চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে চলা পাহাড় কাটা ও অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের বিরুদ্ধে রোববার (২৬ এপ্রিল) দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলার এওচিয়া ছনখোলা এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাতকানিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন ফয়সালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইন ভেঙে ইটভাটা, তাৎক্ষণিক শাস্তি:
অভিযানে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) লঙ্ঘনের দায়ে দুটি ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মেসার্স মা ব্রিকস (M.B.F)-কে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়।
অন্যদিকে মেসার্স খাজা থ্রী (K.B-3)-এর একটি বয়লার মেশিন জব্দ করা হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ভাটার আগুন নিভিয়ে চুল্লী অকার্যকর করে দেওয়া হয়।
‘বারবার শাস্তি, তবুও থামে না অপরাধ’
স্থানীয়দের অভিযোগ, পশ্চিম সাতকানিয়ার এওচিয়া-ছনখোলা এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি সরবরাহ করে একাধিক ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ধ্বংস করে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর আগেও খাজা থ্রী ইটভাটার মালিক মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল। জরিমানা হওয়ার পরও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
পরিবেশবাদীদের মতে, এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়বে, জলধারণ ক্ষমতা কমবে এবং স্থানীয় জলবায়ু মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হবে।
মালিকের দাবি, ‘হয়রানি করা হচ্ছে’
তবে খাজা থ্রী ইটভাটার বর্তমান পরিচালনাকারী মো. শাহ আলম দাবি করেন, তিনি ভাড়া নিয়ে ভাটাটি পরিচালনা করছেন। তাঁর ভাষ্য, “আগের মালিকদের মজুদ করা মাটি দিয়েই ইট তৈরি করা হচ্ছে। সাংবাদিকরা ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে হয়রানি করছেন, যার কারণে প্রশাসন আমাকে মামলায় জড়াচ্ছে।”
প্রশাসনের কঠোর বার্তা:
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে কোনো ইটভাটা পরিচালনা করা হলে ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের সতর্কতা:
পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন ফয়সাল বলেন, “পাহাড় কাটা ও অবৈধ ইটভাটা শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, এটি পরিবেশের বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধ। যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সমন্বিত অভিযান:
অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সদস্য, আনসার এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সাতকানিয়া স্টেশনের সদস্যরা ভাটার আগুন নিভিয়ে কার্যক্রম বন্ধে সহায়তা করেন।