রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘন ঘন লোড়শেডিং এর কারণে বিদ্যুৎ ছিলনা, এরমধ্যে দুই ঘন্টার মতো বিদ্যুৎ ছিলো বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্মে আইপিএসের ব্যাক-আপও চলে গেছে। এতে করে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীদের কষ্ট বেড়েছে। যতক্ষণ আইপিএস ব্যাক-আপ ছিল ততক্ষণ পর্যন্ত হাসপাতালের সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান থাকলেও আইপিএসের ব্যাক-আপ শেষ, পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বন্ধ রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, লোহাগাড়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং। যাচ্ছে আর আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ১২এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এর মধ্যে বিদ্যুৎ ছিল দেড় ঘন্টা।একইদিন সন্ধ্যায়ও দেখা মিলেনি বিদ্যুৎ এর। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারিরাও কাজ করতে হিমশিম খেতে হয়েছে। চরম দুর্ভোগে পোহাতে হয়েছে ভর্তিকৃত রোগীরা। এদিকে হাসপাতালে রক্ষিত জেনারেটরেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। আইপিএসের ব্যাক-আপও নেই।
হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য,কমপ্লেক্সে একটি জেনারেটর ছিল, কিছুদিন ধরে সেই জেনারেটর টি বিকল হয়ে গেছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে বার বার অবগত হলেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের থেকে কর্মকর্তারা এসে এ জেনারেটরটিকে অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা দেন।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিদুল সিকদার বলেন, আজ ১২এপ্রিল সকাল সাড়ে আটটার দিকে অফিসে গেলে বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে। বিকেল চার টার মধ্যে দেড় ঘন্টার মতো বিদ্যুৎ ছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় নেবুলাইজার ব্যবহার, পানি সরবরাহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। আইপিএস কিছুক্ষণ ব্যাক-আপ দেওয়ায় কিছুটা হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন,রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল দেড়ঘন্টার মতো।এরপরেও ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারণে স্বাস্থ্য,কমপ্লেক্মে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের কস্ট হয়েছে। আইপিএসও আর লোড নিতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে জেনারেটরটি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে বার বার সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিগত কিছুদিন পুর্বে হাসপাতালে এসে জেনারেটরটি বিকল হওয়ায় ব্যবহারের অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়টি নিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়কে অবগত করলে তার কাছ থেকে ডিও লেটার নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ে সুন্দর সমাধান পাবো।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি লোহাগাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, আমরা ৫০% এর মতো লোড পাচ্ছি। শুধু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সমস্যা না, বিদ্যুৎ এর সমস্যা পুরো লোহাগাড়াতে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেশি পাচ্ছিনা।। তাই একটু ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সময়ে এটি নিরসন সম্ভব হবে।