ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আওয়ামীলীগের একাধিক, বিএনপি দুই জামায়াতের সম্ভাব্য দুই প্রার্থীই কারাগারে

চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন

শহীদুল ইসলাম বাবর,দেশবাংলা.নেট
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপি জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে না থাকলেও বেশ প্রচার কার্য চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এক্ষেত্রে সরকারী উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি প্রচারনায় বেশ এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামীলীগের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। তবে পিছিয়ে নেই অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলে নিজের গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে এমন দাবী করে এলাকায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্বলিত প্রচারপত্র বিলি করছেন আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। র্নিদলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্র্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত না হওয়ায় বিএনপি আর সম্ভাব্য দুই প্রার্থীই কারাগারে বন্ধি থাকায় মাঠে নেই জামায়াত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে আলোচনা ও সরেজমিন পরির্দশনকালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এমপি নদভী ছাড়াও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে কাজ করছেন আওয়ামীলীগের এমন সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামীলীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়–য়া,সাতকানিয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি, বনফুল ও কিষোয়ান গ্রæপের চেয়ারম্যান এমএ মোতালেব সিআইপি, চট্টগ্রামদক্ষিন জেলা আওয়ামীলীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান, ২০ দলীয় জোটের অংশিদার হিসেবে এ আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়া হবে এমন খবর চাউর হলেও বসে নেই বিএনপি নেতারা। বিএনপির একাধিক নেতা এ আসনে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করার আশাপোষন করছেন। এরা হলেন, সাতকানিয়া বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। এ ক্ষেত্রে পোষ্টার ব্যানার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারনায় মুজিবুর রহমান বেশ এগিয়ে । ২০০৮ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শাহজাহান চৌধুরী কারাগারে বন্ধি থাকায় জামায়াতের প্রার্থী করা হয় তৎসময়ের চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলামকে। এবারের নির্বাচনেও জামায়াতের পক্ষ থেকে সামশুল ইসলাম নির্বাচন করবেন এমন দাবী করা হলেও শাহজাহান চৌধুরীর অনুসারীরাও নাগরিক কমিটির ব্যানারে শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে জনমত গঠনসহ নির্বাচন করবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তার পক্ষে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় ব্যাপক পোষ্টারিং করা হয়েছে। তবে এ দুই নেতাই এখন বন্দি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে।
সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতাপরবর্তি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এম ছিদ্দিক। এর পর এ আসনে আর দেখেনি আওয়ামীলীগ। ১৯৯১ সালে এ আসনে প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী। ১৯৯৬ এর নির্বাচনে এ আসনে তৎসময়কার বিএনপি নেতা (বর্তমানে এলডিপির সভাপতি) কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। আবার ২০০১ সালের নির্বাচনে সারা দেশে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট চার দলীয় জোটের ভিত্তিতে নির্বাচন করলেও এ আসনে বিএনপি জামায়াত আলাদা প্রার্থী দেন। বিএনপির পক্ষ থেকে অলি আহমদ আর জামায়াতের পক্ষ থেকে শাহজাহান চৌধুরী প্রতিদ্বন্ধিতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে শাহজাহান চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হয়। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আইনী জঠিলতায় জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী নির্বাচন করতে না পারার কারনে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের তৎকালিন আমীর (বর্তমান কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর) মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম নির্বাচেন অংশ নিয়ে আবারো অলি আহমদকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হয় জামায়াতের সামশুল ইসলাম। অবশ্য এ নির্বাচনে সামশুল ইসলামের পক্ষে প্রচারনায় অংশ নেন শাহজাহান চৌধুরী। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীণ ২০ দলীয় জোট বয়কট করার কারনে সারা দেশে ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় এমপি নির্বাচিত হলেও এ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন এনডিএফ প্রার্থী জয়নাল আবেদীন কাদরী। এ নির্বাচনে এনডিএফ প্রার্থীর চাইতে ২০ গুন ভোট বেশি পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয় আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, আমি গত পাচঁ বছরে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছি। অনেক কাজ এখনো চলমান। এ উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমি আবারো দল থেকে মনোনয় প্রত্যাশা করছি। মনোনয়ন প্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম বলেন, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বরাবরই উপেক্ষিত। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া আওয়ামীলীগ তারা নতুন প্রার্থী চাই। তাই আমি মানুষের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। এমএ মোতালেব সিআইপি বলেন, আমি সাতকানিয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় প্রতিটি মসজদি, মন্দির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমার ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে অনুদান দিয়েছি। দলকে শক্তিশালী করেছি। আমার অন্যান্য সময়ের তুলনায় অধিক সংগঠিত। তাই আমি দলীয় মনোনয়ন পেলে আসনটি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব বলে মনে করি। আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি স্কুল জীবন থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও সর্বশেষ চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত আবু সুফিয়ান বলেন,আমি গত নির্বাচনেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এবারেও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। দীর্ঘদিন দলের সাথে সম্পৃক্ত থেকে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছি। দল মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হতে পারব।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মাঠ চষে বেড়ানো ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, গত ২০১৪ সালের চ্যালেঞ্জি নির্বাচনে আমি আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী প্রধান নির্বাচন পরিচালক ছিলাম। সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীও প্রধান নির্বাচন পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি। সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার প্রতিটি এলাকায় দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে আমার বিশেষ গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। কারন প্রতিটি কর্মীর বিপদ আপদে, দলের ক্লান্তি লগ্নে আমি ভূমিকা রেখে সমস্যার সামাধান করেছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারব। তাই আমি দলের মনোনয়নের জন্য কাজ করছি।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাতকানিয়া বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, দীর্ঘ দিন এ আসনটি জোটগত ভাবে জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়া সত্তেও দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখতে দীর্ঘ দিন কাজ করেছি। এবারের নির্বাচনে জোটগত ও দলীয় ভাবে মনোনয়ন চাইব। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী সাতকানিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, আমি দলের দীর্ঘ দঃসময়ে দলের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। অনেক মামলার আসামী হয়েছি। কারাগারেও যেতে হয়েছে। জোট ও দল দুই ভাবেই মনোনয়ন আশা করছি।
অন্যদিকে জামায়াতের দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক দুই সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরী দুইজনই কারাগারে বন্ধি থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

