ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় এক বসতঘর পুড়ে ছাই, ১০লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

রায়হান সিকদারঃ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অগ্নিকান্ডে এক বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে। ২২অক্টোবর (বুধবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তেলিবিলা পশ্চিম হিন্দু পাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের নাম টিপু বিশ্বাস। সে ওই এলাকার চন্দ্র কুমার বিশ্বাসের পুত্র।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে পরিবারের কোন সদস্য বাড়িতে ছিলনা। মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে টিপু বিশ্বাসের স্ত্রী যমুনা বিশ্বাস বেড়াতে গিয়েছি। টিপু বিশ্বাস ব্রিক ফিল্ডে দিন মজুরের কাজ করে। উল্লেখিত সময়ে অগ্নিকান্ডে তার টিনের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছার পুর্বে অগ্নিকান্ডে বাড়ির বসতঘরের আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকার, কাপড়-চোপড়,নগদ টাকা,আসবাবপত্র, টিভি,ফ্রিজ ও যাবতীয় মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

স্থানীয়রা কেউ কেউ ধারণা করছেন,বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্থ টিপু বিশ্বাসের স্ত্রী যমুনা বিশ্বাস বলেন, আমি মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সকাল বাড়ির পার্শ্বের প্রতিবেশী খবর দেয়, আমার বসতঘরে আগুন লাগছে। আমি শুনার সাথে সাথে চলে আসছি। বাড়িতে এসে দেখি সবকিছু আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। পরার জন্য একটা শাড়িও পর্যন্ত বের করতে পারিনি।

ক্ষতিগ্রস্থ টিপু বিশ্বাসের ছেলে নয়ন বিশ্বাস বলেন, আমি বাঁশখালি প্রশিকা এনজিও তে চাকরি করি। আমার মা বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেছে।বাবা দিনমজুরের কাজ করতে ব্রিক ফিল্ডে ছিল। বাড়িতে এসে দেখি আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।অগ্নিকান্ডে আমাদের ১০লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা, লোহাগাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পলাশ দাশ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা খুব অসহায়, দরিদ্র। আগুনে পুড়ে যাওয়া বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগিত করেছি।

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আজাদুল ইসলাম বলেন, বসতঘরে কেউ ছিলনা। আমাদের কে একটু দেরিতে আগুন লাগার খবরটি দেওয়া হয়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত ঘটে। অগ্নিকান্ডে সব কিছু পুড়ে গেছে। অগ্নিকান্ডে ৫লাখ টাকার মত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান,অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য নয়ন বিশ্বাস ক্ষতিপূরণের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

লোহাগাড়ায় এক বসতঘর পুড়ে ছাই, ১০লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশিত: ১০:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

রায়হান সিকদারঃ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অগ্নিকান্ডে এক বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে। ২২অক্টোবর (বুধবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তেলিবিলা পশ্চিম হিন্দু পাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের নাম টিপু বিশ্বাস। সে ওই এলাকার চন্দ্র কুমার বিশ্বাসের পুত্র।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে পরিবারের কোন সদস্য বাড়িতে ছিলনা। মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে টিপু বিশ্বাসের স্ত্রী যমুনা বিশ্বাস বেড়াতে গিয়েছি। টিপু বিশ্বাস ব্রিক ফিল্ডে দিন মজুরের কাজ করে। উল্লেখিত সময়ে অগ্নিকান্ডে তার টিনের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছার পুর্বে অগ্নিকান্ডে বাড়ির বসতঘরের আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকার, কাপড়-চোপড়,নগদ টাকা,আসবাবপত্র, টিভি,ফ্রিজ ও যাবতীয় মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

স্থানীয়রা কেউ কেউ ধারণা করছেন,বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্থ টিপু বিশ্বাসের স্ত্রী যমুনা বিশ্বাস বলেন, আমি মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সকাল বাড়ির পার্শ্বের প্রতিবেশী খবর দেয়, আমার বসতঘরে আগুন লাগছে। আমি শুনার সাথে সাথে চলে আসছি। বাড়িতে এসে দেখি সবকিছু আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। পরার জন্য একটা শাড়িও পর্যন্ত বের করতে পারিনি।

ক্ষতিগ্রস্থ টিপু বিশ্বাসের ছেলে নয়ন বিশ্বাস বলেন, আমি বাঁশখালি প্রশিকা এনজিও তে চাকরি করি। আমার মা বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেছে।বাবা দিনমজুরের কাজ করতে ব্রিক ফিল্ডে ছিল। বাড়িতে এসে দেখি আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।অগ্নিকান্ডে আমাদের ১০লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা, লোহাগাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পলাশ দাশ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা খুব অসহায়, দরিদ্র। আগুনে পুড়ে যাওয়া বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগিত করেছি।

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আজাদুল ইসলাম বলেন, বসতঘরে কেউ ছিলনা। আমাদের কে একটু দেরিতে আগুন লাগার খবরটি দেওয়া হয়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত ঘটে। অগ্নিকান্ডে সব কিছু পুড়ে গেছে। অগ্নিকান্ডে ৫লাখ টাকার মত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান,অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য নয়ন বিশ্বাস ক্ষতিপূরণের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।