ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কলাউজানে টংকাবতী খালের ভাঙন! আতংকে খাল পাড়ের বাসিন্দারা, সার্ভে করতে পাউবো টিম

রায়হান সিকদারঃ

 

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৮নাম্বার ওয়ার্ডের টংকাবতী খালের পার্শ্বে মিয়াজি পাড়ার অনেক পরিবার বসবাস করছে। পূর্ব কলাউজানে একই ওয়ার্ড সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে কলাউজান দারুসুন্নাহ আলিম মাদরাসা, তিন গ্রামের সংযোগস্থল মিয়াজি পাড়া,সিকদার পাড়া, আদারচর সহ প্রায় ৭ শত পরিবারের এলাকার মানুষ বসবাস করছে। ভারি বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে খালের গভিরতা বৃদ্ধি পায়। বর্ষা শুরু হলেই আগ্রাসী হয়ে উঠে এ টংকাবতি খালটি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ের ভাঙনে এসব এলাকার পার্শ্বে বেশকিছু অংশ খালগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আতংকে রয়েছে টংকাবতী খাল পাড়ের সকল বাসিন্দাদের।

খাল পাড়ের বাসিন্দাদের বসবাসের কথা দৃষ্টিগোচর হলে ৪আগস্ট সকালে সার্ভে করতে আসেন চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) এর টিম।

টংকাবতী খাল পাড়ের ভাঙন এলাকা
সার্ভে করেতে আসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার মাজহারুল ইসলাম ইফতি, কার্য সহকারি গিয়াস উদ্দিনসহ অন্যরা।

এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আইয়ুব, লোহাগাড়া উপজেলা এনসিপির সদস্য এইচআর শহিদসহ স্থানীয় গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গগন উপস্থিত ছিলেন

মিয়াজি পাড়ার বাসিন্দা বদরুদ্দীন উমর বলেন, আমরা অনেক কস্ট করে খাল পাড়ে বসবাস করে যাচ্ছি। পাহাড়ি ঢলে খালের অংশ ভেঙে ভেঙে অনেক বড় হয়ে গেছে,আমাদের বসতঘর বিলীন হওয়ার শংঙ্কায় রয়েছি। এলাকার মানুষ আতংকে আতংকে দিন কাটাতে হচ্ছে।

কলাউজান দারুস সুন্নাহ আলীম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাশেম বলেন, আমাদের মাদ্রাসার পার্শ্বে রয়েছে টংকাবতি খাল। খালের পাশে অনেক মানুষ বসবাস করে। খালের ভাঙন তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়ায় অনেক কস্ট পোহাতে হচ্ছে।আশা করছি, পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত সময়ে কাজ করবে।

লোহাগাড়া উপজেলা এনসিপির সদস্য এইচআর শহিদ বলেন, টংকাবতী খালের পার্শ্বে যে কয়েকটি পাড়া রয়েছে পাহাড়ি ঢলে খাল ভেঙে যাচ্ছে। কস্টে দিন যাপন করছে এলাকার মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে ভাঙন এলাকাটি সার্ভে করার জন্য টিম এসেছেন। আমরা দ্রুত সময়ে খালের পাড় সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

কলাউজান ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, আমার ওয়ার্ডের সবচেয়ে অবহেলিত গ্রাম মিয়াজি পাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম। ভারি বর্ষণে টংকাবতী খাল ভেঙে তীব্র আকার ধারণ করছে। ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড অবগত হলে সার্ভে করতে টিম এসেছে। আমি আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খালের পাড়ের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সংস্কারের পদক্ষেপ নিবেন।

কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুট্টু বলেন, টংকাবতী খালের ভাঙন এলাকাটি পানি উন্নয়ন বোর্ড কে এলাকার পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়। ইতিমধ্যে পাউবো এর টিম পরিদর্শন করে সার্ভেয়ার দ্বারা সার্ভে করা হয়েছে। আমরা দ্রুত সময়ে সেটির বাস্তবায়ন দেখতে পাবো।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী(শাখা কর্মকর্তা) মাহবুব আলম বলেন,বিষয়টি এলাকার মানুষ আমাদেরকে অবগত করলে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি।পাউবো সার্ভেয়ারকে সার্ভে করতে পাঠিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

