ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কওমি সনদের বিল পাশঃ প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন আল্লামা আহমদ শফি

দেশবাংলা ডেস্কঃ

কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের (স্নাতকোত্তর ডিগ্রি) সমমর্যাদা দিয়ে তৈরি করা বহুল প্রতিক্ষিত কওমী সনদের স্বীকৃতির বিল জাতীয় সংসদে অনুমোদন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার, শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন আমীরে হেফাজত, হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক, কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কওমী শিক্ষাব্যবস্থার স্বীকৃতি দেশের লাখো আলেম-ছাত্র সমাজের প্রাণের দাবী ছিলো। দীর্ঘদিন যাবত আমরা এ জন্য চেষ্টা করে আসছি। জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে বিলটি পাশ হওয়ায় আমাদের দাবী পূর্ণতা পেলো। আগামী প্রজন্মের পথচলা আরো সুগম হলো।

কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শফী আরো বলেন, কওমী শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের (স্নাতকোত্তর ডিগ্রি) সমমর্যাদা দেয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি সাহিত্যে দুই বিষয়ের মাস্টার্সের মর্যাদা পাবে দাওরায়ে হাদিস। ফলে কওমী শিক্ষার্থিদের খেদমতের পরিধি বৃদ্ধি পেলো। আমাদের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে সমাজে-দেশে দুর্নীতি, অনিয়ম, সুদ-ঘুষের প্রচলন হ্রাস পাবে।

 

আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরো বলেন, সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, আমাদের সব শর্ত মেনে দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতি অনুসারে দেশের ওলামায়ে কেরাম ও আমরা দায়িত্বশীলগণ যেভাবে চেয়েছিলাম ঠিক সেভাবেই স্বীকৃতি পেয়েছি। আমরা মনে করি, এতে কওমী মাদরাসার স্বকিয়তা, ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তিতে কোন আঘাত আসবে না।

 

তিনি আরো বলেন, এ আন্দোলনের অন্যতম আহবানকারী বেফাকের প্রথম মহাসচিব শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, জাতীয় মসজিদের ইমাম উবায়দুল হক, আল্লামা আতাউর রহমান, আল্লামা মুফতি আমিনী, মাওলানা আব্বুল জাব্বার জাহানাবাদীসহ বেফাকের সঙ্গে জড়িত সকলকে বিশেষভাবে স্মরণ করছি।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমর্যাদা ঘোষণা করে সরকার। ঐ দিন গণভবনে আলেমদের এক অনুষ্ঠানে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ) চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আলোকেই এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, কওমি মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিগুলোকে ভিত্তি করে এই সমমান দেয়া হল। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ সমমান দেয়ার লক্ষ্যে বেফাক সভাপতি (পদাধিকার বলে) আল্লামা শফীর নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কমিটিতে সরকারের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি।

 

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

কওমি সনদের বিল পাশঃ প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন আল্লামা আহমদ শফি

প্রকাশিত: ০১:১২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দেশবাংলা ডেস্কঃ

কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের (স্নাতকোত্তর ডিগ্রি) সমমর্যাদা দিয়ে তৈরি করা বহুল প্রতিক্ষিত কওমী সনদের স্বীকৃতির বিল জাতীয় সংসদে অনুমোদন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার, শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন আমীরে হেফাজত, হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক, কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কওমী শিক্ষাব্যবস্থার স্বীকৃতি দেশের লাখো আলেম-ছাত্র সমাজের প্রাণের দাবী ছিলো। দীর্ঘদিন যাবত আমরা এ জন্য চেষ্টা করে আসছি। জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে বিলটি পাশ হওয়ায় আমাদের দাবী পূর্ণতা পেলো। আগামী প্রজন্মের পথচলা আরো সুগম হলো।

কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শফী আরো বলেন, কওমী শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের (স্নাতকোত্তর ডিগ্রি) সমমর্যাদা দেয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি সাহিত্যে দুই বিষয়ের মাস্টার্সের মর্যাদা পাবে দাওরায়ে হাদিস। ফলে কওমী শিক্ষার্থিদের খেদমতের পরিধি বৃদ্ধি পেলো। আমাদের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে সমাজে-দেশে দুর্নীতি, অনিয়ম, সুদ-ঘুষের প্রচলন হ্রাস পাবে।

 

আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরো বলেন, সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, আমাদের সব শর্ত মেনে দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতি অনুসারে দেশের ওলামায়ে কেরাম ও আমরা দায়িত্বশীলগণ যেভাবে চেয়েছিলাম ঠিক সেভাবেই স্বীকৃতি পেয়েছি। আমরা মনে করি, এতে কওমী মাদরাসার স্বকিয়তা, ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তিতে কোন আঘাত আসবে না।

 

তিনি আরো বলেন, এ আন্দোলনের অন্যতম আহবানকারী বেফাকের প্রথম মহাসচিব শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, জাতীয় মসজিদের ইমাম উবায়দুল হক, আল্লামা আতাউর রহমান, আল্লামা মুফতি আমিনী, মাওলানা আব্বুল জাব্বার জাহানাবাদীসহ বেফাকের সঙ্গে জড়িত সকলকে বিশেষভাবে স্মরণ করছি।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমর্যাদা ঘোষণা করে সরকার। ঐ দিন গণভবনে আলেমদের এক অনুষ্ঠানে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ) চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আলোকেই এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, কওমি মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিগুলোকে ভিত্তি করে এই সমমান দেয়া হল। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ সমমান দেয়ার লক্ষ্যে বেফাক সভাপতি (পদাধিকার বলে) আল্লামা শফীর নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কমিটিতে সরকারের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি।