ঢাকা ০৬:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বললেন

ইসরায়েলকে জবাব দিতে ‘নরক’ তৈরি করবে ইরান

 

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “বর্বর” ইসরায়েলি শত্রুকে এমনভাবে জবাব দেবে যে তারা অসহায় হয়ে পড়বে, কারণ শত্রু কোনো রেডলাইন মেনে চলে না।

সোমবার পার্লামেন্টের এক উন্মুক্ত অধিবেশনে গালিবাফ বলেন, “গত কয়েক রাত ধরে যা ঘটছে তা তো কেবল শুরু, বরং যেসব অপরাধী ও উসকানিদাতা এই দখলদার বাহিনীকে সমর্থন দিয়েছে, তাদের জন্য ভয় ও দুঃস্বপ্ন এখনো শেষ হয়নি। এই ভীতি চলতেই থাকবে যতক্ষণ না তারা তাদের কৃতকর্মের অনুশোচনায় পড়ে এবং শাস্তি পায়।”

তিনি আরও বলেন, “ইরানি বাহিনী শত্রুকে জবাব দেবে—নরক তৈরি করবে তাদের জন্য। বিশ্ব এই প্রতিশোধ ও শাস্তির দৃশ্য প্রত্যক্ষ করবে।”

গালিবাফ বলেন, “আমরা সবাইকে বুঝতে হবে যে আমরা এক অসাধারণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের বর্বর শত্রু কোনো রেডলাইন মেনে চলে না। যদিও চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত, তবে এই পথ খুবই চ্যালেঞ্জিং।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইরানের নানা জাতিগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক প্রবণতার মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ, এবং তারা সশস্ত্র বাহিনীর পাশে আছে।”

গালিবাফ বলেন, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (IRGC) ও সেনাবাহিনী তাদের অসাধারণ সামরিক ক্ষমতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর বিচক্ষণ নেতৃত্বে ইসরায়েলি ‘অজেয়তা’র মিথ ভেঙে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “শত্রুর আগ্রাসন কেবল সামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এক ধরনের হাইব্রিড যুদ্ধ, যার মূল কেন্দ্রে রয়েছে ‘কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার’ বা মানসিক প্রভাব বিস্তার।”

তিনি বলেন, “বর্বর ইসরায়েলি শত্রুর হুমকি আমাদের জাতির মধ্যে আরও ঐক্য গড়ে তোলার বিরল সুযোগ সৃষ্টি করেছে।”

IRGC শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৩’ নামে প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরানের বিভিন্ন স্থানে—নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি, সামরিক অবকাঠামো এবং আবাসিক ভবন—বিস্তৃত সামরিক হামলা চালায়।

এই হামলার ফলে নিহত হন শীর্ষস্থানীয় ইরানি সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে শিশু ও নারীও ছিল। প্রেসটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, যেসব ব্যক্তিরা শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন:

  • সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি,
  • IRGC প্রধান হোসেইন সালামি,
  • এয়ারোস্পেস বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ,
  • এবং IRGC সিনিয়র কমান্ডার জেনারেল গোলাম আলী রাশিদ

এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, “এই ঘৃণ্য ইসরায়েলি শত্রুকে এমন জবাব দেওয়া হবে যে তারা অসহায় হয়ে পড়বে।”

 

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বললেন

ইসরায়েলকে জবাব দিতে ‘নরক’ তৈরি করবে ইরান

প্রকাশিত: ১২:০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

 

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “বর্বর” ইসরায়েলি শত্রুকে এমনভাবে জবাব দেবে যে তারা অসহায় হয়ে পড়বে, কারণ শত্রু কোনো রেডলাইন মেনে চলে না।

সোমবার পার্লামেন্টের এক উন্মুক্ত অধিবেশনে গালিবাফ বলেন, “গত কয়েক রাত ধরে যা ঘটছে তা তো কেবল শুরু, বরং যেসব অপরাধী ও উসকানিদাতা এই দখলদার বাহিনীকে সমর্থন দিয়েছে, তাদের জন্য ভয় ও দুঃস্বপ্ন এখনো শেষ হয়নি। এই ভীতি চলতেই থাকবে যতক্ষণ না তারা তাদের কৃতকর্মের অনুশোচনায় পড়ে এবং শাস্তি পায়।”

তিনি আরও বলেন, “ইরানি বাহিনী শত্রুকে জবাব দেবে—নরক তৈরি করবে তাদের জন্য। বিশ্ব এই প্রতিশোধ ও শাস্তির দৃশ্য প্রত্যক্ষ করবে।”

গালিবাফ বলেন, “আমরা সবাইকে বুঝতে হবে যে আমরা এক অসাধারণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের বর্বর শত্রু কোনো রেডলাইন মেনে চলে না। যদিও চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত, তবে এই পথ খুবই চ্যালেঞ্জিং।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইরানের নানা জাতিগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক প্রবণতার মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ, এবং তারা সশস্ত্র বাহিনীর পাশে আছে।”

গালিবাফ বলেন, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (IRGC) ও সেনাবাহিনী তাদের অসাধারণ সামরিক ক্ষমতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর বিচক্ষণ নেতৃত্বে ইসরায়েলি ‘অজেয়তা’র মিথ ভেঙে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “শত্রুর আগ্রাসন কেবল সামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এক ধরনের হাইব্রিড যুদ্ধ, যার মূল কেন্দ্রে রয়েছে ‘কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার’ বা মানসিক প্রভাব বিস্তার।”

তিনি বলেন, “বর্বর ইসরায়েলি শত্রুর হুমকি আমাদের জাতির মধ্যে আরও ঐক্য গড়ে তোলার বিরল সুযোগ সৃষ্টি করেছে।”

IRGC শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৩’ নামে প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরানের বিভিন্ন স্থানে—নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি, সামরিক অবকাঠামো এবং আবাসিক ভবন—বিস্তৃত সামরিক হামলা চালায়।

এই হামলার ফলে নিহত হন শীর্ষস্থানীয় ইরানি সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে শিশু ও নারীও ছিল। প্রেসটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, যেসব ব্যক্তিরা শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন:

  • সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি,
  • IRGC প্রধান হোসেইন সালামি,
  • এয়ারোস্পেস বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ,
  • এবং IRGC সিনিয়র কমান্ডার জেনারেল গোলাম আলী রাশিদ

এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, “এই ঘৃণ্য ইসরায়েলি শত্রুকে এমন জবাব দেওয়া হবে যে তারা অসহায় হয়ে পড়বে।”