কলাউজানে টংকাবতী খালের ভাঙন! আতংকে খাল পাড়ের বাসিন্দারা, সার্ভে করতে পাউবো টিম

প্রকাশিত: ০৪:২৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

রায়হান সিকদারঃ

 

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৮নাম্বার ওয়ার্ডের টংকাবতী খালের পার্শ্বে মিয়াজি পাড়ার অনেক পরিবার বসবাস করছে। পূর্ব কলাউজানে একই ওয়ার্ড সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে কলাউজান দারুসুন্নাহ আলিম মাদরাসা, তিন গ্রামের সংযোগস্থল মিয়াজি পাড়া,সিকদার পাড়া, আদারচর সহ প্রায় ৭ শত পরিবারের এলাকার মানুষ বসবাস করছে। ভারি বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে খালের গভিরতা বৃদ্ধি পায়। বর্ষা শুরু হলেই আগ্রাসী হয়ে উঠে এ টংকাবতি খালটি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ের ভাঙনে এসব এলাকার পার্শ্বে বেশকিছু অংশ খালগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আতংকে রয়েছে টংকাবতী খাল পাড়ের সকল বাসিন্দাদের।

খাল পাড়ের বাসিন্দাদের বসবাসের কথা দৃষ্টিগোচর হলে ৪আগস্ট সকালে সার্ভে করতে আসেন চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) এর টিম।

টংকাবতী খাল পাড়ের ভাঙন এলাকা
সার্ভে করেতে আসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার মাজহারুল ইসলাম ইফতি, কার্য সহকারি গিয়াস উদ্দিনসহ অন্যরা।

এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আইয়ুব, লোহাগাড়া উপজেলা এনসিপির সদস্য এইচআর শহিদসহ স্থানীয় গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গগন উপস্থিত ছিলেন

মিয়াজি পাড়ার বাসিন্দা বদরুদ্দীন উমর বলেন, আমরা অনেক কস্ট করে খাল পাড়ে বসবাস করে যাচ্ছি। পাহাড়ি ঢলে খালের অংশ ভেঙে ভেঙে অনেক বড় হয়ে গেছে,আমাদের বসতঘর বিলীন হওয়ার শংঙ্কায় রয়েছি। এলাকার মানুষ আতংকে আতংকে দিন কাটাতে হচ্ছে।

কলাউজান দারুস সুন্নাহ আলীম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাশেম বলেন, আমাদের মাদ্রাসার পার্শ্বে রয়েছে টংকাবতি খাল। খালের পাশে অনেক মানুষ বসবাস করে। খালের ভাঙন তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়ায় অনেক কস্ট পোহাতে হচ্ছে।আশা করছি, পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত সময়ে কাজ করবে।

লোহাগাড়া উপজেলা এনসিপির সদস্য এইচআর শহিদ বলেন, টংকাবতী খালের পার্শ্বে যে কয়েকটি পাড়া রয়েছে পাহাড়ি ঢলে খাল ভেঙে যাচ্ছে। কস্টে দিন যাপন করছে এলাকার মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে ভাঙন এলাকাটি সার্ভে করার জন্য টিম এসেছেন। আমরা দ্রুত সময়ে খালের পাড় সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

কলাউজান ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, আমার ওয়ার্ডের সবচেয়ে অবহেলিত গ্রাম মিয়াজি পাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম। ভারি বর্ষণে টংকাবতী খাল ভেঙে তীব্র আকার ধারণ করছে। ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড অবগত হলে সার্ভে করতে টিম এসেছে। আমি আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খালের পাড়ের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সংস্কারের পদক্ষেপ নিবেন।

কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুট্টু বলেন, টংকাবতী খালের ভাঙন এলাকাটি পানি উন্নয়ন বোর্ড কে এলাকার পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়। ইতিমধ্যে পাউবো এর টিম পরিদর্শন করে সার্ভেয়ার দ্বারা সার্ভে করা হয়েছে। আমরা দ্রুত সময়ে সেটির বাস্তবায়ন দেখতে পাবো।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী(শাখা কর্মকর্তা) মাহবুব আলম বলেন,বিষয়টি এলাকার মানুষ আমাদেরকে অবগত করলে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি।পাউবো সার্ভেয়ারকে সার্ভে করতে পাঠিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।