ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় জমে উঠেছে লিচুর বাজার, দাম চড়া হওয়ায় হতাশ ক্রেতারা! 

রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় জমে উঠেছে লিচুর বাজার। বিভিন্ন জাতের লিচুর ডালা সাজিয়ে বেচাকেনা চলছে লোহাগাড়া সদরে বটতলী মোটর স্টেশনের বিভিন্ন এলাকায়।  তবে ক্রেতাদের একটাই অভিযোগ, চলতি বছর লিচুর দাম বেশি,  যা নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের একটু বাইরে।
মৌসুমের রসালো ফল লিচু। এ স্টেশনে দিনাজপুর ও রাজশাহী থেকে প্রতিদিন ভোরবেলায় কাভার্ডভ্যানে করে লিটুর গাড়ি আসে। আতড়দার থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা লিচু ক্রয় করে।  বাজারে এখনো দেশি লিচুর দাম বেশ চড়া।
 লিচুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দিনাজপুরের লিচুর চাইতে রাজশাহী লিচুর চাহিদা বেশি,মিস্টিও বেশি তবে, দাম নাগালের বাইরে। ভোরবেলায় লিচুর গাড়ি থেকে কিনে  কেউ লিচু নিয়ে আসছে টুকরিতে করে, কেউ রিকশায়, আবার কেউ  কেউ ভ্যানে করে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বটতলী বাজারে পাটনাই, বোম্বাই, চায়না থ্রি, চায়না-টু ও এলাচি জাতের লিচু পাওয়া যায়।
১০০টি লিচুর দাম ৬০০ টাকা বিক্রি করছে, আবার কেউ কেউ ১০০টি লিচু ৫০০টাকা বিক্রি করছে। এলাকার চাষকৃত লিচুর চাহিদা খুবই কম। রাজশাহী ও দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা একটু বেশি।
লিচু বিক্রেতা শহীদুল আলম প্রকাশ শহীদ ফকির জানান, ১শ’টি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ টাকার উপরে।  বাগানেই দাম বেশি হওয়ার কারণে কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। লিচু বাগানে লিচু এ বছরে কম।  তবে লিচুর আমদানি হলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে জানান।
আরেকজন লিচু বিক্রেতা রফিক জানান, দেশি লিচু মিস্টি কম, সেজন্য দিনাজপুরি ও রাজশাহী লিচুর চাহিদা বেশি। আমরা বেশি দামে কিনার কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
শাহ আলম নামের এক লিচু ক্রেতা বলেন, বাজারে লিচু এসেছে, তাই ৫০টি কিনলাম ২৫০ টাকায়। দাম কমায়নি বিক্রেতা। টক না মিষ্টি তা খেয়ে দেখা হয়নি।
বটতলী বাজারে আসা আবদুর রহমান নামের একজন ভোক্তা বলেন, লিচুর দাম অনেক বেশি। গত বছরের তুলনায় দেড়গুণ দাম বেড়েছে। সবাই খেতে চায়, কিন্তু এত দাম দিয়ে কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
বটতলী স্টেশনের ঝাল বিতানের এক দোকানদার, লিচু ক্রেতা রাসেল বলেন, বটতলী বাজার থেকে কয়েকবার লিচু কিনলাম। তবে, ৫০টা লিচু কিনলে বাড়িতে গিয়ে দেখি ৪০টা লিচু। তিন-চার লিচু কিনে ঠকেছি।
লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কাজি শফিউল ইসলাম জানান,  এলাকার দেশি লিচুর ভিতরের খাবারের অংশে কম হওয়ায় এগুলোর চাহিদা কম, আবার রাজশাহী ও,দিনাজপুরের লিচুর ভিতরে অংশে অনেক সুস্বাদু, দানাও ছোট্ট তাই এগুলোর চাহিদা বেশি  অনেক দূর থেকে লিচু গুলো উপজেলা পর্যায়ে আসলে গাড়ি ভাড়াটা যোগ হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

লোহাগাড়ায় জমে উঠেছে লিচুর বাজার, দাম চড়া হওয়ায় হতাশ ক্রেতারা! 

