
চোখের সামনে সাগরের নোনা জলে জীবন কাটানো ৭ প্রবাসীর দেহ এবার ফিরবে নিথর হয়ে। ওমানের দুকুম সিদরা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নের সাতজন প্রবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার (৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেলে ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের সবাই দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ ধরার পেশায় যুক্ত ছিলেন। ওমানের উপকূলীয় দুকুম অঞ্চলে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করতেন, একসঙ্গে থাকতেন—সেই একসঙ্গেই শেষ হলো তাদের জীবনযাত্রা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মী শিপন এবং সজীব চৌধুরী জানান, দুপুরে মাছ ধরার কাজ শেষ করে তাঁরা আবাসস্থলে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দুকুম সিদরা এলাকায় পৌঁছালে বেপরোয়া গতির একটি গাড়ি তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—আলী আকবার সেরাংয়ের ছেলে মোহাম্মদ আমিন সওদাগর, শহীদ উল্লার ছেলে আরজু, মনু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ বাবলু, সিদ্দিক আহমেদের ছেলে সাহাব উদ্দিন, ইব্রাহিম মিস্ত্রির ছেলে মোহাম্মদ রকি, এবং জামাল উদ্দিনের ছেলে জুয়েল। আরেকজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
বর্তমানে মরদেহগুলো দুকুম হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি তদারকি করছে বলে জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে সারিকাইত ইউনিয়নজুড়ে। নিহতদের গ্রামের বাড়িগুলোতে চলছে আহাজারি, কান্নার রোল উঠেছে স্বজনদের মাঝে। কেউ হারিয়েছেন স্বামী, কেউ সন্তান—সবার বুকেই হাহাকার।
প্রবাস জীবনের কষ্ট আর পরিশ্রমের গল্পে ভরা ছিল এই সাতজনের জীবন। জীবিকার টানে দূর পরবাসে গিয়েছিলেন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তু সেই প্রবাসই কেড়ে নিল তাঁদের প্রাণ।
সন্দ্বীপবাসী বলছেন, “ওমানের সেই সাগরই ছিল তাদের রোজগারের আশ্রয়, আজ সেই দেশ থেকেই ফিরবে তাদের লাশ।”
বিদেশে পরিশ্রমী প্রবাসীদের এমন মৃত্যুতে শোক ও বেদনায় নীরব সারিকাইত—একটি ইউনিয়নের হৃদয় যেন থমকে গেছে।
মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 



