আওয়ামীলীগের একাধিক, বিএনপি দুই জামায়াতের সম্ভাব্য দুই প্রার্থীই কারাগারে

প্রকাশিত: ০১:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন

শহীদুল ইসলাম বাবর,দেশবাংলা.নেট
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপি জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে না থাকলেও বেশ প্রচার কার্য চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এক্ষেত্রে সরকারী উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি প্রচারনায় বেশ এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামীলীগের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। তবে পিছিয়ে নেই অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলে নিজের গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে এমন দাবী করে এলাকায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্বলিত প্রচারপত্র বিলি করছেন আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। র্নিদলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্র্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত না হওয়ায় বিএনপি আর সম্ভাব্য দুই প্রার্থীই কারাগারে বন্ধি থাকায় মাঠে নেই জামায়াত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে আলোচনা ও সরেজমিন পরির্দশনকালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এমপি নদভী ছাড়াও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে কাজ করছেন আওয়ামীলীগের এমন সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামীলীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়–য়া,সাতকানিয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি, বনফুল ও কিষোয়ান গ্রæপের চেয়ারম্যান এমএ মোতালেব সিআইপি, চট্টগ্রামদক্ষিন জেলা আওয়ামীলীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান, ২০ দলীয় জোটের অংশিদার হিসেবে এ আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়া হবে এমন খবর চাউর হলেও বসে নেই বিএনপি নেতারা। বিএনপির একাধিক নেতা এ আসনে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করার আশাপোষন করছেন। এরা হলেন, সাতকানিয়া বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। এ ক্ষেত্রে পোষ্টার ব্যানার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারনায় মুজিবুর রহমান বেশ এগিয়ে । ২০০৮ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শাহজাহান চৌধুরী কারাগারে বন্ধি থাকায় জামায়াতের প্রার্থী করা হয় তৎসময়ের চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলামকে। এবারের নির্বাচনেও জামায়াতের পক্ষ থেকে সামশুল ইসলাম নির্বাচন করবেন এমন দাবী করা হলেও শাহজাহান চৌধুরীর অনুসারীরাও নাগরিক কমিটির ব্যানারে শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে জনমত গঠনসহ নির্বাচন করবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তার পক্ষে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় ব্যাপক পোষ্টারিং করা হয়েছে। তবে এ দুই নেতাই এখন বন্দি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে।
সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতাপরবর্তি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এম ছিদ্দিক। এর পর এ আসনে আর দেখেনি আওয়ামীলীগ। ১৯৯১ সালে এ আসনে প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী। ১৯৯৬ এর নির্বাচনে এ আসনে তৎসময়কার বিএনপি নেতা (বর্তমানে এলডিপির সভাপতি) কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। আবার ২০০১ সালের নির্বাচনে সারা দেশে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট চার দলীয় জোটের ভিত্তিতে নির্বাচন করলেও এ আসনে বিএনপি জামায়াত আলাদা প্রার্থী দেন। বিএনপির পক্ষ থেকে অলি আহমদ আর জামায়াতের পক্ষ থেকে শাহজাহান চৌধুরী প্রতিদ্বন্ধিতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে শাহজাহান চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হয়। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আইনী জঠিলতায় জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী নির্বাচন করতে না পারার কারনে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের তৎকালিন আমীর (বর্তমান কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর) মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম নির্বাচেন অংশ নিয়ে আবারো অলি আহমদকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হয় জামায়াতের সামশুল ইসলাম। অবশ্য এ নির্বাচনে সামশুল ইসলামের পক্ষে প্রচারনায় অংশ নেন শাহজাহান চৌধুরী। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীণ ২০ দলীয় জোট বয়কট করার কারনে সারা দেশে ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় এমপি নির্বাচিত হলেও এ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন এনডিএফ প্রার্থী জয়নাল আবেদীন কাদরী। এ নির্বাচনে এনডিএফ প্রার্থীর চাইতে ২০ গুন ভোট বেশি পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয় আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, আমি গত পাচঁ বছরে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছি। অনেক কাজ এখনো চলমান। এ উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমি আবারো দল থেকে মনোনয় প্রত্যাশা করছি। মনোনয়ন প্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম বলেন, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বরাবরই উপেক্ষিত। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া আওয়ামীলীগ তারা নতুন প্রার্থী চাই। তাই আমি মানুষের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। এমএ মোতালেব সিআইপি বলেন, আমি সাতকানিয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় প্রতিটি মসজদি, মন্দির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমার ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে অনুদান দিয়েছি। দলকে শক্তিশালী করেছি। আমার অন্যান্য সময়ের তুলনায় অধিক সংগঠিত। তাই আমি দলীয় মনোনয়ন পেলে আসনটি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব বলে মনে করি। আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি স্কুল জীবন থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও সর্বশেষ চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত আবু সুফিয়ান বলেন,আমি গত নির্বাচনেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এবারেও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। দীর্ঘদিন দলের সাথে সম্পৃক্ত থেকে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছি। দল মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হতে পারব।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মাঠ চষে বেড়ানো ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, গত ২০১৪ সালের চ্যালেঞ্জি নির্বাচনে আমি আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী প্রধান নির্বাচন পরিচালক ছিলাম। সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীও প্রধান নির্বাচন পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি। সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার প্রতিটি এলাকায় দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে আমার বিশেষ গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। কারন প্রতিটি কর্মীর বিপদ আপদে, দলের ক্লান্তি লগ্নে আমি ভূমিকা রেখে সমস্যার সামাধান করেছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারব। তাই আমি দলের মনোনয়নের জন্য কাজ করছি।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাতকানিয়া বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, দীর্ঘ দিন এ আসনটি জোটগত ভাবে জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়া সত্তেও দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখতে দীর্ঘ দিন কাজ করেছি। এবারের নির্বাচনে জোটগত ও দলীয় ভাবে মনোনয়ন চাইব। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী সাতকানিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, আমি দলের দীর্ঘ দঃসময়ে দলের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। অনেক মামলার আসামী হয়েছি। কারাগারেও যেতে হয়েছে। জোট ও দল দুই ভাবেই মনোনয়ন আশা করছি।
অন্যদিকে জামায়াতের দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক দুই সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরী দুইজনই কারাগারে বন্ধি থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি