ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় চৌধুরী সড়কের প্রবেশ মুখে বৃষ্টির পানি জমে বড় গর্ত, দ্রুত সংস্কারের দাবী স্থানীয়, পথচারীদের

রায়হান সিকদারঃ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় চৌধুরী সড়কের প্রবেশ মুখে বৃষ্টির পানি জমে বড় গর্ত আকারে পরিণত হয়েছে। যার ফলে রীতিমত চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যাচ্ছে স্থানীয়, পথচারি, যান চলাচলকারী ও স্কুল ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার সদরে লোহাগাড়া মা শিশু হাসপাতালের সংলগ্ন এলাকার সামনে চৌধুরী সড়ক এটি একটি ব্যস্ততম সড়ক। এ সড়ক দিয়ে শত শত গাড়ি,শিক্ষার্থী, পথচারিরা চলাচল করে। হালকা বৃষ্টি হলেই মহা সড়কের সামনে চৌধুরী সড়কে প্রবেশ মুখে বড় গর্তের কারণে ডুবে গিয়ে পানি আটকে থাকে। পানি নিষ্কাশনের নেই কোন ব্যবস্থা। রাস্তার দুইপাশে রয়েছে বড় বড় দালান।গর্তের পানিগুলো কোথাও যেতে পারেনা।

স্থানীয় বাসিন্দা এমআর বিল্ডিং এর মালিক মোঃ হারুন জানান, এ রাস্তাটি নিয়ে আমরা অনেক বিপদে আছি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে অল্প বৃষ্টিতেই কাঁদার সৃষ্টি হয়। এতে রাস্তায় পায়ে হেটে চলা দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি না থাকলেও সারা বছর এখানে পানি আটকে থাকে।

লোহাগাড়া মা শিশু হাসপাতালের পরিচালক,এলাকার বাসিন্দা, ইলিয়াছ বিল্ডিং এর মালিক মোঃ ইলিয়াছ বলেন, সড়কটির প্রবেশ মুখে বৃষ্টি হলে ডুবে যায় গর্তটির কারণে গাড়ি উল্টে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিষয়টি প্যানেল চেয়ারম্যান, স্থানীয় ও ঠিকাদারকেও বলেছি। তবে কোন কাজের কাজ হচ্ছেনা। এ জায়গায় কাঁদা-পানি জমায় চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে আমাদেরকে।

সরেজমিনে দেখাযায়, এ রাস্তায় পানি নিষ্কাশনের নেই কোন ব্যবস্থা। দুই পাশে মার্কেট, কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে অল্প বৃষ্টিতেই কাঁদার সৃষ্টি হয়। সড়কে প্রবেশ মুখে বড় গর্তের কারণে সিএনজি, অটো রিক্সাসহ বিভিন্ন গাড়ি চলাচলে গর্তে পড়ে উল্টে যাওয়ার আতংকে থাকতে হয়। সড়কের ওই স্থানে স্থানীয় পথচারি,সাধারণ মানুষ পায়ে হেটেও যেতে কষ্ট হয়। বিগত তিন বছর ধরে ওই স্থানে বৃষ্টি হলেই পানি আটকে থাকার ফলে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

আমিরাবাদ চেরি গ্রামার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী হুজাইফা রায়হান রুহি বলেন, বৃষ্টি হলেই স্কুলে যাওয়ার সময় গর্তের অংশে যেতে কস্ট হয়, আমাদের স্কুল ড্রেসে পানি ছিটকে পড়ে কাপড়-চোপড় নষ্ট হয়ে যায়।

সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারি, এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বকুল আকতার বলেন, মেয়ে নিয়ে বাসা থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই স্থানে হাটা চলাচল চরম মশকিল হয়ে দাঁড়ায়। সড়কটির অংশে গর্তটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

আমিরাবাদ চেরি গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দিন বলেন, লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের স্কুলে ছেলে মেয়েরা পড়াশুনা করছে। চৌধুরী সড়ক দিয়ে সড়কের মুল অংশে বড় গর্তের কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

লোহাগাড়া সদরের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, সড়কের অংশে গর্তে পানি জমে থাকার বিষয়টি অবগত রয়েছি। এ বছরের কোন বাজেট নেই। জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে আগামী বছরের শুরুতে সড়কটি গর্তটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাত বিন মুনীর বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি। তবে, মহাসড়কের প্রবেশ মুখে পানি জমে থাকা গর্ত হওয়া জায়গাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। সেটি তারা দেখবে।

দোহাজারি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, মহাসড়কের প্রবেশ মুখের জায়গাটি আমাদের। তবে,চৌধুরী সড়কটি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের । সড়কটি সংস্কারের জন্য তাদেরকে উদ্যোগ নিতে হবে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মুহাম্মদ ইনামুল হাসান বলেন, সড়কটির প্রবেশ মুখে পানি জমে থাকার অংশটি উপজেলা প্রকৌশলী ও সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীকে অবগত করা হবে।

 

 

