সুন্দরী নারীর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট। এরপর বন্ধুত্বের অনুরোধ, ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা, কথোপকথন সরিয়ে নেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামে। একপর্যায়ে অডিও-ভিডিও কলের ফাঁদ। আর সেই যোগাযোগের সুযোগে ধারণ করা ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিওকে হাতিয়ার বানিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ওপর চাপ সৃষ্টি—এমনই এক বিস্তৃত প্রতারণা নেটওয়ার্কের তথ্য উঠে এসেছে সরকারি একটি দায়িত্বশীল সংস্থার অনুসন্ধানে।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের ছৈয়দাবাদ এলাকার বাসিন্দা জোবাইরুল হক জিয়ান (৩১)। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় এক দশক ধরে ভুয়া নারী পরিচয়ে বিভিন্ন শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তিকে টার্গেট করে আসছেন তিনি। তার টার্গেটের তালিকায় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জিয়ানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৫৪টি নারী পরিচয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের তথ্যও পাওয়া গেছে।
তদন্ত সূত্রের ভাষ্য, জিয়ান কখনো পরিচিত তরুণী বা মডেল, কখনো স্বামী পরিত্যক্তা কিংবা এক সন্তানের মা—এমন নানা পরিচয় ব্যবহার করতেন। নারী কণ্ঠে কথা বলার জন্য বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে কৌশলে ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সাবেক সিএমপি কমিশনারকে ঘিরে যে তথ্য
সরকারি সংস্থার অনুসন্ধানে জিয়ানের কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ নেটওয়ার্কের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হিসেবে উঠে এসেছে সাবেক চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের বিষয়টি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন পাহাড়তলী থানার ওসি এবং বর্তমানে ডিবিতে কর্মরত বাবুল আজাদের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মডেল সানজিদা ইসলাম সায়মার সঙ্গে জিয়ানের পরিচয় হয়। বাবুল আজাদ সানজিদাকে নিজের ‘শ্যালিকা’ হিসেবে হাসিব আজিজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এরপর সানজিদা ইসলাম সায়মার নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন জিয়ান। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে সাবেক কমিশনারকে পাঠানো হয় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। ধীরে ধীরে মেসেঞ্জারের যোগাযোগ গড়ায় অডিও ও ভিডিও কলে।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো যোগাযোগের আড়ালে প্রকৃত সানজিদা ইসলাম সায়মা ছিলেন না; তার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে জিয়ানই যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
হাসিব আজিজের সঙ্গে কথোপকথনে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল নম্বর এবং চারটি ভিডিও পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত সূত্র। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে প্রকৃত সানজিদা ইসলাম সায়মার ফেসবুক লাইভের ১৫ সেকেন্ডের অংশ কেটে ভিডিও কলে ব্যবহার করার তথ্যও পাওয়া গেছে। এতে অপর প্রান্তে প্রকৃত সানজিদা না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি।
২০২৫ সালের শুরু থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলা ওই ভার্চুয়াল যোগাযোগের চারটি ভিডিওর একটিতে সাবেক কমিশনারকে আপত্তিকর অবস্থায় এবং অন্য তিনটিতে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায় বলে তদন্ত সূত্র জানিয়েছে।
তবে হাসিব আজিজ চারটি ভিডিওর মধ্যে তিনটি নিজের বলে স্বীকার করলেও একটি ভিডিওকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছেন।
হানিট্র্যাপে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পরিচয়টি ভুয়া জানতে পেরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ব্লক করেন। তবে ওই চক্র তাকে দিয়ে কোনো অনৈতিক কাজ করাতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
ভিডিওকে হাতিয়ার করে বদলি-পদায়নে প্রভাব?
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক কমিশনার হাসিব আজিজের ব্যক্তিগত ভিডিওকে ব্যবহার করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় ওসি পদায়ন ও বদলিতে প্রভাব বিস্তার করত জিয়ান এবং দুই ওসি—বাবুল আজাদ ও জাহেদুল ইসলাম।
সূত্রের ভাষ্য, কোনো থানায় কাকে ওসি করা হবে কিংবা কাকে সরিয়ে দেওয়া হবে—এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে দেনদরবার চূড়ান্ত হওয়ার পর জিয়ানের মাধ্যমে সাবেক কমিশনারের কাছে ফোন করানো হতো। পরে কাঙ্ক্ষিত পদায়ন বা বদলির আদেশ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ।
সিএমপির তৎকালীন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বিষয়টি জানলেও ব্যক্তিগত ভিডিও প্রকাশের আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি বলেও তদন্ত সূত্রের দাবি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও রয়েছে।
পাঁচলাইশ থানার বর্তমান ওসি জাহেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এরকম তো অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়। কে, কখন, কোথায় তা ব্যবহার করেছে বা আমার সঙ্গে ছিল কি না, আমি আসলে জানি না।’
অন্যদিকে পাহাড়তলী থানার সাবেক ওসি ও বর্তমানে সিএমপির ডিবিতে কর্মরত বাবুল আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার বিষয়ে অভিযোগের প্রমাণ নিয়ে ভালো করে নিউজ করেন। তার (জিয়ান) সঙ্গে আমার সখ্যতা থাকার বিষয়টা আপনারা প্রমাণ করেন। আর এটা নিয়ে যে মেয়েটা ভুক্তভোগী তার সঙ্গে কথা বলেন। তাহলেই সত্য-মিথ্যা সব প্রমাণ হয়ে যাবে।’
বর্তমান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। সাবেক পুলিশ কমিশনারও এ ধরনের কোনো অভিযোগ লিখিত বা মৌখিকভাবে জানাননি। আপনার কাছে কোনো তথ্য থাকলে দিন, আমি ব্যবস্থা নেব।’
