
রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া সদরে ৫নং ওয়ার্ডে লোহার দিঘীর পাড় দফাদার পাড়া সংযোগ সড়কে বামির খাল প্রকাশ বাই খালের ব্রিজের দু পাশে ভেঙে গেছে। ভাঙনের কারণে এলাকার মানুষ চলাচলে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে বামির খাল প্রকাশ বাই খালের পানির তীব্র স্রোতের কারণে ব্রিজের দু পাশে মাটি সরে গেছে। গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেকোন সময় খালের তীব্র স্রোতে ব্রিজটিও ধসে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
সড়কটি দিয়ে বিভিন্ন পাড়ার মানুষ, স্কুল ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে যা বর্তমান পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এলাকার মানুষের অভিযোগ, খালটি বড় পরিসরে করার কারণে ব্রিজের পাশে মাটি ও ইট সরে গিয়ে খালে পড়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সদরে ৫নং ওয়ার্ডস্থ লোহার দিঘীর পাড়ের দফাদার পাড়া সংযোগ সড়কে কয়েকদিনের ভারি বর্ষণের বাই খালের তীব্র স্রোতের কারণে সড়কটির দু পাশে ভেঙে গেছে। সড়কে যে ব্রিজটি রয়েছে দীর্ঘ ৩৫বছরের পুরোনো। এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সড়কটি দিয়ে দফাদার পাড়া, সোলতান মুন্সসীর পাড়া ও উকিলের পাড়ার মানুষ চলাচল করে থাকে। বিশেষ করে সড়কটি দিয়ে লোহাগাড়া ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, লোহাগাড়া শাহপীর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে থাকে। বর্তমানে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী মোঃ রফিক বলেন, সড়কটি দিয়ে আমরা যাতায়াত করি। ব্রিজের দু পাশে ভেঙে যাওয়ার কারণে অনেক কস্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে। খালটি বড় পরিসরে করার কারণে ব্রিজটির দু পাশে মাটি সরে গেছে।
লোহাগাড়া শাহপীর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সাইমুন রহমান বলেন,ভারি বর্ষণে বাই খালে নির্মিত ব্রিজের দু পাশে মাটি সরে গেছে। যেকোন সময় ব্রিজটি ধসে পড়তে পারে। বর্তমানে স্কুলে যাওয়ার সময় অসুবিধা হচ্ছে।
লোহাগাড়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেনীর দুই শিক্ষার্থী ফাহমিদা সুলতানা নয়ন ও লিজা সুলতানা বলেন, মাদ্রাসা যাতায়াতে ব্রিজের পাশে ভেঙে যাওয়ার কারণে ভয়ে ভয়ে যেতে হয়। দ্রুত সময়ে ব্রিজের পাশে সংস্কারের উদ্যোগ নিলে ব্রিজটি রক্ষা পাবে এবং আমাদের মাদ্রাসা যাতায়াতে অনেক উপকার হবে।
এলাকার বয়োবৃদ্ধ মোজাহের মিয়া বলেন, আমাদের একমাত্র চলাচলের রাস্তা সড়কটি। ভারি বর্ষণের কারণে ব্রিজের দু পাশে ইট, মাটি খালে নিয়ে গেছে। আমরা দ্রুত সড়কটি সংস্কার চাই।
আবু সাঈদ মুন্সী বলেন, সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ দ্রুত না নিলে ব্রিজটি যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে। আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা একদম বন্ধ হয়ে যাবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ হামিদ বলেন, সড়কটি দুপাশে ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) কে অবগত করেছি। দ্রুত সময়ে সংস্কারের উদ্যোগ নিলে এলাকার মানুষের চলাচলে উপকৃত হবে।
লোহাগাড়া সদরের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দ পেলে দ্রুত সময়ে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইফরাদ বিন মুনীর বলেন, সড়কটি পরিদর্শন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছে এলাকার মানুষ, পথচারি,চালক ও শিক্ষার্থীরা।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 




















