
ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে রণক্ষেত্র, ইনকিলাব মঞ্চের জাবেরসহ আহত ৩০রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের পাশে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ৩০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, জাবের গুলিতে আহত হয়েছেন।
আহত হয়েছেন ডাকসু নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা ও রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ অনেকে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে আন্দোলনকারীরা যমুনা অভিমুখে যাওয়ার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে বিক্ষোভ করছিলেন।
তারা বিকেল ৪টার দিকে সেখান থেকে যমুনার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। এ সময় ব্যারিকেড ভেঙে তারা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কিছু নেতা-কর্মী রক্তাক্ত আহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে জানা যায়, সংঘর্ষে আহত হয়ে অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন, তারা হলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ডাকসুর নেত্রী ফাতেমা তাসনিম ঝুমা, রাকসুর নেতা সালাউদ্দিন আম্মার, মনির, ফয়সাল, জয়, জুলকার, মোশাররফ, নিলয়, অনিক, উমর, রাহাত, রাসেল, আহাদ, মাহিন, আজাদ, শামিম, সোহেল, শাওন, জাবেদ ও শামিম।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে এক চিকিৎসক জানান, আহতদের আঘাতের ধরন থেকে প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে, তারা লাঠিপেটার আঘাতের পাশাপাশি দৌড়াতে গিয়ে পড়ে গিয়ে জখম হয়েছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো বুলেটবিদ্ধ আহত পাওয়া যায়নি।
যদিও বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুকে এক পোস্টে দাবি করা হয়, ‘জাবের গুলিবিদ্ধ। জুমা-শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হয়েছে।’
হাসপাতালে আহত ইনকিলাব মঞ্চের একাধিক সদস্য বলেন, ‘পুলিশ আমাদের ওপরে বেপরোয়াভাবে লাঠিচার্জ করে, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড নিক্ষেপ করেছে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবেরসহ আন্দোলনকারীরা আহত হয়েছেন। পাশাপাশি জাবেরের পায়ে গুলি লাগে।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) ফারুক বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতের সংখ্যা আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ জন হতে পারে এই সংখ্যা আরও বাড়তেও পারে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এদের মধ্যে কেউ গুরুতর আহত নন। কী ধরনের আহত সে বিষয়গুলো চিকিৎসকরা পরে জানাবেন।
এর আগে প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায়ও বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
বাংলানিউজ 



