কর্ণফুলী থানায় পদায়নের আগাম বার্তা
তদন্তে জিয়ানের সঙ্গে ওসি জাহেদুল ইসলামের যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
জাহেদুল ইসলামকে কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে পদায়নের বিষয়টি আগেই একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। পদায়ন হওয়ার পর জিয়ান ও জাহেদুলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয় বলে দাবি তদন্তসংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগ রয়েছে, জাহেদুল ইসলাম জিয়ানকে একটি আইফোন উপহার দেন। নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে করেও তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন। জিয়ানের ফেসবুক প্রোফাইলে ওসির গাড়িতে করে কর্ণফুলী টানেল পার হওয়ার ছবিও পাওয়া গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
৫৪ ভুয়া অ্যাকাউন্টের জাল
তদন্তে জিয়ানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫৪টি নারী পরিচয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্র।
এর মধ্যে ‘জান্নাতুল মনি’ পরিচয়টি নিজের বোন হিসেবে ব্যবহার করার পাশাপাশি ‘জান্নাতুল নাইমা’ নামের আরেকটি ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একজন বর্তমান প্রতিমন্ত্রী, একজন সংসদ সদস্য, অন্তত এক ডজন রাজনৈতিক নেতা এবং পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে অন্য রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী বা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি সরকারি তদন্তকারী সংস্থাটি।
জিয়ানকে গ্রেপ্তার ঠেকাতে প্রতিমন্ত্রীর ফোন?
চট্টগ্রাম পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি জিয়ানকে গ্রেপ্তারের জন্য সোর্স নিয়োগ করেছিল চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে তার বসতবাড়ির ওপর নজরদারিও বাড়ানো হয়।
ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, বিষয়টি জানতে পেরে জেলা পুলিশকে থামাতে একজন বর্তমান প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে ফোন করান জিয়ান।
তবে ওই প্রতিমন্ত্রী কে—এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থাটিও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীর পরিচয় এখনো প্রকাশ্যে আসেনি বলে সূত্র জানিয়েছে।
পুরোনো কৌশল, নতুন পরিধি
তদন্তে উঠে এসেছে, জিয়ানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২০ সালের ২৯ মে সাতকানিয়া থানা-পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তখন শিল্পপ্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ভুয়া প্রেমের সম্পর্ক তৈরির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশের তদন্তে ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্ক্রিনশট দেখিয়ে অর্থ দাবি এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে নারীকণ্ঠে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা তৈরির তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাতকানিয়ায় পরিচালিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানেও জিয়ান গ্রেপ্তার হন। তখন ভুয়া নারী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল এবং মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগের কথা জানায় পুলিশ।
বারবার গ্রেপ্তারের পরও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে তার যোগাযোগের পরিধি রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
প্রতিবাদ করায় কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ
সাতকানিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রাসেল উদ্দিনের অভিযোগ, জিয়ানের নানা অপকর্মের তথ্য পুলিশের কাছে পাঠানো এবং এর প্রতিবাদ করায় তাকেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রতারক জিয়ানের নানা অপকর্মের তথ্য পুলিশের কাছে প্রেরণ ও প্রতিবাদ করায় আমাকে ওসি বাবুল আজাদের নির্দেশে এসআই মনিরুলসহ একটি দল নগরের রাইফেল ক্লাব এলাকা থেকে আটক করে। পরে আমাকে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আমি আড়াই মাস জেলে ছিলাম।’
নিজের ছবি ব্যবহারের ঘটনায় মডেল সায়মার জিডি
জিয়ানের কথিত হানিট্র্যাপে যে পরিচয়টি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই প্রকৃত মডেল সানজিদা সায়মাও বিষয়টি জানতে পেরে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা জানিয়ে সানজিদা সাংবাদিকদের বলেন, তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল এবং সেটি ব্যবহার করে পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে নানা অপকর্ম করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন।
তার ভাষায়, ‘আমার নাম ব্যবহার করে ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে পুলিশের কর্মকর্তার সঙ্গে নানা অপকর্ম করেছে বলে জানতে পারি। এ ঘটনায় আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। যদিও পুলিশ এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আমাকে আর কোনো আপডেট দেয়নি। এভাবে আমার মানহানির জন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
সব অভিযোগ অস্বীকার জিয়ানের
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জোবাইরুল হক জিয়ান।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়। বিষয়টি নিয়ে একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। যে দুই ওসির কথা বলা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। সিএমপি কমিশনারের মতো মানুষের কাছে আমি কিছুই না। তিনি চাইলেই তো আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতেন, তিনি নিলেন না কেন?’
অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য—সব মিলিয়ে জোবাইরুল হক জিয়ানের বিরুদ্ধে ওঠা ‘হানিট্র্যাপ’ নেটওয়ার্কের বিষয়টি এখন চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।