ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রামুর সাংবাদিক সোয়েব সাঈদের বাড়িতে আবারও হামলা

দেশবাংলা রিপোর্ট

হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা মামলায় জামিন পাওয়ায় ক্ষুব্দ হয়ে রামুর সাংবাদিক সোয়েব সাঈদের বাড়িতে আবারও হামলা করেছে প্রতিপক্ষ আব্দুল হক প্রকাশ হক সাব’র ছেলে ও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা।

এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাংবাদিক সোয়েব সাঈদ, তার মা রওনক জাহান (৫০), তার গর্ভবতী স্ত্রী আইরিন জাহান ও ভাইসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সোয়েব সাঈদের মা রওনক জাহান (৫০) ও স্ত্রী আইরিন জাহানের (২৭) অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বুধবার (২৯ মে) সন্ধ্যা সাতটায় কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের অফিসের চর গ্রামে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের তাৎক্ষণিক রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে মা ও স্ত্রীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। তাদের মধ্যে রওনক জাহানের মাথায় ১২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রাত দশটার দিকে এ রিপোর্ট লেখার সময়ও আইরিন জাহানের জ্ঞান ফেরেনি।

দৈনিক আমাদের সময় ও চট্টগ্রামের পূর্বদেশ পত্রিকার রামু প্রতিনিধি এবং কক্সবাজারের স্থানীয় কাগজ দৈনিক কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার সোয়েব সাঈদ বাংলানিউজকে জানান, সন্ধ্যায় ইফতারের পর তার ছোট ভাই রুহুল আমিন মাগরিবের নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় রুহুল বাড়ির উঠানে পৌঁছলেই আগে থেকে ওৎপেতে থাকা সরকারি গেজেটভুক্ত রাজাকার আব্দুল হক প্রকাশ হক সাব’র ছেলে জামায়াত নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো (৪৫), আবুল আলা (৪০), গোলাম মওলা (৩৯), ভুট্টোর ছেলে আনিস (২৬), আসিফ (২২) এবং মরিচ্যা থেকে আসা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আকিব, বাহাদুরসহ ৩০-৪০ জনের সশস্ত্র দল অতির্কিত রুহুলের উপর হামলা চালায়।

এ সময় সোয়েব সাঈদ, তার মা, স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা রুহুলকে উদ্ধার করতে এলে সন্ত্রাসীরা সোয়েব সাঈদের মা রওনক জাহান ও তার সাত মাসের গর্ভবতী স্ত্রী আইরিন জাহানসহ সবাইকে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়।

সাংবাদিক সোয়েব আরো জানান, ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাড়ির উঠানে স্ট্রোক করে হক সাব-এর ছেলে আব্দুল হামিদ খান ভাসানী মারা যান। কিন্তু এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ এনে সোয়েব সাঈদ, তার ভাই, চাচাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সে সময় পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া না গেলেও পরে ময়না তদন্ত করার সময় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গের লাশ কাটার লোককে (ডোম) মোটা অংকের টাকা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বুকের হাড় ভেঙে দিয়ে ময়না তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে আদালতে দাখিল করেন।

তিনি বলেন, সেই মামলায় গত ১৯ মে সবাই জামিন পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটান তারা। সোয়েব সাঈদ বলেন, আমাদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যা মামলা ছাড়াও চাঁদাবাজি, ছিনতাই, নারী নির্যাতনসহ অন্তত ১২টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি পুলিশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় হামলার পর উল্টো হক সাব-এর ছেলে যুবলীগ নেতা গোলাম মওলা থানায় গিয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।

এ ঘটনায় বক্তব্য নেওয়ার জন্য রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল মনসুরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. এবিএম মাসুদ হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমি শুনেছি দুইপক্ষের লোকজন আহত হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

রামুর সাংবাদিক সোয়েব সাঈদের বাড়িতে আবারও হামলা

প্রকাশিত: ০২:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০১৯

দেশবাংলা রিপোর্ট

হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা মামলায় জামিন পাওয়ায় ক্ষুব্দ হয়ে রামুর সাংবাদিক সোয়েব সাঈদের বাড়িতে আবারও হামলা করেছে প্রতিপক্ষ আব্দুল হক প্রকাশ হক সাব’র ছেলে ও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা।

এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাংবাদিক সোয়েব সাঈদ, তার মা রওনক জাহান (৫০), তার গর্ভবতী স্ত্রী আইরিন জাহান ও ভাইসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সোয়েব সাঈদের মা রওনক জাহান (৫০) ও স্ত্রী আইরিন জাহানের (২৭) অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বুধবার (২৯ মে) সন্ধ্যা সাতটায় কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের অফিসের চর গ্রামে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের তাৎক্ষণিক রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে মা ও স্ত্রীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। তাদের মধ্যে রওনক জাহানের মাথায় ১২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রাত দশটার দিকে এ রিপোর্ট লেখার সময়ও আইরিন জাহানের জ্ঞান ফেরেনি।

দৈনিক আমাদের সময় ও চট্টগ্রামের পূর্বদেশ পত্রিকার রামু প্রতিনিধি এবং কক্সবাজারের স্থানীয় কাগজ দৈনিক কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার সোয়েব সাঈদ বাংলানিউজকে জানান, সন্ধ্যায় ইফতারের পর তার ছোট ভাই রুহুল আমিন মাগরিবের নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় রুহুল বাড়ির উঠানে পৌঁছলেই আগে থেকে ওৎপেতে থাকা সরকারি গেজেটভুক্ত রাজাকার আব্দুল হক প্রকাশ হক সাব’র ছেলে জামায়াত নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো (৪৫), আবুল আলা (৪০), গোলাম মওলা (৩৯), ভুট্টোর ছেলে আনিস (২৬), আসিফ (২২) এবং মরিচ্যা থেকে আসা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আকিব, বাহাদুরসহ ৩০-৪০ জনের সশস্ত্র দল অতির্কিত রুহুলের উপর হামলা চালায়।

এ সময় সোয়েব সাঈদ, তার মা, স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা রুহুলকে উদ্ধার করতে এলে সন্ত্রাসীরা সোয়েব সাঈদের মা রওনক জাহান ও তার সাত মাসের গর্ভবতী স্ত্রী আইরিন জাহানসহ সবাইকে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়।

সাংবাদিক সোয়েব আরো জানান, ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাড়ির উঠানে স্ট্রোক করে হক সাব-এর ছেলে আব্দুল হামিদ খান ভাসানী মারা যান। কিন্তু এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ এনে সোয়েব সাঈদ, তার ভাই, চাচাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সে সময় পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া না গেলেও পরে ময়না তদন্ত করার সময় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গের লাশ কাটার লোককে (ডোম) মোটা অংকের টাকা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বুকের হাড় ভেঙে দিয়ে ময়না তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে আদালতে দাখিল করেন।

তিনি বলেন, সেই মামলায় গত ১৯ মে সবাই জামিন পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটান তারা। সোয়েব সাঈদ বলেন, আমাদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যা মামলা ছাড়াও চাঁদাবাজি, ছিনতাই, নারী নির্যাতনসহ অন্তত ১২টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি পুলিশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় হামলার পর উল্টো হক সাব-এর ছেলে যুবলীগ নেতা গোলাম মওলা থানায় গিয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।

এ ঘটনায় বক্তব্য নেওয়ার জন্য রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল মনসুরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. এবিএম মাসুদ হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমি শুনেছি দুইপক্ষের লোকজন আহত হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।