের জনক শামসুল হক হায়দরী।