প্রকাশিত: ০২:২০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় জমে উঠেছে লিচুর বাজার। বিভিন্ন জাতের লিচুর ডালা সাজিয়ে বেচাকেনা চলছে লোহাগাড়া সদরে বটতলী মোটর স্টেশনের বিভিন্ন এলাকায়।  তবে ক্রেতাদের একটাই অভিযোগ, চলতি বছর লিচুর দাম বেশি,  যা নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের একটু বাইরে।
মৌসুমের রসালো ফল লিচু। এ স্টেশনে দিনাজপুর ও রাজশাহী থেকে প্রতিদিন ভোরবেলায় কাভার্ডভ্যানে করে লিটুর গাড়ি আসে। আতড়দার থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা লিচু ক্রয় করে।  বাজারে এখনো দেশি লিচুর দাম বেশ চড়া।
 লিচুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দিনাজপুরের লিচুর চাইতে রাজশাহী লিচুর চাহিদা বেশি,মিস্টিও বেশি তবে, দাম নাগালের বাইরে। ভোরবেলায় লিচুর গাড়ি থেকে কিনে  কেউ লিচু নিয়ে আসছে টুকরিতে করে, কেউ রিকশায়, আবার কেউ  কেউ ভ্যানে করে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বটতলী বাজারে পাটনাই, বোম্বাই, চায়না থ্রি, চায়না-টু ও এলাচি জাতের লিচু পাওয়া যায়।
১০০টি লিচুর দাম ৬০০ টাকা বিক্রি করছে, আবার কেউ কেউ ১০০টি লিচু ৫০০টাকা বিক্রি করছে। এলাকার চাষকৃত লিচুর চাহিদা খুবই কম। রাজশাহী ও দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা একটু বেশি।
লিচু বিক্রেতা শহীদুল আলম প্রকাশ শহীদ ফকির জানান, ১শ’টি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ টাকার উপরে।  বাগানেই দাম বেশি হওয়ার কারণে কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। লিচু বাগানে লিচু এ বছরে কম।  তবে লিচুর আমদানি হলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে জানান।
আরেকজন লিচু বিক্রেতা রফিক জানান, দেশি লিচু মিস্টি কম, সেজন্য দিনাজপুরি ও রাজশাহী লিচুর চাহিদা বেশি। আমরা বেশি দামে কিনার কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
শাহ আলম নামের এক লিচু ক্রেতা বলেন, বাজারে লিচু এসেছে, তাই ৫০টি কিনলাম ২৫০ টাকায়। দাম কমায়নি বিক্রেতা। টক না মিষ্টি তা খেয়ে দেখা হয়নি।
বটতলী বাজারে আসা আবদুর রহমান নামের একজন ভোক্তা বলেন, লিচুর দাম অনেক বেশি। গত বছরের তুলনায় দেড়গুণ দাম বেড়েছে। সবাই খেতে চায়, কিন্তু এত দাম দিয়ে কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
বটতলী স্টেশনের ঝাল বিতানের এক দোকানদার, লিচু ক্রেতা রাসেল বলেন, বটতলী বাজার থেকে কয়েকবার লিচু কিনলাম। তবে, ৫০টা লিচু কিনলে বাড়িতে গিয়ে দেখি ৪০টা লিচু। তিন-চার লিচু কিনে ঠকেছি।
লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কাজি শফিউল ইসলাম জানান,  এলাকার দেশি লিচুর ভিতরের খাবারের অংশে কম হওয়ায় এগুলোর চাহিদা কম, আবার রাজশাহী ও,দিনাজপুরের লিচুর ভিতরে অংশে অনেক সুস্বাদু, দানাও ছোট্ট তাই এগুলোর চাহিদা বেশি  অনেক দূর থেকে লিচু গুলো উপজেলা পর্যায়ে আসলে গাড়ি ভাড়াটা যোগ হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।