
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ভারতকে সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ‘অসতর্ক পদক্ষেপ’ নিলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে ভারত শুধু বড় ক্ষতির মুখেই পড়বে না, বরং দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানও বদলে যেতে পারে।
সোমবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক টকশোতে তিনি বলেন, গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনায় পাকিস্তান ‘স্পষ্ট বিজয়’ অর্জন করেছে। তিনি দাবি করেন, পেহেলগামে হামলার পর সৃষ্ট সংঘাতে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ভারতের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল।
এ সময় তিনি ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী-এর এক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন। ভারতীয় সেনাপ্রধান সম্প্রতি বলেছিলেন, পাকিস্তানকে ঠিক করতে হবে তারা “ভূগোলের অংশ হয়ে থাকতে চায়, নাকি ইতিহাসের অংশ হতে চায়”। এর জবাবে খাজা আসিফ বলেন, এমন বক্তব্য দিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের ‘হারানো মর্যাদা’ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
পাকিস্তানের মন্ত্রী আরও দাবি করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব আগের মতো নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা-এর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগের অবস্থানে নেই এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভারত চাপে রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান আঞ্চলিকভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসরাইল ও ভারতের স্বার্থের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। তার মতে, ইসরাইল চায় না এ অঞ্চলে ভারত ছাড়া অন্য কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে উঠুক।
এছাড়া দীর্ঘদিনের ইন্দুস ওয়াটার্স ট্রিটি বা সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়েও মন্তব্য করেন খাজা আসিফ। তিনি বলেন, এই চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল বা স্থগিত করার সুযোগ নেই এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়াগুলো পাকিস্তানের পক্ষে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ইরান-এর ওপর নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি মনে করেন, আপাতত বড় ধরনের যুদ্ধের সম্ভাবনা কম। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয় এবং জনগণের সমর্থন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
আফগানিস্তান প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে আফগানিস্তান পাকিস্তানবিরোধী শক্তিগুলোর জন্য কার্যত একটি ‘প্রক্সি প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখানে ভারতের প্রভাব বেড়েছে।
এর আগে পাকিস্তানের সামরিক গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর ভারতীয় সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছিল। সংস্থাটি বলেছে, পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এমন বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়াকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
দেশ বাংলা অনলাইন 
