
আল্লাহর শেষ নবী ও রাসূল (স.) তাঁর জীবনকালে মাত্র একবারই হজ্ব করতে পেরেছিলেন। সেই হজ্বে ১০ম হিজরীর ৯ যিলহজ্ব তারিখে বিশ্বনবী (সা.) আরাফাতের বিশাল ময়দানে উপস্থিত লক্ষাধিক সাহাবীর সম্মুখে জীবনের যে অন্তিম ভাষণ দান করেছিলেন তা ইসলামের ইতিহাসে বিদায় হজ্বের ঐতিহাসিক ভাষণ নামে পরিচিত। ওই ভাষণে রাসূলুল্লাহ (সা.) মানবাধিকার সম্পর্কিত কতকগুলো বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দান করেন, যার প্রধান বিষয়গুলো হচ্ছে
(১) ধর্মীয় আদেশ নিষেধ মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা।
(২) দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিকরণ
(৩) আমানতের খিয়ানত না করা।
(৪) জুলুম নির্যাতন বন্ধকরণ
(৫) সুদের লেনদেন নিষিদ্ধকরণ
(৬) নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাকরণ,
(৭) ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাকরণ
(৮) অভিজাত্যের গর্ব রহিতকরণ
(৯) দ্বীনের পরিপূর্ণতা লাভ
(১০) সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ
(১১) রক্তপাত নিষিদ্ধকরণ
(১২) নবুয়্যতের পথ বন্ধকরণ
(১৩) শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাকরণ
(১৪) শিরক নিষিদ্ধকরণ
(১৫) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা
(১৬) পিতামাতার সাথে উত্তম আচরণ করা
(১৭) জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বারোপ
(১৮) প্রতিবেশীর অধিকার প্রতিষ্ঠা
(১৯) আল্লাহকে সর্বাবস্থায় ভয় করা
(২০) চাকর চাকরাণীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ
(২৪) মদ ও ব্যভিচার নিষিদ্ধকরণ
(২৫) ইয়াতীমের সম্পদ আত্মাসাৎ না করা
(২৬) আমীরের আনুগত্য করা
(২৭) মাপে ও ওজনে কম না দেয়া
(২৮) অঙ্গীকার পালন করা
(২৯) পথভ্রষ্ট না হবার উপায়
(৩০) কৃতজ্ঞতা ও কর্তব্য পরায়ণতা
(৩১) তাবলীগ তথা দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যে দাওয়াতি কাজ করা।
তিনি বলেন, হে বন্ধুগণ! যারা এখানে উপস্থিত আছো তারা অনুপস্থিতগণের নিকট আমার এ বাণী পৌঁছিয়ে দিবে।
ভাষণ শেষে বিশ্বনবী (সা.) বললেন, হে সাহাবীগণ! আমি কি আমার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি?
উপস্থিত সাহাবীগণ উচ্চস্বরে বললেন, হ্যাঁ।
এরপর বিশ্বনবী (সা.) হাত উঁচু করে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো।
এরপর পবিত্র কুরআনের সূরা মায়িদা-র ৩নং আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “আজিকার এদিনে আমি তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করে দিলাম, আর জীবন ব্যবস্থা হিসেবে তোমাদের জন্যে ইসলামকে মনোনীত করলাম।”
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 

























