ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি কক্ষ থেকে সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদের মরদেহ উদ্ধার

সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান ও মুক্তিযোদ্ধা এম হারুন-অর-রশীদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি গেস্টরুম থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।হারুন-অর-রশীদ ছিলেন ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট।

চট্টগ্রাম ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন জানান, সাবেক সেনাপ্রধান ক্লাবের গেস্টহাউসের একটি কক্ষে একা অবস্থান করছিলেন। রাতে সেখানে অবস্থানের পর আজ সকাল পর্যন্ত তিনি বাইরে না আসায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। দুপুর ১২টার পর পুলিশের উপস্থিতিতে কক্ষের দরজা খুলে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

এরপর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), চট্টগ্রামের চিকিৎসকদের একটি দল এসে তাঁকে পরীক্ষা করেন এবং মৃত ঘোষণা করেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, সম্ভবত রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করা এম হারুন-অর-রশীদ ছিলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসিন্দা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়।

২০০০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আসেন হারুন। ২০০২ সালের জুনে অবসরে যাওয়ার পর সরকার তাকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজির রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও দিয়েছিল।

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাবেক মহাসচিব হারুন-অর-রশিদ ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন ২০০৬ সালে। পরের কয়েক বছরে আরও বহু ক্ষেত্রে ডেসটিনির ব্যবসা বিস্তৃত হতে দেখা যায়।

কিন্তু জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ তুঙ্গে উঠলে ২০১২ সালে হারুনকে কারাগারেও যেতে হয়।

সাবেক সেনাপ্রধানের এই প্রয়াণে জাতি হারাল এক গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

 

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি কক্ষ থেকে সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত: ০৩:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান ও মুক্তিযোদ্ধা এম হারুন-অর-রশীদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি গেস্টরুম থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।হারুন-অর-রশীদ ছিলেন ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট।

চট্টগ্রাম ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন জানান, সাবেক সেনাপ্রধান ক্লাবের গেস্টহাউসের একটি কক্ষে একা অবস্থান করছিলেন। রাতে সেখানে অবস্থানের পর আজ সকাল পর্যন্ত তিনি বাইরে না আসায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। দুপুর ১২টার পর পুলিশের উপস্থিতিতে কক্ষের দরজা খুলে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

এরপর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), চট্টগ্রামের চিকিৎসকদের একটি দল এসে তাঁকে পরীক্ষা করেন এবং মৃত ঘোষণা করেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, সম্ভবত রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করা এম হারুন-অর-রশীদ ছিলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসিন্দা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়।

২০০০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আসেন হারুন। ২০০২ সালের জুনে অবসরে যাওয়ার পর সরকার তাকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজির রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও দিয়েছিল।

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাবেক মহাসচিব হারুন-অর-রশিদ ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন ২০০৬ সালে। পরের কয়েক বছরে আরও বহু ক্ষেত্রে ডেসটিনির ব্যবসা বিস্তৃত হতে দেখা যায়।

কিন্তু জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ তুঙ্গে উঠলে ২০১২ সালে হারুনকে কারাগারেও যেতে হয়।

সাবেক সেনাপ্রধানের এই প্রয়াণে জাতি হারাল এক গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।