ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়!

শহীদুল ইসলাম বাবর,দেশবাংলা.নেট

সাতকানিয়ার বাজালিয়ার পুরানগড় সড়কের সাথে লাগানো বিশাল মাঠ। মাঠে খেলারত স্কুল ড্রেস পরিহিত কিছু ক্ষুদে ফুটবলার। মাঠের উত্তরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বেড়া ও টিনের ছাউনির একটি ঘর। বাঁশের বেড়া ও টিন বেশ পুরাতন হয়ে যাওয়ায় দেখতে অনেকটা ঝুঁপড়ির মত দেখা যায়। ঘরটির পশ্চিম কোণে গাছে রয়েছে একটি সাইন বোর্ড। তাতে লিখা রয়েছে-দক্ষিণ শিলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তা বোঝানোর জন্য যেন একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে সাইনবোর্ডটি। কেননা যেখানে সাতকানিয়ার সবকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একের অধিক ভবন তৈরি হয়েছে, সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন জরাজীর্ণ দৃশ্য সত্যিই বেমানান বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জানান, এ বিদ্যালয়টিতে ভবন নির্মাণের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হবে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর ২০১৩ সালে সব রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। সেই থেকে এটিও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষকের স্থলে রয়েছেন চারজন। ৪ শিক্ষকই আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাহেদ উল্লাহ আমান জানান, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় সমাজ হিতৈষী মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী প্রায় ১ একর জমি দান করেন। এরপর স্থানীয় জনসধারণের সহযোগিতায় এখানে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার আগে দক্ষিণে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরত্বের বৈতরণী শহীদ সোলেমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তরে আড়াই কিলোমিটার দূরত্বে থাকা শিলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দক্ষিণ শিলঘাটার শিশু-কিশোরদের লেখাপড়া করতে হতো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব বেশি হওয়ার কারণে অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পেতেন। ফলে শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ার হারও বাড়তে থাকে। দক্ষিণ শিলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ডওয়াডা পাড়া ও নাছিরের খামার এলাকার শিশু-কিশোররা খুব সহজে স্কুলে আসা যাওয়া করতে পারছে। ফলে বাড়ছে শিক্ষার হারও। তবে সামান্য বৃষ্টি আর ঝড় হলে ক্লাস করা যায় না। বৃষ্টির পানিতে ক্লাসরুম পরিত্যক্ত থাকে। এছাড়াও রয়েছে পড়ার টেবিলের সংকট। বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ ফ ম মাহবুবুল হক সিকদার বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হওয়াতে নি:সন্দেহে এলাকাবাসী উপকৃত হচ্ছে। তাদের ছেলে মেয়েরা লেখা পড়া করতে পারছে। কিন্তু বিদ্যালয়টি অবকাঠামোর দিক থেকে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে পুরো সাতকানিয়ায় জরাজীর্ণ স্কুল নেই বললেই চলে। কিন্তু আমার এলাকার এ স্কুলটিতে কোনো পাকা দালান নেই। আমি অতিদ্রুত ভবন নির্মাণের জন্য এমপি মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, এ বিদ্যালয়ের বিষয়ে আমি খবরাখবর নিয়েছ্।ি বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। এখন এ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করি খুব কম সময়ের মধ্যেই এ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ করা হবে।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

এটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়!

প্রকাশিত: ১০:৩৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯

শহীদুল ইসলাম বাবর,দেশবাংলা.নেট

সাতকানিয়ার বাজালিয়ার পুরানগড় সড়কের সাথে লাগানো বিশাল মাঠ। মাঠে খেলারত স্কুল ড্রেস পরিহিত কিছু ক্ষুদে ফুটবলার। মাঠের উত্তরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বেড়া ও টিনের ছাউনির একটি ঘর। বাঁশের বেড়া ও টিন বেশ পুরাতন হয়ে যাওয়ায় দেখতে অনেকটা ঝুঁপড়ির মত দেখা যায়। ঘরটির পশ্চিম কোণে গাছে রয়েছে একটি সাইন বোর্ড। তাতে লিখা রয়েছে-দক্ষিণ শিলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তা বোঝানোর জন্য যেন একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে সাইনবোর্ডটি। কেননা যেখানে সাতকানিয়ার সবকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একের অধিক ভবন তৈরি হয়েছে, সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন জরাজীর্ণ দৃশ্য সত্যিই বেমানান বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জানান, এ বিদ্যালয়টিতে ভবন নির্মাণের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হবে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর ২০১৩ সালে সব রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। সেই থেকে এটিও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষকের স্থলে রয়েছেন চারজন। ৪ শিক্ষকই আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাহেদ উল্লাহ আমান জানান, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় সমাজ হিতৈষী মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী প্রায় ১ একর জমি দান করেন। এরপর স্থানীয় জনসধারণের সহযোগিতায় এখানে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার আগে দক্ষিণে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরত্বের বৈতরণী শহীদ সোলেমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তরে আড়াই কিলোমিটার দূরত্বে থাকা শিলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দক্ষিণ শিলঘাটার শিশু-কিশোরদের লেখাপড়া করতে হতো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব বেশি হওয়ার কারণে অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পেতেন। ফলে শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ার হারও বাড়তে থাকে। দক্ষিণ শিলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ডওয়াডা পাড়া ও নাছিরের খামার এলাকার শিশু-কিশোররা খুব সহজে স্কুলে আসা যাওয়া করতে পারছে। ফলে বাড়ছে শিক্ষার হারও। তবে সামান্য বৃষ্টি আর ঝড় হলে ক্লাস করা যায় না। বৃষ্টির পানিতে ক্লাসরুম পরিত্যক্ত থাকে। এছাড়াও রয়েছে পড়ার টেবিলের সংকট। বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ ফ ম মাহবুবুল হক সিকদার বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হওয়াতে নি:সন্দেহে এলাকাবাসী উপকৃত হচ্ছে। তাদের ছেলে মেয়েরা লেখা পড়া করতে পারছে। কিন্তু বিদ্যালয়টি অবকাঠামোর দিক থেকে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে পুরো সাতকানিয়ায় জরাজীর্ণ স্কুল নেই বললেই চলে। কিন্তু আমার এলাকার এ স্কুলটিতে কোনো পাকা দালান নেই। আমি অতিদ্রুত ভবন নির্মাণের জন্য এমপি মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, এ বিদ্যালয়ের বিষয়ে আমি খবরাখবর নিয়েছ্।ি বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। এখন এ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করি খুব কম সময়ের মধ্যেই এ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ করা হবে।