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

লোহাগাড়ায় চৌধুরী সড়কের প্রবেশ মুখে বৃষ্টির পানি জমে বড় গর্ত, দ্রুত সংস্কারের দাবী স্থানীয়, পথচারীদের

প্রকাশিত: ০৩:২১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

রায়হান সিকদারঃ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় চৌধুরী সড়কের প্রবেশ মুখে বৃষ্টির পানি জমে বড় গর্ত আকারে পরিণত হয়েছে। যার ফলে রীতিমত চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যাচ্ছে স্থানীয়, পথচারি, যান চলাচলকারী ও স্কুল ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার সদরে লোহাগাড়া মা শিশু হাসপাতালের সংলগ্ন এলাকার সামনে চৌধুরী সড়ক এটি একটি ব্যস্ততম সড়ক। এ সড়ক দিয়ে শত শত গাড়ি,শিক্ষার্থী, পথচারিরা চলাচল করে। হালকা বৃষ্টি হলেই মহা সড়কের সামনে চৌধুরী সড়কে প্রবেশ মুখে বড় গর্তের কারণে ডুবে গিয়ে পানি আটকে থাকে। পানি নিষ্কাশনের নেই কোন ব্যবস্থা। রাস্তার দুইপাশে রয়েছে বড় বড় দালান।গর্তের পানিগুলো কোথাও যেতে পারেনা।

স্থানীয় বাসিন্দা এমআর বিল্ডিং এর মালিক মোঃ হারুন জানান, এ রাস্তাটি নিয়ে আমরা অনেক বিপদে আছি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে অল্প বৃষ্টিতেই কাঁদার সৃষ্টি হয়। এতে রাস্তায় পায়ে হেটে চলা দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি না থাকলেও সারা বছর এখানে পানি আটকে থাকে।

লোহাগাড়া মা শিশু হাসপাতালের পরিচালক,এলাকার বাসিন্দা, ইলিয়াছ বিল্ডিং এর মালিক মোঃ ইলিয়াছ বলেন, সড়কটির প্রবেশ মুখে বৃষ্টি হলে ডুবে যায় গর্তটির কারণে গাড়ি উল্টে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিষয়টি প্যানেল চেয়ারম্যান, স্থানীয় ও ঠিকাদারকেও বলেছি। তবে কোন কাজের কাজ হচ্ছেনা। এ জায়গায় কাঁদা-পানি জমায় চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে আমাদেরকে।

সরেজমিনে দেখাযায়, এ রাস্তায় পানি নিষ্কাশনের নেই কোন ব্যবস্থা। দুই পাশে মার্কেট, কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে অল্প বৃষ্টিতেই কাঁদার সৃষ্টি হয়। সড়কে প্রবেশ মুখে বড় গর্তের কারণে সিএনজি, অটো রিক্সাসহ বিভিন্ন গাড়ি চলাচলে গর্তে পড়ে উল্টে যাওয়ার আতংকে থাকতে হয়। সড়কের ওই স্থানে স্থানীয় পথচারি,সাধারণ মানুষ পায়ে হেটেও যেতে কষ্ট হয়। বিগত তিন বছর ধরে ওই স্থানে বৃষ্টি হলেই পানি আটকে থাকার ফলে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

আমিরাবাদ চেরি গ্রামার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী হুজাইফা রায়হান রুহি বলেন, বৃষ্টি হলেই স্কুলে যাওয়ার সময় গর্তের অংশে যেতে কস্ট হয়, আমাদের স্কুল ড্রেসে পানি ছিটকে পড়ে কাপড়-চোপড় নষ্ট হয়ে যায়।

সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারি, এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বকুল আকতার বলেন, মেয়ে নিয়ে বাসা থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই স্থানে হাটা চলাচল চরম মশকিল হয়ে দাঁড়ায়। সড়কটির অংশে গর্তটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

আমিরাবাদ চেরি গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দিন বলেন, লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের স্কুলে ছেলে মেয়েরা পড়াশুনা করছে। চৌধুরী সড়ক দিয়ে সড়কের মুল অংশে বড় গর্তের কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

লোহাগাড়া সদরের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, সড়কের অংশে গর্তে পানি জমে থাকার বিষয়টি অবগত রয়েছি। এ বছরের কোন বাজেট নেই। জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে আগামী বছরের শুরুতে সড়কটি গর্তটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাত বিন মুনীর বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি। তবে, মহাসড়কের প্রবেশ মুখে পানি জমে থাকা গর্ত হওয়া জায়গাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। সেটি তারা দেখবে।

দোহাজারি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, মহাসড়কের প্রবেশ মুখের জায়গাটি আমাদের। তবে,চৌধুরী সড়কটি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের । সড়কটি সংস্কারের জন্য তাদেরকে উদ্যোগ নিতে হবে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মুহাম্মদ ইনামুল হাসান বলেন, সড়কটির প্রবেশ মুখে পানি জমে থাকার অংশটি উপজেলা প্রকৌশলী ও সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীকে অবগত করা হবে।