
রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ধরণের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও মানুষের দৌড়গোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন।
দীর্ঘ দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি ১৭জুন (বুধবার) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন।
জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তিনি লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছিলেন। ডা. মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে চিকিৎসা সেবার মানকে ত্বরান্বিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযোজন হয়েছে সেগুলো হলো হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা, সেল কাউন্টার ও হরমোন অ্যানালাইজার মেশিন সংযোজন,ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপন, প্যাথলজি কক্ষ স্থানান্তর করে এসি সংযোজন, ডেন্টাল ইউনিট আধুনিকায়ন করে নতুন ডেন্টাল চেয়ার সংযোজন , লেবার রুমে অত্যাধুনিক ডেলিভারি টেবিল স্থাপন, সভাকক্ষ আধুনিকায়ন করে এসি ও ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম সংযোজন করা হয়।
পানির বিকল্প ব্যবস্থার জন্য পুকুর খনন এবং রোগী ও স্টাফদের জন্য গভীর নলকূপ ও ওয়াটার পিউরিফায়ার স্থাপন, অন্তঃ বিভাগের ওয়ার্ডের সিলিং ও ছাদ মেরামত, জানালায় থাই গ্লাস সংযোজন এবং টয়লেট সংস্কার, মহিলাদের নামাজের জন্য ওজু খানা সহ মসজিদ স্থাপন, পুরাতন মসজিদের দেয়াল মেরামত এবং হাসপাতাল চত্বরে বৃক্ষরোপণ ও গার্ডেন লাইট স্থাপন,বহির্বিভাগ, বারান্দা ও রিসিপশনে পর্যাপ্ত চেয়ার ও ওয়েটিং চেয়ার স্থাপন,সিলিং ফ্যান স্থাপন, শিশু ওয়ার্ড আধুনিকায়ন এবং মাতৃদুগ্ধ কর্নার স্থাপন করা, অন্তঃ বিভাগের জন্য ২টি এবং জরুরি বিভাগের জন্য ১টি আইপিএস স্থাপন, ৩০ কেভির জেনারেটর অনুমোদন , যা হাসপাতালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষ করে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার ও বিশেষায়িত সেবা বন্ধ থাকা ট্রমা সেন্টার পুনরায় চালু করে প্রায় ৮ হাজারের বেশি আহত রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করেছে। যাতে করে ট্রমা সেন্টারে ফিরেছে মানুষের আস্থার ঠিকানা।
ব্লাড ব্যাংক স্থাপন এবং থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রক্ত সরবরাহের ব্যবস্থা চালু করা হয়।
মানবিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ
দরিদ্র রোগীদের সহায়তায় রোগী কল্যাণ ফান্ড গঠন করা হয়, যার মাধ্যমে দেড় বছরে ৩ লক্ষাধিক টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়। অন্তঃ বিভাগে নিয়মিত কনসালটেন্ট রাউন্ড নিশ্চিত করে চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি করা হয়।
নতুন করে ৩টি কেবিন বৃদ্ধি করা হয় এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিবেশ উন্নয়নে পর্যাপ্ত লাইট স্থাপন করা হয়।
এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ডা. মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে হাসপাতালের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও সেবামুখী হয়েছে। রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আচরণেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা পুটিবিলার বাসিন্দা দিলু আরা বেগম বলেন, এই সরকারি হাসপাতালে আগে তেমন পরিবেশ সুন্দর ছিলনা। ডা. ইকবাল আসার পর থেকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা অনেক সুন্দর হয়েছে।
এলাকার আরেকজন রোগী তছলিমা আকতার বলেন, হাসপাতালে ডা.ইকবালের আমলে সুন্দর সেবা পেয়েছি। কোন ধরণের হয়রানী ছাড়াই চিকিৎসা সেবা পেয়েছি।
এলাকার বাসিন্দা শাহাব উদ্দিন বলেন, ডা. ইকবাল স্যারের নেতৃত্ব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন হয়েছে। অনেক কিছুর পরিবর্তন এসেছে। যা অতীতের তুলনায় খুব বেশি প্রশংসনীয়।
উপজেলা বিদায়ী স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, সরকারের নির্দেশনা ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। মানুষের দৌড়গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করেছি। হাসপাতালকে নিজের ঘর মনে করে হাসপাতালের বিভিন্ন ধরণের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণে যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। দায়িত্ব পালনে চেষ্ঠা করেছি এলাকার সাধারণ মানুষকে প্রাধান্য দিতে। আমার দায়িত্ব পালনকালে এলাকাবাসীর আন্তরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি। যা কখনো ভূলার মত নয়। আমার কর্মজীবনে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনের বিদায়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেছেন। অশ্রুসিক্ত ভালবাসায় তিনি হয়েছেন সিক্ত।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 
