রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২

লোহাগাড়ায় এক ব্যক্তিকে দ্রুত নামজারী করার ব্যবস্হা করে দিলেন এসিল্যান্ড

প্রকাশিত : ৯:১২ পূর্বাহ্ন রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মুহাম্মদ আবদু্ল মন্নান। তার পিতার নাম আলী আহমদ সওদাগর। উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কাজির পাড়ায় তার বাড়ী। তিনি আধুনগর ইউপির ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার। দীর্ঘদিন ধরে তার জমির কাগজপত্র নিয়ে নামজারীর জন্য অনেক কষ্টে ছিল। বিগত দিনে অনেকবারে ভূমি অফিসে গেলেও কাজের কাজ হয়নি। নতুন এসিল্যান্ড হিসেবে লোহাগাড়ায় যোগদান করেন মোঃ মাসুদ রানা।

মুহাম্মদ আবদুল মান্নান সরাসরী কথা বলতে উপজেলা সহকারী কমিশনার কার্যালয়ে যান। তিনি দেখা করেন। লোহাগাড়ার এসিল্যান্ড কে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখান। কাগজপত্র বিবেচনা করে আবদুল মান্নানকে দ্রুত নামজারী ব্যবস্হা করে দিতে ভূমি অফিসের কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

ঠিক ৫দিনের মধ্যে আবদুল মান্নানকে নামজারী ব্যবস্হা করে দিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোঃ মাসুদ রানা।

ভুক্তভোগী আবদুল মান্নান মেম্বার খুশী হয়ে নামজারী সম্পন্ন হওয়ার তার ফেইসবুক আইডি abdul mannan লিখেছেন তা হুবুহু তুলে ধরা হল, আগে কর্মকর্তাদের মুখের কথা শুনতাম,কিন্তু আজকে স্বচক্ষে কাজ দেখলাম,নিজের কাজ এক সপ্তাহের মধ্যে নামজারী করে নিলাম।আর অন্য অনেক লোককে নিজ দায়িত্বে যাচাই বাছাই করে সমাধান করে দিতে দেখলাম। স্যালুট এমনতর কর্মকর্তাদের।

তার সাথে মুঠোফোনে যেগাযোগ করা হলে তিনি উক্ত প্রতিবেদককে জানান, আমি নিজেদের নামজারি এর আগেও অনেক করেছি। টাকাও বেশী লাগছিল। কিন্তু বর্তমানের ব্যাপারটা সম্পুর্ন ভিন্ন।গত ৫দিন পুর্বে তহসীলদার অফিস থেকে পাস করে এনে গতকাল কানুনগো ‘র পাস নিয়েছিলাম,এবং আজকে বাকী সব কর্ম একই জায়গা থেকে সম্পন্ন করে দিল এসিল্যান্ড স্যার,এবং ব্যক্তিগতভাবে বলল, তাঁর অফিসে পর্দা লাগানো নিষেধ। ভেতরে বাহীরে দেখা যায় মতো। দরজায় পিয়ন দাঁড়ানো নিষেধ। যাতে সেবা প্রার্থীরা অবাধে যাওয়া আসা করতে পারে।পরিশেষে বলল লোকজনদের পাঠাবেন বলবেন সরাসরি আমার রুমে এসে সেবা নিতে,কোন ফড়িয়া বা দালাল লাগবেনা বলেও স্যার জানান।

এমন এসিল্যান্ড স্যারকে অবশ্যই স্যালুট জানাচ্ছি এবং তিনি দ্রুত নামজারী করার মত গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেয়ে স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

 

উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোঃ মাসুদ রানা জানান, আমি যোগদান করার পর থেকে অফিসে কোন মাধ্যম নিয়ে আসতে হয়না। আমার অফিসের সামনে পর্দাগুলো সরিয়ে রেখেছি। সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়াটা আমার মুল লক্ষ্যে। আমি বিশ্বাস করি কর্মে হোক প্রথম পরিচয়। যেকোন মানুষ নির্ভয়ে এসে আমার সাথে সরাসরি দেখা করে সেবা নিতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, আবদু্ল মান্নান নামে একজন ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন নামজারী করতে হিমশিম খেতে হয়েছিল। সে আমার অফিসে সরাসরী দেখা করতে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো দেখে বিবেচনা পুর্বক আমার ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কে তাকে দ্রুত নামজারী ব্যবস্হা করে দেওয়ার জন্য ব্যবস্হা করে দিয়েছি।

সাধারণ মানুষ এসে সেবা গ্রহণ করবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে জনগনকে সেবা দেওয়াটা হচ্ছে আমার কাজ।কোন মানুষ ভূমি অফিসে এসে হয়রানী হলে তা কঠোরভাবে ব্যবস্হা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

আরো পড়ুন