
প্রিয় এসএসসি/সমমান পরীক্ষার্থীবৃন্দ, ছাত্রজীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এসে তোমরা উপনীত হয়েছো। তোমাদের পরীক্ষা সন্নিকটে। বিভিন্ন কারণে পরীক্ষা শুরুর আগে আর মাত্র কয়েকদিন এবং পরীক্ষা চলাকালীন সময়টি তোমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বুনিয়াদ বা ভিত্তি স্থাপনের সবচেয়ে উত্তম সময় হচ্ছে এটি। প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার পথচলা শুরুর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময় হচ্ছে এটি। নিজেকে এই পৃথিবীর যোগ্য ও উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস চালাবার শ্রেষ্ঠ সময় হচ্ছে এটি। মূলত এই সময়ের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই তুমি তোমার ভবিষ্যৎকে অনেকটা আয়নার মতো স্পষ্ট দেখতে পাবে। তাই, এখন সময়ের বিন্দুমাত্র অবহেলা করা যাবে না। সময়কে তুমি যত বেশি সঠিকভাবে কাজে লাগাবে সময় তোমাকে তত বেশি উত্তম প্রতিদান দিবে।ছাত্রজীবনে অনেক শিক্ষার্থী বয়সের তাড়নায় হোক, আবেগের বশে হোক, না বুঝে হোক, সঠিক গাইডলাইন বা সচেতনতার অভাবে হোক অনেক সময় নষ্ট করে ফেলে। পরক্ষণে যখন বোধোদয় হয় তখন হয়তো সেই সময় তারা পায় না কিংবা সংশোধনের আর সুযোগ থাকে না। তাই, ছাত্রজীবনে সময়কে কাজে লাগানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।এবার আসি তোমাদের এসএসসি/সমমান পরীক্ষার বিষয়ে। পরীক্ষা যথাসময়ে, যথা নিয়মে অনুষ্ঠিত হবে। কেউ যদি ভালো প্রস্তুতি নিয়ে থাকে, তাহলেও পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময়ে হয়ে যাবে। আবার কেউ খারাপ প্রস্তুতি নিলেও পরীক্ষা হয়ে যাবে৷ এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্রস্তুতি ভালো নেওয়া কেন জরুরি? অনেক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে বড় কিছু হবার স্বপ্ন দেখে। যেমন— ডাক্তার, ব্যারিস্টার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, দার্শনিক, শিক্ষক, বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট, সফল ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা কিংবা সফল রাজনীতিবিদ ইত্যাদি। তাদের অভিভাবকরাও নিশ্চয়ই সেরূপ স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু স্বপ্নপূরণে শিক্ষার্থীর করণীয় কী, অভিভাবকের করণীয় কী সে বিষয়ে তারা যথেষ্ট সচেতন নন। বড় কিছু হতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে নিশ্চয়ই সবার আগে একটা লক্ষ্যস্থির করতে হবে। তারপর মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। পরীক্ষাসমূহে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করতে হবে। সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের পথ সুগম হয়ে থাকে। এসএসসি ও এইচএসসিতে প্রাপ্ত গ্রেডের উপর একটা স্কোর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সাথে যোগ করা হয় এবং মেধা তালিকা করা হয়। সেকারণে এই দুটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল থাকা অত্যন্ত জরুরি। তারপর অনার্স ও মাস্টার্সসহ সকল পরীক্ষার ফলাফল চাকুরি প্রাপ্তি এবং কর্মজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকুরিসহ যে কোনো চাকুরির ক্ষেত্রে ভালো ফলাফলের মূল্যায়ন করা হয়। এসব কারণে এসএসসি পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা অতিব জরুরি।২০২৫ সালের এসএসসি/সমমান পরীক্ষা প্রত্যাসন্ন। আবারও বলছি— এসএসসি/সমমানসহ জীবনে কোনো পরীক্ষাই তোমার জন্য অপেক্ষা করবে না। সুতরাং পরীক্ষার আগে সামনে যে সময়টুকু আছে এবং পরীক্ষা চলাকালীন সময়ের সঠিক ব্যবহার তোমাকে নিশ্চিত করতে হবে। এই সময়ে রুটিনমাফিক লেখাপড়া ও কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট টার্গেট সেট করে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হবে৷ কঠিন টপিকগুলো বেশি বেশি রিভাইজ দিতে হবে। ভালো ফলাফল অর্জনে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে; নিজের প্রস্তুতির উপর আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।শেষ সময়ে পুরনো পড়া ও গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো ভালোভাবে রিভাইজ করার পাশাপাশি না পারা বা কম পারা গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোর উপরও কিছুটা ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। পর্যাপ্ত পড়াশুনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বা পরিমাণমতো ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। এই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো খেলাধুলা না করাই ভালো।সবশেষে বলবো, সাফল্য অর্জনকে সহজ মনে করার কোনো সুযোগ নেই! আবার কঠিন মনে করারও কোনো কারণ নেই! তোমার কর্মফলই সাফল্য বা ব্যর্থতা হিসেবে তোমার চোখের সামনে দৃশ্যমান হবে৷ সুতরাং, লেখাপড়ায় ভালোভাবে মনোযোগী হও; নিয়মিত হও। তবেই সাফল্য অর্জন তোমার জন্য সহজ হবে! সকলের জন্য শুভকামনা।শরীফ উল্যাহ
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), মুন্সীগঞ্জ
সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার,লোহাগাড়া,চট্টগ্রাম।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 




















