
দেশবাংলা ডেস্কঃ
‘আমি খুরুশকুল দেখতে যাব, শুঁটকি ভর্তা দিয়ে ভাত খাব।’ কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কক্সবাজারকে উন্নত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বিশ্বের মানুষ যাতে এর সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। শুধু কক্সবাজার নয় দেশের সকল জেলায় এভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরি করা হবে। যাতে কোন মানুষ গৃহহীণ না থাকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। কক্সবাজার অংশের অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান এবং ফ্লাট বরাদ্দপ্রাপ্ত সুবিধাভোগিদের মধ্যে ৩ জন বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের বাঁকখালী নদীর তীর ঘেঁষা বৃহৎ এ প্রকল্পে নির্মিত ২০টি ভবনে ৬০০ পরিবারের কাছে ফ্লাটের চাবি হস্তান্তর করা হয়। প্রতিটি পাঁচতলা ভবনে থাকছে ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট। এই প্রকল্পে সর্বমোট ১৩৯টি ভবন তৈরি করা হবে। এসব ভবনে পর্যায়ক্রমে ৪ হাজার ৪০৯টি উদ্বাস্তু পরিবারকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে।
আবাসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন বলেন, প্রতিটি পরিবার এখানে ১০০১ টাকার বিনিময়ে ৪৫৬ বর্গ ফুটের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি করে ফ্ল্যাট পাবে। যেখানে প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক সুবিধা, সোলার প্যানেল, বিশুদ্ধ পানির সুবিধা, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং গ্যাস সিলিন্ডার সম্বলিত চুলার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য আধুনিক সুবিধা থাকবে।
তিনি বলেন, ২৫৩ দশমিক ৫৯ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮০০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। প্রকল্প এলাকায় ২০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ৩৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য পরিশোধন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, তীর রক্ষা বাঁধ, ছোট সেতু, ১৪টি খেলার মাঠ, মসজিদ, মন্দির, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পুলিশ ও ফায়ার স্টেশন, তিনটি পুকুর, নদীতে দু’টি জেটি এবং বিদ্যুতের দুটি সাবস্টেশন থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন- খুরুশকুলকে আলাদা একটা সুন্দর শহর হিসাবে গড়ে তোলা হবে। এখানে তৈরি হবে আধুনিক শুঁটকি বাজারসহ দৃষ্টিনন্দন নানা স্থাপনা। পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হবে এই আবাসন প্রকল্প।
খুরুশকুল প্রকল্পে ফ্ল্যাট বুঝে পাওয়া জলবায়ু উদ্বাস্ত পরিবারগুলোর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন- আপনারা এতদিন যেভাবে কষ্টের মধ্যে ছিলেন, আমি নিজে দেখেছি। এখন এখানে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবেন।
তিনি বলেন, যে ঘরগুলো করে দেওয়া হয়েছে, মনে রাখবেন এটা আপনাদের নিজের। সেভাবে যত্ম নিয়ে ব্যবহার করবেন। যাতে সুন্দরভাবে থাকে, সেদিকে লক্ষ্য দেখবেন।
খুরুশকুল প্রকল্পে সবুজ বেষ্টনি গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে নদীর কূল ধরে সবুজ বেষ্টনি করে দেওয়া হবে। ঝড় জলোচ্ছ্বাসে যেন ক্ষতি না হয় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করবেন।
সারাদেশে গৃহহীণদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধু এখানে না, সারা বাংলাদেশেই আমরা গৃহহীণ, ভূমিহীণ মানুষকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন ঘর করে দিচ্ছি, পাশাপাশি যাদের জমি আছে তাদের ঘর করে দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ তহবিল নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা তহবিল করা আছে। সেখান থেকে যে কেউ টাকা নিয়ে ঘর করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষকে যেভাবে পারি একটা চালা করে হলেও ঘর করে দেবো। এটাই আমাদের লক্ষ্য।
খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে কক্সবাজারের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন- সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, জাফর আলম এমপি, কানিজ ফাতেমা আহমদ এমপি, প্রকল্প পরিচালক মাহবুব হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আযাদ, সেনাবাহিনীর দশম পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার লে: জেনালেন মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের একজন নারী শিল্পী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি গান পরিবেশন করেন। হাসিমুখে গানটি উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
news :
https://samakal.com/whole-country
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 



















